রানার প্রতিবেদন : মহিলাদের যদি সিভিয়র হাৰ্ট অ্যাটাক হয়, তাহলে তার পরবতী পাঁচ বছরে পুরুষদের তুলনায় হাৰ্ট ফেলিওরের আশঙ্কা ২০ শতাংশ বেশি, বলছে সম্প্ৰতি হওয়া একটি গবেষণালব্ধ ফলাফল। সদ্য ‘সারকুলেশন’ সাময়িকীতে এই বিষয়ে একটি গবেষণাপত্ৰ প্ৰকাশিত হয়েছে। যে ধরনের হাৰ্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে, চিকিৎসার পরিভাষায় তাকে বলে এস টি সেগমেন্ট ইলেভেশন মায়োকাৰ্ডিয়াল ইনফ্ৰাকশন।
এই অসুখ পুরুষদের থেকে মহিলাদের হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ বেশি। একারণে মহিলাদের হাৰ্ট ফেলিওর হয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনাও স্বাভাবিকভাবে বেশি। এই নতুন সমীক্ষাটির সঙ্গে আরও কিছু সমীক্ষা এই বছরে করা হয়েছিল। এবং সবকটাতেই দেখা গেছে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের হাৰ্টের অসুখে ভোগার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি এবং সবসময়ে যে তারা পযাপ্ত যত্ন বা চিকিৎসা পায় এমনটাও নয়।
এডমনটনের ইউনিভাৰ্সিটি অব অ্যালবাৰ্টার কার্ডিওলজিস্ট ডা. জাস্টিনের মন্তব্য গুরুত্বপূর্ন। তিনি বলেন, হাৰ্ট অ্যাটাকের পরে একজন মহিলা কখন ও কীভাবে হাৰ্ট ফেলিওরের আশঙ্কার মধ্যে থাকে সেটা জানতে পারা শক্ত। জানা থাকলে অনেকাংশে তাদের জীবন বাঁচানো যাবে। সম্ভব হবে সতৰ্কতামূলক পদক্ষেপ অনুসরণ করা। প্ৰতি বছর মাৰ্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্ৰায় ২,৫০,০০০ মানুষ স্তেমির শিকার হয় এবং পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের সিভিয়র গোত্ৰের হাৰ্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেশি।
জানিয়েছে আমেরিকান হাৰ্ট অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া একটি তথ্য। এই সমীক্ষা থেকে নিৰ্দিষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য গবেষকরা একটি পদ্ধতি গ্রহণ করেন। তারা কানাডার অ্যালবাৰ্টার হাসপাতালে ভৰ্তি হওয়া ২০০২-২০১৬ সাল পৰ্যন্ত ৪৫ হাজার মানুষের তথ্য সংগ্ৰহ করেন। যাদের প্ৰথমবার হাৰ্ট অ্যাটাক হয়েছিল, এবং পরবতী ছয় বছর তাদের হাৰ্টের স্বাস্থ্য ও সামগ্ৰিক স্বাস্থ্য খুঁটিয়ে দেখা হয়।
এখানে দু ধরনের হার্ট অ্যাটাকের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল একটি স্তেমি এবং অপরটি কম মারাত্মক ননস্তেমি হাৰ্ট অ্যাটাক, এই ননস্তেমি হাৰ্ট অ্যাটাকটিই বেশি কমন। সমীক্ষায় অংশগ্ৰহণকারীদের মধ্যে ২৫,০০০ রোগীর কম সিভিয়র মানে ননস্তেমি হাৰ্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে তথ্য জানাচ্ছে এই দলে ৩৪ শতাংশ মহিলা ও ৬৬ শতাংশ পুরুষ এবং ২০০০০ রোগী স্তেমিতে আক্ৰান্ত তাদের মধ্যে ২৭ শতাংশ মহিলা বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।
হাসপাতালে থাকাকালীন বা হাৰ্ট অ্যাটাকের পরে হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পরও হাৰ্ট ফেলিওরের সম্ভাবনা থেকে যায়, সেক্ষেত্ৰে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের আক্ৰান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।স্তেমির ক্ষেত্ৰে মহিলাদের পরবতীতে হাৰ্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা ২৩ শতাংশ ও পুরুষদের ১৫ শতাংশ ও ননস্তেমির ক্ষেত্ৰে মহিলাদের ২৩ শতাংশ ও পুরুষদের ১৬ শতাংশ।
আরও একটি তথ্য এই সমীক্ষা তুলে ধরেছে হাসপাতালে থাকাকালীন মহিলাদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি। স্তেমিতে আক্ৰান্ত মহিলাদের যেখানে ৯ শতাংশ মৃত্যুহার সেখানে পুরুষদের ৪ শতাংশ আর ননস্তেমিতে মহিলাদের ৪ শতাংশ মৃত্যুহারের পাশাপাশি পুরুষদের ২ শতাংশ।
