হৃদয় জিতে নিচ্ছে চাকুর কোপের এই ম্যাসাজ, বাড়ছে জনপ্রিয়তা

|

রানার প্রতিবেদন : শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি মন প্রফুল্ল রাখতে অনেকেই বডি ম্যাসাজ করিয়ে থাকেন। আর এই বডি ম্যাসাজের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বিচিত্ৰ রূপ। কারণ উদাহরণস্বরূপ নেওয়া যায়, ফিলিপাইনসের ( Philippines ) একটি চিড়িখানায় বডি ম্যাসাজ করানো হয় শরীরে অজগর পেঁচিয়ে। তবে আরও বিচিত্ৰধৰ্মী কোনও মালিশ সম্পৰ্কে যদি জানতে চান, তাহলে আপনাকে যেতে হবে তাইওয়ানে। তাইওয়ানে ( Taiwan ) ম্যাসাজ থেরাপিষ্টরা ( Massage Therapist ) ছুরির সাহায্যে ম্যাসাজ করিয়ে থাকেন।

আর এই ম্যাসাজটির নাম ‘দাও লিয়াও’ ( Dao Liao Massage )। দাও লিয়াও শব্দের অৰ্থ বাংলায় ‘ছুরি মালিশ’। ভাবতে পারেন, এই ম্যাসাজ হয়তো-বা আধুনিক বিশ্বের আধুনিকতম মানুষের চিন্তার ফসল। তবে এই ধারণা ভুল। কারণ ছুরি ম্যাসাজ নতুন কিছু নয়। প্রায় ২০০০ বছর আগে থেকেই এটি তাইওয়ানের লোকসংস্কৃতির অংশ। এ-বিষয়ে সে-দেশের নানহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ( Nanhua University ) গবেষণা অনুযায়ী, চিনে হান ও তাং রাজবংশের শাসনকালে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা মুমূৰ্ষ রোগীর শেষ চিকিৎসা হিসাবে এই আশ্চৰ্য ছুরি ম্যাসাজ প্রয়োগ করতেন।

তবে এই ছুরি ম্যাসাজ পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হতো যখন প্রচলিত চিকিৎসায় আর কোনও কাজ না হতো। চিনে যদিও এখন এই ম্যাসাজ পদ্ধতির তেমন কদর নেই, তাহলেও তাইওয়ানে তা আজও টিকে আছে সগৌরবে। ছুরি ম্যাসাজটি সম্পৰ্কের অন্তৰ্গত দিকটা নাকি বেশ আধ্যাত্মিক। এই ম্যাসাজের আধ্যাত্মিক দিকটার ব্যাখ্যা জানা গেছে তাইপের খ্যাতনামা প্রাচীন আৰ্ট অব নাইফ থেরাপি এডুকেশন সেন্টারের মালিক সিয়াও মেই ফংয়ের মাধ্যমে। তিনি বলেন, তাঁরা কোনও ধৰ্ম প্রচার করছেন না।

আর এটা কোনও বিজ্ঞানও নয়। তাঁরা শুধুই শরীরের শক্তি নিয়ে চৰ্চা করেন, যেখান থেকে মানুষ উপকৃত হয়ে নিজের হৃদয় স্পর্শ করতে পারেন। সিয়াও মেই আরও বলেন, দাও লিয়াও করার সময় ছুরির নীচে নিজের শরীর সঁপে দিতে একটু ভয় লাগাটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ম্যাসাজ ব্যক্তির শরীরের গভীরে শক্তির সঞ্চার করা সহ মনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে। তাঁর দাবি, ছুরি চালানোর মাধ্যমে শরীর থেকে নেতিবাচক শক্তি দূর হবে, আর ইতিবাচক শক্তি প্রবেশ করবে এই ছুরি দিয়ে।

সিয়াও মেই ফং পরামৰ্শ দিয়েছেন, বাতজনিত নানা সমস্যা এবং অনিদ্ৰায় ভুগছেন যাঁরা, তাঁদের জন্য অব্যৰ্থ চিকিৎসা হল এই চাকু ম্যাসাজ। তাঁর কথায় জানা গেছে, এই ম্যাসাজের জন্য ঘণ্টাপ্রতি গ্রাহককে গুনতে হবে ১,২০০ তাইওয়ানিজ ডলার অর্থাৎ ৪০ ইউএস ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা ২,৯০৭ টাকা)। বোঝাই যায় খুবই খরচসাপেক্ষ এই চাকুমর্দন। তা সত্ত্বেও তাইপের এক বছর বয়সি শিশু থেকে শুরু করে ১০০ বছর বয়সি বৃদ্ধরা পৰ্যন্ত এই ম্যাসাজ উপভোগ করতে ভিড় জমান সিয়াওয়ের থেরাপি সেন্টারে।

ম্যাসাজটির পদ্ধতি হল, যাঁকে ম্যাসাজ করা হবে, তাঁর ঘাড় থেকে পা পৰ্যন্ত ঢাকা থাকবে কাপড়ে। তারপর এর ওপর ছুরি দিয়ে কসাইয়ের মতো ছোট ছোট কোপ মারবেন নিৰ্দিষ্ট থেরাপিস্ট। এভাবেই শরীর থেকে নেতিবাচক শক্তি দূর হবে, আর ইতিবাচক শক্তি প্রবেশ করবে এই ছুরি দিয়ে।

আরও পড়ুন