নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : ৫০ বছরের ডোবা। আবর্জনার হটিয়ে পুকুরের শ্রী ফেরানো হয়েছিল। সেইসঙ্গে নতুন রঙে রাঙিয়ে তোলা হয়েছিল গাঙ্গুলিবাগানের বিদ্যাসাগর কলোনির একাধিক বাড়ি। রিফিউজি রিলিফ এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডিপার্টমেন্টের দেড় বিঘা জমি ছিল এলাকাবাসীর ময়লা-আবর্জনা ফেলার ভ্যাট।
সেই আবর্জনার পাহাড় পরিষ্কার করে তৈরি হয় মাদার আর্থ থিম পার্ক। এছাড়া পচা ডোবার দুর্গন্ধে বাসিন্দারা ঘরের জানালা খুলতে পারতেন না। সেইসঙ্গে পোকামাকড় ও সাপের উপদ্রবতো ছিলই। আজ সেখানেই একটুকরো বাটারফ্লাই ভিলেজ। নীল সাদা হলুদ কমলা লাল বিভিন্ন রঙের সমন্বয়ে স্বপ্নপুরীর রূপ নিয়েছে ৪০-৪৫টি বাড়ি নিয়ে গড়ে ওঠা এই এলাকা। সাজিয়ে গুছিয়ে তোলা সেই পুকুর এখন প্রোমোটারদের থাবা থেকে বাঁচাতে তৎপর এখানকার বাসিন্দারা।
সেই সঙ্গে পুকুরের জলে লাগোয়া আট-দশটি বাড়ির ময়লা এসে পড়ছে পুকুরে। যার জেরে নষ্ট হচ্ছে পুকুরের জল। বাড়ির নোংরা জলের লাইন পুরসভার নিকাশি লাইনের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা। পার্কের অনেকটা অংশ জুড়ে রয়েছে একটি জলাশয়। সাজানো হয়েছে বাগান। সেইসঙ্গে বাঁশ ও কাঠের রঙিন সেতু, মাঝে ভাস্কর্য মাদার আর্থ। পার্কের জলাশয়ে চরে বেড়ায় রাজহাঁস।
প্রত্যেকটি বাড়ির রং একরকম। সকাল সন্ধ্যে হালকা শব্দে বেছে চলেছে আবহসংগীত। রাতে আলোকমালায় ঝলমল করে গোটা এলাকা। আবালবৃদ্ধবনিতা থেকে কচিকাঁচা ভিড় যেন বলে দেয়া, এ এক ভালোলাগার দেশ। পাড়া-প্রতিবেশীদের সাহায্যে নিজের হাতে পুরোটা গড়ে তুলেছেন এলাকার বাসিন্দা পরিমল দেব।
ব্যবসায়ী পরিমল বাবু পাড়া প্রতিবেশীর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় এই ধরনের থিম পার্ক রয়েছে। আমাদের রাজস্থানেও পিংক সিটি রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই এলাকার সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার এই উদ্যোগ। কিন্তু এখন স্থানীয় কয়েক জন লোকের সাহায্য প্রোমোটার পুকুরে থাবা বসাতে চাইছে বলে অভিযোগ। পুকুর লাগোয়া একটি বাড়ি সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে।
সেখানেই ভাঙ্গাবাড়ী রাবিশ পুকুরে খেলা হচ্ছে বার বার বলেও কোন লাভ হচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দা নরেশ মণ্ডল, নমিতা মন্ডল, চন্দ্র মিত্র, সন্ধ্যা সরকার সকলেই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কলকাতা পুলিশ থেকে শুরু করে কলকাতা পুরসভা থেকেও মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম এর কাছে তারা অভিযোগ জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন পরিমল বাবুরা।
