ভোট নেই-টাকা নেই, ক্রমশ পঙ্গু হচ্ছে কলকাতা পুরসভা

|

কলকাতা : টাকা ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আটকে যাচ্ছে বহু উন্নয়নের কাজ। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ জোড়াতালি দিয়ে চলছে। থমকে গিয়েছে উন্নয়নের গতি। বাজেট না হলে অবস্থার পরিবর্তন হওয়া মুশকিল, বলছেন কলকাতা পুরসভার জনপ্রতিনিধিরা। নিয়ম অনুযায়ী, বরো ইন্টিগ্রেটেড ফান্ডে একটি ওয়ার্ড কিছু ১৫ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়। এবং কাউন্সিলার ফান্ডে পাওয়া যায় ২৫ লাখ টাকা।

কিন্তু বর্তমানে ৬ মাসের জন্য সেই টাকা অর্ধেক পাওয়ার কথা। অর্থাৎ বরো ইন্টিগ্রেটেড ফান্ডে ( Integrated Fund ) একটি ওয়ার্ড কিছু সাড়ে ৭ লাখ টাকা পাবে। এবং কাউন্সিলার ফান্ডে পাওয়া যাবে সাড়ে ১২ লাখ টাকা। কিন্তু সেই টাকাও ঠিকমত পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ছিল, বিধানসভা ভোটের পর মাস দু’য়েকের মধ্যেই কলকাতা পুরসভা নির্বাচন করিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু বাধ সেধেছে করোনা সংক্রমণ।

কলকাতা পুরসভা ( KMC ) চালাচ্ছে প্রশাসকমণ্ডলী। এই অবস্থায় বিধানসভা ভোটের আগে ৬ মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট হয়েছিল। যার সময়সীমা শেষ হতে চলেছে সেপ্টেম্বরে। কিন্তু ভোট না হওয়ার জেরে কাউন্সিলার এবং বরো সুসংহত তহবিলে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। গতি হারিয়েছে তৃণমূল স্তরের উন্নয়নমূলক কাজকর্ম। দক্ষিণের এক ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটরের কথায়, উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ নেই।

তবে রক্ষণাবেক্ষণে আমরা খামতি রাখছি নেই। যা অভিযোগ আসছে মোটামুটি করে দিতে পারছি। কিন্তু টাকা না থাকার সময় মত কাজ করা যাচ্ছে না। একই বক্তব্য উত্তর কলকাতার এক বরো কো-অর্ডিনেটরের। তিনি বলেন, আমরা এত বছরের জনপ্রতিনিধি। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালিয়ে দিতে অসুবিধা হয় না। কিন্তু টাকার অভাবে নতুন করে কিছুতে হাত দেওয়া যাচ্ছে না।

গত বছর থেকে একই পরিস্থিতি। সেপ্টেম্বরে পূর্ণাঙ্গ বাজেট হলে তখন যদি সমস্যার সমাধান হয়। কিন্তু অনেক সময় বরো বা কাউন্সিলার তহবিলের সেই অর্ধেক টাকাও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। বাম ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর দেবাশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা বরো বা ওয়ার্ড ফান্ডে কত টাকা পাব, তার কোনও বাজেট জানি না। ফলে কোন কাজে কত টাকা বরাদ্দ করব, কিভাবে কাজ হবে, সবটাই ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে।

বরো সুসংহত তহবিলের টাকা পাওয়া যায়নি। নানা জটিলতার মধ্যে স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন কাজ আটকে থাকছে। সমস্যার কথা স্বীকার করে পুরসভার এক শীর্ষকর্তা বলেন, বাজেট হয়নি। ফলে এক লক্ষ বেশি টাকা ছাড়া যাচ্ছে না। টাকা সংস্থান করতেও সময় লাগছে। তাই টাকা কিছু কিছু করে ছাড়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন