প্রেমে পড়েছিলেন ম্যান্ডেলাও, প্রত্যাখ্যাতও হন আমিনার কাছে

|

রানার প্রতিবেদন : নিজ মুখে নেলসন ম্যান্ডেলা ( Nelson Mandela ) তাঁকে বিয়ের প্ৰস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু পরিবারের কথা ভেবে গ্ৰহণ করেননি আমিনা ক্যাচালিয়া ( Amina Cachalia )। সবিনয়ে বলে দিয়েছেন, না ম্যান্ডেলা এটা সম্ভব নয়। জগজ্জোড়া খ্যাতি যাঁর, যাঁর মাথায় শান্তির নোবেল মুকুট সেই ম্যান্ডেলার বিয়ের প্ৰস্তাব মুখে মুখে ফিরিয়ে দিলেন আমিনা। কে এই আমিনা? কেন তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ম্যান্ডেলাকে? প্ৰথম প্রশ্নের উত্তর হয়তো অনেকেরই জানা।

তাঁকে বিয়ের প্ৰস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু পরিবারের কথা ভেবে গ্ৰহণ করেননি আমিনা ক্যাচালিয়া। সবিনয়ে বলে দিয়েছেন, না ম্যান্ডেলা এটা সম্ভব নয়। জগজ্জোড়া খ্যাতি যাঁর, যাঁর মাথায় শান্তির নোবেল মুকুট সেই ম্যান্ডেলার বিয়ের প্ৰস্তাব মুখে মুখে ফিরিয়ে দিলেন আমিনা। কে এই আমিনা? কেন তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ম্যান্ডেলাকে? প্ৰথম প্রশ্নের উত্তর হয়তো অনেকেরই জানা।

আমিনা ক্যাচালিয়া ছিলেন ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী, যাঁর রান্নাঘর পৰ্যন্ত প্ৰবেশ ছিল ম্যান্ডেলার। গভীর ভাবাবেগ নিয়ে আমিনার বাড়ি ছুটে যেতেন তিনি। আমিনার পক্ষেও তাই। কৃতিত্বে, অভিজ্ঞতায় ম্যান্ডেলা মহাসমুদ্ৰ আর আমিনাকে বলা চলে নদী। তবুও সমুদ্ৰ-নদীর মোহনায় শেষ জীবনের বসত গড়তে চেয়েছিলেন ম্যান্ডেলা। কিন্তু আমিনা সেই মোহনায় গাঁটছড়া বাঁধতে চাননি। তিনি ম্যান্ডেলা নামক মহাসমুদ্ৰ জয় করতে চেয়েছেন।

তবে অবশ্যই আপন বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে, ঠাঁই-ঠিকানার সুতো না ছিঁড়ে। এসব তথ্যের সত্যতা নিয়ে বিভ্ৰান্তির সুযোগ আছে বৈকি। কিন্তু আমিনার আত্মজীবনী ‘হোয়েন হোপ অ্যান্ড হিস্ট্রি রাইম’ এই বিভ্ৰান্তি দূর করে দিয়েছে। আত্মজীবনীটিতে ম্যান্ডেলার সঙ্গে গভীর সম্পৰ্কের বিষয়টি অকপটে বলেছেন আমিনা। সম্পৰ্কের বিষয়ে আরও কিছু বলার আগে আমিনার পরিচয় যথাসম্ভব বলে নেওয়া ভালো।

আমিনা কিন্তু পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন। বেশি দিন নয়, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৩। ৮২ বছর বয়সে। এর ঠিক ১৮ বছর আগের ঘটনা। মে ১৯৯৫। আমিনার স্বামী ক্যাচালিয়া ও মেয়ে কো কো ক্যাচালিয়া তাঁদের বাবা-মায়ের সুসম্পৰ্কের কথা বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন। স্বামী হারানোর আঘাতে আমিনা যখন শোকের জলে ভাসছেন ম্যান্ডেলা তখন নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে দাঁড়ান তাঁর সামনে।

আমিনার স্বামী ক্যাচালিয়া ছিলেন ম্যান্ডেলারই রাজনৈতিক সঙ্গী। সেই সুবাদে আমিনার বাড়িতে যাতায়াত ছিল ম্যান্ডেলার। এক সাক্ষাৎকারে আমিনার মেয়ে কো কো বলেছেন, ‘আমরা জানতাম মাকে ম্যান্ডেলা ভীষণ পছন্দ করেন। এক্ষেত্ৰে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই।’ কো কোর স্পষ্ট দাবি, তাঁদের বাড়িটি ছিল ম্যান্ডেলাময়। এমন-কি তাঁদের বাবার মৃত্যুর সময়ও ম্যান্ডেলা সব সময় তাঁদের পাশে থেকেছেন।

কো কো আরও বলেছেন, তাঁর বাবার সঙ্গে নিবিড় রাজনৈতিক সম্পৰ্ক থাকলেও তাঁর মায়ের সঙ্গে তাঁর চেয়েও বেশি ব্যক্তিগত আবেগের সম্পৰ্ক ছিল। আমিনার ছেলে গালিব তাঁর মায়ের আত্মজীবনী লিখতে সাহায্য করেছিলেন। তিনি বলেছেন, আমিনা ম্যান্ডেলার সঙ্গে তাঁর সম্পৰ্কের কথা জানাতে চাইলেও ম্যান্ডেলার দেওয়া বিয়ের প্ৰস্তাব কিছুই তাঁর আত্মজীবনীতে লিখতে চাননি।

তবে তাঁদের দুই ভাই-বোনকে একদিন তাঁদের মা ডেকে বলেছিলেন, ‘মাদিবা (ম্যান্ডেলা)তাঁকে বিয়ে করতে চান।’ সে সময় ধীরচিত্তে আমিনা তাঁর প্ৰস্তাবে সাড়া দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। গালিব বলেন, তাঁর মা কখনোই তাঁর অতীতকে, তাঁর অস্তিত্বকে হারাতে চাননি। স্বামীর স্মৃতিটুকু আঁকড়ে জীবনের শেষ দিন পৰ্যন্ত বাঁচতে চেয়েছেন তিনি। তবে ম্যান্ডেলাকে নিয়ে আমিনার ভাবাবেগেরও অন্ত ছিল না।

আমিনার স্বামী যখন মারা যান, সে সময় ম্যান্ডেলার দ্বিতীয় স্ত্ৰী উইনি মাদিকিজেলার সঙ্গে প্ৰায় ছাড়াছাড়ি অবস্থা। পরের বছরই ম্যান্ডেলা উইনিকে তালাক দেন এবং গ্ৰাসা ম্যাশেলকে বিয়ে করেন। কিন্তু এত ভালোবাসা জমিয়েছিলেন যাঁর জন্য, সেই আমিনা নিজের হননি ম্যান্ডেলার। আমিনার আত্মজীবনীই বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিল ম্যান্ডেলার গোপন ভালোবাসার কথা। অবশ্য এ নিয়ে ম্যান্ডেলা পরিবার কোনও মন্তব্য করেনি।

আরও পড়ুন