Sixth Sense : বিজ্ঞান যতই এগিয়ে যাক না কেন, মানুষের মধ্যে সিক্সথ সেন্স ( Sixth Sense ) বলে যে একটা ব্যাপার রয়েছে, তা অস্বীকার করেননি পৃথিবীর বড় বড় বিজ্ঞানীরাও। গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে মানুষের মগজ ও স্নায়ুতন্ত্ৰের কোনো এক জায়গাতেই রয়েছে এই রহস্যময় ষষ্ঠ ইন্দ্ৰিয়টি। উল্লেখ্য, এ সম্পৰ্কে বহু গবেষণা করা হলেও, আজ পৰ্যন্ত রহস্যের আবৰ্তেই রয়ে গেছে ষষ্ঠ ইন্দ্ৰিয়ের বিষয়টি।
নোবেল পুরস্কার জয়ী চিকিৎসক ড. অ্যালেক্সিজ কারলের মতে, একজন চিকিৎসক যেভাবে একজন রোগীকে দেখার পর তাঁর প্রথমিক স্বাস্থ্য সম্পৰ্কে এক ধারণা করতে পারেন, ঠিক সেভাবেই একজন মানুষ আরেকজন মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদ, আচার-ব্যবহার দেখে ওই ব্যক্তি সম্পৰ্কে ধারণা করে নিতে পারেন। এই মানসিক শক্তিটিকে কারলে জন্মাৰ্জিত জ্ঞান বা অতি পৰ্যবেক্ষণ শক্তি বলে অভিহিত করেছেন।
এই শক্তি বহু পরিমাণে একজন ব্যক্তির অন্তর্দৃষ্টির সঙ্গেও জড়িত। মানুষের এই পৰ্যবেক্ষণ ও বিবেচনা শক্তির ছাড়াও আরেক ধরনের শক্তি আছে। এটি হল স্বতন্ত্ৰ বা স্বাভাবিক জ্ঞান। যে বিষয়ে কারলে তাঁর বইতে সবিশেষ লিখেছেন। তাঁর মতে, এই দ্বিতীয় ধরনের শক্তির দ্বারা আমরা কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি। আর শক্তিটিই হচ্ছে আমাদের ষষ্ঠ ইন্দ্ৰিয়। এই ইন্দ্ৰিয় মানুষকে বহুবার বহু বিপদ থেকে রক্ষা করার ঘটনাও আমরা শুনেছি।
মানোজ নাইট শ্যামালনের ‘দ্য সিক্সথ সেন্স’ (The Sixth Sense ) নামের বিখ্যাত সিনেমাটি থেকেও আমার এ সম্পৰ্কে কিছু ধারণা করতে পারি। বিজ্ঞানের বহু আবিষ্কারের নেপথ্যে বিজ্ঞানীদের সিক্সথ সেন্সও কাজ করে বলে সম্প্ৰতি প্রমাণিত হয়েছে। এ সত্ত্বেও বিজ্ঞানের কিছু ব্যাখ্যাতীত ঘটনা ও কাৰ্যকরণের জন্য এই বিষয়টি এখনও কল্পনা ও অনুমান ছাডা আর কিছুই নয়। মানবজীবনের বহু রহস্যের মধ্যে মগজও একটি রহস্যই বটে।
হাজার হাজার বছর ধরে মানবজাতির ক্ৰমবিকাশের ইতিহাস বহন করে বেড়ানো আমাদের মগজের গোপন আধারটির নাম থেলামাস। যাকে মানবশরীরের মূল নিয়ন্ত্ৰণ কক্ষ বলে বলা যায়। দশ হাজার লক্ষেরও বেশি স্নায়ুকোষে গঠিত থেলামাসে রয়েছে অসংখ্য স্নায়ুবৰ্তনী। যার দ্বারা আমরা চিন্তা-ভাবনা, জটিল সমস্যার সমাধান, গভীর সাধনা ইত্যাদি কঠিন কাজে মনোনিবেশ করতে পারি।
আমাদের স্বাভাবিক অনুভূতির প্রক্ৰিয়াগুলি তথা একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি সব মানসিক শক্তির আধার হল এই থেলামাস। আমাদের পঞ্চইন্দ্ৰিয়গুলির সব কাজকৰ্ম এই থেলামাসের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। পঞ্চইন্দ্ৰিয়গুলি শুধু খবর সংগ্রহ করার এক মাধ্যম মাত্ৰ, যার মূল নিয়ন্ত্ৰণ কক্ষ থেলামাস। আমরাও স্বপ্নও দেখি এর দ্বারাই। বিজ্ঞানীরা এই থেলামাসেই ষষ্ঠ ইন্দ্ৰিয়ের উপস্থিতি অনুমান করছেন, যদিও আজ পৰ্যন্ত তা প্রমাণ করা যায়নি।
মানুষের মতো জীবজন্তুরও ষষ্ঠ ইন্দ্ৰিয় ( Sixth Sense ) রয়েছে কি? হয়তো এর জোরেই তারা মানুষের চেয়ে বেশি শক্তিশালী কাজ করতে পারে। জাৰ্মান জীববিজ্ঞানী কাৰ্ল ডন ফ্ৰিক্স একবার মৌমাছির উপর গবেষণা করে পেয়েছিলেন যে, মৌমাছিরা প্রায় ছয় কিলোমিটার দূর থেকেই ফুলের গন্ধ পায়। মানুষের নাক চার হাজার বিভিন্ন গন্ধের পাৰ্থক্য বুঝতে পারে যদিও, তা মৌমাছির মতো কাজ করতে পারে না।
অন্যদিকে, মানুষের চোখ মানবশরীরের পঞ্চ ইন্দিয়গুলির মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। প্রায় দশ লক্ষাধিক বৈদ্যুতিক বৰ্তনীযুক্ত আমাদের চোখ। প্রায় একই সময়ে দশ লক্ষেরও বেশি খবর সংগ্রহ বা নিয়ন্ত্ৰণ করতে পারা আমাদের চোখ বিম্ব পৃথিবীর সবেচেয়ে দামি তথা শক্তিশালী টিভি ক্যামেরার চেয়েও বেশি সংবেদনশীল। কিন্তু টা সত্ত্বেও রাতের অন্ধকারে পেঁচা যা করতে পারে, মানুষের চোখ তা করতে অপারগ।
পাশাপাশি, কুকুরের ঘ্ৰাণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি আজও মানুষের কাছে এক অশ্চৰ্যকর বিষয়। জীবজন্তুর এই অস্বাভাবিক ক্ষমতার নেপথ্যে ষষ্ঠ ইন্দ্ৰিয় কাজ করে কি না, তা জানার জন্য বিজ্ঞানীরা অবিরত গবেষণা করে যাচ্ছেন। অবশ্য তাঁরা জানিয়েছেন, জীবজন্তু ইনফ্ৰারেড রশ্মি, রাডার ঢেউ, বিদ্যুৎ চুম্বক ইত্যাদির অনুভূতি সহজেই অনুভব করতে পারে। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো ষষ্ঠ ইন্দ্ৰিয়ের এই রহস্য উদঘাটন করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন গবেষণারত বিজ্ঞানীরা।
