এখনও স্বস্তি, কিন্তু আতঙ্ক আছেই, করোনার মধ্যে যদি ফনা তোলে ডেঙ্গি

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : শহরে করোনা সংক্রমণ লাগামছাড়া। কিন্তু, ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে সাফল্য পেল কলকাতা পুরসভা। গতবছরও করোনা সংক্রমনের প্রথম ধাক্কায় ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়া পরিস্থিতি যথেষ্ট সন্তোষজনক ছিল। কিন্তু, চলতি বছর পরিস্থিতি আরও ভালো বলে দাবি করছে কলকাতা পুরসভা।

গত বছরের তুলনায় চলতি মে মাসের শেষ সপ্তাহে শহরের ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমেছে। সংখ্যার হিসেবে, গত বছর এই সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিল ৪৫-৪৬ জন। এই বছর আক্রান্তের সংখ্যা ২২। এমনটাই দাবি করেছে কলকাতা পুরসভার ভেক্টর কন্ট্রোল বা মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ। অন্যদিকে, ম্যালেরিয়া সংক্রমণেও সাফল্য এসেছে।

কলকাতা পুরসভার, গত মে মাসের তুলনায় ৪৬ শতাংশ কমেছে আক্রান্তের সংখ্যা। গতবার ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া কিংবা অন্যান্য মশা বাহিত রোগের প্রকোপ দেখেনি শহর। ডিভিডেন্ট দিয়েছিল করোনার জীবানুনাশ কর্মসূচি। চলতি বছরেও সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চুপচাপ মশাবাহিত রোগ দমনে কাজ চালাচ্ছেন কলকাতা পুরসভার ভেক্টর কণ্ট্রোল বিভাগের কর্মীরা।

বিভিন্ন নিকাশি খালে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে। আগেভাগেই রোডম্যাপ ধরে এলাকা চিহ্নিত করে বাড়ি বাড়ি প্রচার, বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন সাইট ঘুরে জীবাণুনাশক ছড়ানো, প্রয়োজনের ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরো অ্যাকশন টিম এবং আরও ১৬টি কেন্দ্রীয় রেপিড অ্যাকশন টিম কাজ করছে।

ঘূর্ণিঝড়ের অভিঘাতে শহরে বৃষ্টি হয়েছে। ফের জীবাণুনাশক স্প্রে করার কাজ শুরু হবে বলেই জানিয়েছেন কলকাতা পুরসভার ভেক্টর কণ্ট্রোল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডঃ দেবাশিস বিশ্বাস। তিনি বলেন, কলকাতা পুরসভার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে ৬-১৫ জন ফিল্ড কর্মী রয়েছেন। তাঁরাই মূলত বিভিন্ন নিকাশি খালে জীবাণুনাশক স্প্রে করার কাজ করেন।

আগেভাগেই সতর্ক থেকেছি আমরা। বছরের প্রথম থেকেই জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে। তবে এই সাফল্য দেখে উদাসীন হওয়া চলবে না। নাগরিক সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে। সবে বর্ষাকাল শুরু হল। এখনও ডিসেম্বর অবধি লড়াই চালাতে হবে বলেই মনে করছেন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা। শহরকে ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়া মুক্ত করতে নাগরিক সমাজের সচেতনতা মজায় থাকতে হবে বলেই মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

কলকাতা পুরসভা বলছে, গতবার (২০২০) সারা বছর মিলিয়ে ডেঙ্গুতে মাত্র ২০০০ কেস ধরা পড়েছিল। ডেঙ্গু কিংবা ম্যালেরিয়াতে কোনও মৃত্যু ছিল না। অন্যান্য বছরের তুলনায় যা ৬০-৬৫ শতাংশ কম ছিল। বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৫০% কম। চলতি বছরে শেষে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলেই আশাবাদী কলকাতা পুরসভা।

আরও পড়ুন