EXCLUSIVE: ইয়াস স্পর্শই করেনি, তবু কলকাতার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি ৪০ কোটি

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : ঘূর্ণিঝড় যশের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে কলকাতা। প্রাণহানি হয়নি। কিন্তু তার পরেও নাকি কলকাতায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে! স্বাভাবিকভাবেই এই অংক দেখলে চোখ কপালে উঠবে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী কলকাতা পুরসভার হিসেব-নিকেশ অন্তত সেটাই বলছে। নবান্নের কাছে কলকাতা পুরসভা সেই রিপোর্ট পাঠিয়েছে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, সব মিলিয়ে ধাক্কা প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

কলকাতা পুরসভা নবান্নকে যে হিসাব দিয়েছে তা হল, ছোট-বড় মিলিয়ে একশোর বেশি গাছ উপড়ে গিয়েছে, না হলে কোনও না কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। শহরের কয়েকটি অঞ্চলে ভালো রকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু কাঁচা এবং পাকা বাড়ি। সব মিলিয়ে ১৬০০-এর কিছু বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর্থিক পরিমাণ প্রায় দু’কোটি টাকার আশেপাশে। নানাভাবে ৩০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত।

পাশাপাশি ঝড়-জলে বাতিস্তম্ভ সহ আনুষঙ্গিক বৈদ্যুতিক সামগ্রী নষ্ট হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা। শহরের রাস্তার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও প্রায় ১৫ কোটি টাকা। গত তিনদিন ধরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিম নামিয়ে গাছ কাটা কিংবা কেবল বা ইলেকট্রিক তারে জড়িয়ে থাকা গাছের ডাল ছাঁটাই করা হয়েছে। গোড়া আলগা থাকা বিভিন্ন গাছের তলায় মাটি দিয়ে সেগুলিকে শক্তপোক্ত করেছে পুরসভা।

ঝড়ের দিনও একাধিক জায়গায় প্রচুর গাছপালা ভেঙেছে। অন্যদিকে, ২৪ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত বিশেষ সর্তকতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। জল-সরবরাহ বিভাগ, নিকাশি, স্বাস্থ্য, জঞ্জাল সাফাই সহ অত্যাবশ্যকীয় বিভাগগুলির ছুটি বাতিল করে কর্মীদের ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করানো হচ্ছে। আপৎকালীন পরিস্থিতি দ্রুত মাঠে নেমে কাজ করার জন্য বিভিন্ন বিভাগের বরোভিত্তিক টিম রাখা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি সম্পন্ন আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি, বিপুল শ্রমিক এবং তাঁদের থাকা-খাওয়া খরচ হয়েছে প্রচুর। যার আর্থিক ধাক্কা প্রায় ১০ কোটি টাকা। সোমবার থেকে ৩৫টি রিলিফ ক্যাম্প চালাচ্ছে পুরসভা। যেখানে প্রায় সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের থাকা খাওয়ার খরচও যথেষ্ট। বিলি করা হয়েছে প্রায় আট হাজার ত্রিপল, জলের প্যাকেট। ফলে ঝড়ের আগের প্রস্তুতি সামলানো এবং ঝড় পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতিতে বিপুল আর্থিক খরচ হয়েছে বলেই পুরসভা সূত্রে খবর।

এই রিপোর্ট নিয়ে আগামী দিনে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কলকাতা পুরসভার বিরোধী পক্ষ। এক বিজেপি নেতার দাবি, সেই রিপোর্ট আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। দলের ভেতরে আলোচনা হবে। আগামী দিনে প্রয়োজনে কলকাতা পুরসভার বিজেপির ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটরদের তরফ থেকে আদালতে মামলা করা হবে। সরকারি অর্থের এমন এমন কোনওভাবেই মানা হবে না।

যদিও কলকাতা পুরসভার এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, আপাতদৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতি না হলেও পরবর্তীকালে দেখা যাচ্ছে পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই হয়েছে। সেই সঙ্গে বেশ কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং লোকসানও হয়েছে। যার আর্থিক ধাক্কা অনেকটাই। সেই অনুযায়ী রিপোর্ট বানিয়ে নবান্ন জমা দেওয়া হয়েছে। কোনও দুর্নীতির প্রশ্নই ওঠে না।

আরও পড়ুন