নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : রাজ্যের স্বাস্থ্য ভবন তথা স্বাস্থ্য দপ্তর ( Health Department ) থেকে বেরিয়েছে টিকা ( Vaccine )। কোন ধরনের নথিভুক্তিকরণ ছাড়াই স্বাস্থ্য দপ্তরের সেন্ট্রাল স্টোর ( Central Vaccine Store ) থেকে সেই টিকা বেরিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে পুলিশের। ইতিমধ্যেই ঘটনার তীব্র অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে গোয়েন্দা বিভাগের ( Detective Department ) হাতে এই তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। সেখানেই প্রশাসন সূত্রে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সূত্রের খবর, রাজ্যের অন্যতম সেরা টিকা সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যভবনকে ( Health Department ) না জানিয়েই সরিয়ে ফেলা হল কোভ্যাক্সিন-কোভিশিল্ডের কয়েক হাজার ডোজ। বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে অবস্থিত কলকাতা জেলার সেন্ট্রাল ভ্যাকসিন স্টোর থেকে ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত চেতলার হেলথ ক্লিনিকে সরল টিকা। টিকা যে সরানো হয়েছে তা জানতই না স্বাস্থ্যভবন। সরানোর এক সপ্তাহ পরে কীর্তির কথা স্বাস্থ্য ভবনকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়।
তা-ও কী কারণে এই সিদ্ধান্ত চিঠিতে তার উল্লেখ নেই। সেই সঙ্গে তৃণমূলের রথী-মহারথীদের সঙ্গে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবের ( Debanjan Deb ) ছবি প্রকাশ্যে চলে আসায় যথেষ্ট অস্বস্তিতে শাসক দল। কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম ( Firhad Halik এর উপস্থিতিতে কলকাতা পুরসভাকে পিপিই কিট, মাস্ক, স্যানিটাইজার দিয়ে সাহায্য করছেন ওই অভিযুক্ত। রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় এর সঙ্গে তার ছবি সামনে এসেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ তথা চিকিৎসক সংগঠনের নেতা শান্তনু সেনের সঙ্গেও তার ওঠা বসা ছিল বলে প্রকাশ হয়েছে ছবি। সব মিলিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত এই চক্রান্তের চক্র শিকড় গেড়ে রয়েছে বলেই মনে করছে তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সিনিয়র আধিকারিকরা যুক্ত থাকতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়েছে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে। একের পর এক শাসকদলের লোকজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।
ফলে এই ঘটনার তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ হবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সরকারি মহলে। একজন লোক কিভাবে কি পরিচয় নিয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং নেতাদের সঙ্গে ওঠাবসা করলেন? তার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার আগে কেন তৃণমূল নেতারা খোঁজ নিয়ে রাখলেন না? এই না না প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। যদিও স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, জিতের থেকে আটক করা ভ্যাকসিন জাল নয়। কলকাতা পুরসভা স্বাস্থ্য বিভাগে তদন্তকারী আধিকারিকরাও প্রাপকদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন। তাদের কারও খুব একটা কোনো শারীরিক সমস্যা হয়নি বলেই কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর।
