লজ্জা আর ভয়ের আড়ালে বিপদজনক হয়ে ওঠে স্তন ক্যানসার

|

রানার প্রতিবেদন : বৰ্তমানে বিশ্বব্যাপী মেয়েরা যেসব রোগে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন, তার মধ্যে শীৰ্ষস্থানে রয়েছে স্তন ক্যানসার ( Breast Cancer ), এই সম্পৰ্কে আমরা অনেকেই কম-বেশি ওয়াকিবহাল। তবে যে-তথ্যটা অনেকেই জানি না, তা হল, অধিকাংশ মহিলাই স্তনের সমস্যা বা ক্যানসার ধরা পড়লে তা চট করে স্বামী বা পরিবারের অন্য কোনও সদস্যের সামনে প্রকাশ করতে চান না। যতক্ষণ পৰ্যন্ত না রোগটা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যাচ্ছে ততক্ষণ চুপ করে থাকেন।

কারণ তাঁদের মনে ভয় থাকে, এর ফলে হয়তো ভেঙে যেতে পারে তাঁদের এতদিনকার সাজানো সংসার। সমীক্ষা বলছে, স্তন ক্যানসারে আক্ৰান্ত মহিলাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই চিকিৎসা করাতে চান না, এর জন্য দায়ী ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও কিছুটা হলেও ধর্মীয় গোঁড়ামি ( Religious Orthodoxy )। রয়েছে উপযুক্ত শিক্ষা ও সচতেনতা বোধের ঘাটতিও।

ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসাৰ্চ অন ক্যানসারের ( International Agency for Research on Cancer ) করা একটি সমীক্ষা থেকে প্রাপ্ত তথ্য জানাচ্ছে, মোট ক্যানসার আক্ৰান্তদের অধিকাংশই স্তন ক্যানসারে আক্ৰান্ত ও নারীদের মধ্যে যেখানে প্রায় একটি দেশে কমপক্ষে ১৬-১৭ শতাংশ ক্যানসারে ভুগছেন, সেখানে আক্ৰান্ত পুরুষদের সংখ্যাটা মাত্ৰ ১ শতাংশ। স্তন ক্যানসার আক্ৰান্ত মহিলাদের গড় বয়স ৪০-৪৫।

মেনোপোজের পরেই বেড়ে যায় রোগটির ঝুঁকি। তবে অবিবাহিত মহিলাদেরও ঝুঁকি থাকে। তবে তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে স্তন ক্যানসার নিয়ে শহরাঞ্চলে নানারকম চিকিৎসা ব্যবস্থার উপযুক্ত পরিকাঠামো থাকলেও, গ্রামে সে ব্যবস্থা নেই। তেমনি অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এখনও নানা কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে চিকিৎসা করাতে চান না।

আসল সমস্যাটা হল, স্তন ক্যানসার সম্পৰ্কে আমাদের সমাজে নারীদের, বিশেষত বিবাহিতা মহিলাদের মধ্যে নানান মিথ এখনও রয়ে গেছে। স্তন ক্যানসারও যে আরও পাঁচটা অসুখের মতো একটা রোগ ও সঠিক সময়ে চিকিৎসা করালে রোগটি যে সম্পূৰ্ণ সেরে যায়, এই ভাবনা বা সচেতনতাটাই সকলের মধ্যে আনতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন কাউন্সেলিং আর সঠিক প্রচারমূলক কৰ্মসূচি। চিকিৎসক থেকে শুরু করে সমাজবিজ্ঞানী, গবেষক সকলের একই মন্তব্য।

অনেক চিকিৎসক তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছেন, মেয়েরা যখনই স্তনের সামান্যতম কোনও পরিবৰ্তনও লক্ষ করেন, তা সেরে যাবে বলে রেখে দেন। কিংবা লজ্জায় তা চিকিৎসককে দেখান না। এর ফলে নিঃশেব্দ শরীরে দানা বাঁধে রোগ। অথচ সঠিক সময়ে ধরা পড়লে নানা চিকিৎসা রয়েছে।
তাছাড়া ৩৫-এর উপর বয়স হলেই প্রতি তিন বছর অন্তর একবার করে করানো যেতে পারে ম্যাম্মোগ্রাফি। তবে স্তন ক্যানসার সম্পৰ্কে সবার আগে প্রয়োজন মানসিক সচেতনতা।

আরও পড়ুন