রানার প্রতিবেদন : খুনের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হন জাপানের ইয়াও হাকামাদা, তাও হয়ে গেল প্রায় ৫০ বছর। অপেক্ষায় ছিলেন এই বুঝি ডাক পড়ে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়ানোর। তবে ২০১৪ সালে মুক্তি মেলে তাঁর। কিন্তু পুনরায় বিচারের রায়ে স্থগিতাদেশ দেওয়ায় পুনরায় মৃত্যুদণ্ডের ভয় জেগেছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের পুনরায় সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করে পুনরায় বিচারের আশ্বাস দিলে আশা জেগেছে হাকামাদার মনে।
এর ফলে মুক্তি পেতে চলেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দিন বন্দি থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাকামাদা।
৮৪ বছরের হাকামাদা ছিলেন পেশাদার বক্সার। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর মনিব, মনিবের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে খুন করেন। শিজুয়োকা প্রদেশে ঘরের মধ্যে চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগও আনা হয়। শুরুতে সব অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত করা হয় হাকামাদাকে।
এরপর আদালতে আবেদন করেন তিনি। কিন্তু বিচারে তাঁর প্রাণদণ্ডের রায় হয়। এরপর তাঁর মৃত্যুদণ্ডের জন্য অপেক্ষা শুরু হয়। মৃত্যুদণ্ডের জন্য সবচেয়ে বেশি দিন অপেক্ষা করা আসামি হিসেবে গিনেস বূক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নামও ওঠে তাঁর। এরপর ২০১৪ সালে কঠোর বিচার ব্যবস্থার দেশ জাপান এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। হাকামাদার বয়স ও বিপর্যস্ত মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে ওই বছর তাঁকে মুক্তি দেন শিজুয়োকা জেলা আদালত।
কিন্তু ভাগ্যের বিড়ম্বনা, চার বছর পর ২০১৮ সালে টোকিওর হাইকোর্ট তাঁর পুনরায় বিচারের রায় স্থগিত করে দেয়। তবে কী কারণে এটি করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। হাইকোর্টের এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভয়ে ছিল হাকামাদার পরিবার ও আইনজীবীরা। এরপর তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট টোকিও হাইকোর্টের ওই স্থগিতাদেশ বাতিল করে পুনরায় বিচারের আশ্বাস দেয়।
অ্যামনেসটি ইন্টারন্যাশনালও বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করে। তারা হাকামাদার মুক্তির দাবি তোলে। হাকামাদার আইনজীবী কিওমি সুনাগো বলেছেন, ‘আমাদের ভয় ছিল যে কোনো সময় হাকামাদাকে আবার গ্রেফতার করা হতে পারে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতে পারে। তবে পুনরায় বিচারের আশ্বাস পেয়ে এখন নিশ্চিন্ত যে তিনি নিরাপদ।’
হাকামাদা এখন তাঁর বোন হিদেকো হাকামাদার সঙ্গে বসবাস করছেন। তাঁর মানসিক অবস্থা খুব ভালো নয় বলেই জানান তিনি। একটু একটু করে উন্নতি হলেও তিনি আর কোনদিনই স্বাভাবিক হতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন হিদেকো।
