কলকাতা : যুক্তি তক্কো আর গপ্পো কিংবা কোমল গান্ধার, বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী দেবব্রত বিশ্বাসের কালজয়ী কণ্ঠের সেই মূর্ছনা। সেই দেবব্রত বিশ্বাসের আজীবনের ভিটেবাড়ি এখন ক্যাফেটেরিয়া। ১৭৪/ই রাসবিহারী এভিনিউ, ট্রায়াঙ্গুলার পার্ক, লেক টেরেস, বালিগঞ্জ। ট্রায়াঙ্গুলার পার্ক বাস স্টপেজে নেমে ঠিক বাঁ দিকে প্রসিদ্ধ একটি পোশাক বিপণির ঠিক পাশেই ছোট্ট গলিতে ‘মাড ক্যাফে’।

পেভার ব্লকে সাজানো রাস্তা। গাছগাছালির সৌন্দর্য। বসন্তের আগমন। তাই দোল উৎসবের ছোঁয়া পোস্টারে। রবীন্দ্রনাথের নানা গান সেখানে ছাপার অক্ষরে। বাড়িটিটে আমৃত্যু থেকেছেন দেবব্রত বিশ্বাস। না জেনেই বছর আটেক আগে সেই বাড়িটি কিনেছিলেন বালিগঞ্জের অর্ণব মিত্র। পেশায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। ‘বাড়ি পরিষ্কার করতে গিয়ে হাত আসে একটি ইলেকট্রিক বিল।

সেখানে লেখা ছিল দেবব্রত বিশ্বাসের নাম। বাবা দেবব্রতবাবুর গুনগ্রাহী। বালিগঞ্জে নিজেদের বাড়ি আছে। তাই মাথায় এল ক্যাফেটেরিয়া খোলার। এমন একটা সংযোগটি হাতছাড়া করা যায়!’ বলছিলেন আর্ণববাবু। ক্যাফেটেরিয়ায় দিকে দিকে দেবব্রত বিশ্বাসের ছবি, রবীন্দ্রনাথের লেখা গানের পোস্টার, বিভিন্ন তাকে সাজানো নানা বই, নানা রকমের মাটির পাত্র।

বেতের আসবাবপত্র, এমনকি খাবার পরিবেশন করা হয় বেতের তৈরি পাতলা প্লেটে। নানা ধরনের কফির সঙ্গে আমিষ নিরামিষ নানা রকমের স্নাক্স। সেইসঙ্গে বাজে দেবব্রতবাবুর কণ্ঠে কালজয়ী নানা গান। ‘কখনও আকাশ ভরা সূর্য তারা’, কখনও আবার ‘আমার হিয়ার মাঝে….’। ছ’বছর আগে এই ক্যাফে খুলেছিলেন মিত্রবাবু। জনপ্রিয় হতে খুব একটা সময় নেয়নি।

প্রতিদিন সকাল সাড়ে দশটা থেকে রাত সাড়ে নটা পর্যন্ত খোলা থাকে। নিয়মিত সেখানে মিউজিকের ক্লাস হয়। ক্লাস করান মনোজ মুরলী নায়ার। নিয়ম করে প্রতিবছর বড় করে দেবব্রত বিশ্বাসের জন্মদিন পালন হয়। শহরের আধুনিক ক্রেতাদুস্তর কাফেটেরিয়ার মতো আলোর রোশনাই নেই। এলইডি লাইট কিংবা ইংরেজি মিউজিকের ছোঁয়া দুর অস্ত।

সঙ্গীত শুধু বাংলা, শিল্পী দেবব্রত বিশ্বাস, গানে-গল্পে শুধুমাত্র রবি ঠাকুর। ‘টান একটাই, যোগসুত্র দেবব্রত বিশ্বাস’, বলছিলেন অর্ণববাবু। তাঁর কথায়, ‘দেখুন, ক্যাফে চালিয়ে কলকাতা শহরের সংসার টানা সম্ভব নয়। আমার আলাদা ব্যবসা আছে। বাবা, আমি, আমার স্ত্রী প্রত্যেকেই দেবব্রতবাবুর গুণমুগ্ধ। সেই কারণে সাতপাঁচ না ভেবে খানিকটা শখেই এই কাফেটেরিয়া খোলা।’
