রহস্য ঘেরা দ্বীপ, যেখানে কেউ গেলে আর ফিরে আসে না

|

রানার প্রতিবেদন : না কোনও গল্প নয়, আগাপাশতলা বাস্তব। ইতালির উপকূল-ঘেঁষা একটি অভিশপ্ত খুদে দ্বীপ রয়েছে, যা একবার কিনলে কোনওভাবেই বিপদ বা দুর্ভাগ্য আপনার পিছু ছাড়বে না। তাছাড়া জনশ্ৰুতি আছে যে ওই ভুতুড়ে দ্বীপে গেলে কেউই আর ফিরে আসেন না, কোনওরকমে ফিরতে পারলেও কিছুদিনের মধ্যেই মারা যান।

নেপলসের নিকটবর্তী সেই অভিশপ্তদ্বীপ গাইওলাকে ঘিরে যুগ-যুগান্ত ধরে ঘনীভূত হচ্ছে একের পর এক রহস্য। নেপলস উপকূল থেকে সেখানে সাঁতার কেটেই যাওয়া যায়। এই ছোট্ট ভূখণ্ডটির ঐতিহাসিক গুরুত্বও কম নয়। প্ৰাচীন যুগে রোমানরা তার নাম দেয় ‘ইউপ্লিয়া’। দেবী ভেনাসের মন্দিরও ছিল দ্বীপের ওপর। পরে অবশ্য তা ধ্বংস হয়।

শোনা যায়, বিশিষ্ট রোমান কবি ভাৰ্জিল নাকি এই দ্বীপের প্ৰেমে পড়েছিলেন। এখানে বসেই চলত তাঁর প্ৰশিক্ষণ দেওয়া। অষ্টাদশ শতকে গাইওলা দ্বীপে এক সন্ন্যাসী এসে আচমকাই একদিন আস্তানা গাড়েন। সেখানকার স্থানীয় মানুষদের চোখে তিনি ছিলেন ‘জাদুকর’, তাঁকে ‘উইজাৰ্ড’ বলে ডাকত তারা। স্থানীয় মৎস্যজীবীরাই তাঁর দৈনন্দিন খাদ্যের জোগান দিতেন।

যেভাবে আচমকা এসেছিলেন, সেরকমই আচমকা একদিন দ্বীপ থেকে উধাও হয়ে যান তিনি। কোথায় গিয়েছিলেন, কেউ জানেন না। লোকশ্ৰুতি, আস্তানা ছাড়ার আগে তিনি নাকি দ্বীপটিকে অভিশাপ দিযে যান। আর তারপর থেকেই যতবার এই দ্বীপের মালিকানা যতজনের হাতে এসেছে, তাঁদের প্ৰত্যেকের জীবনে আচমকাই নেমে এসেছে বিপৰ্যয়।

এই ঘটনার সূচনা কুড়ির দশক থেকে। সেই সময় গাইওলা দ্বীপ কিনেছিলেন হ্যান্স ব্ৰন নাম্নী এক সুইস ভদ্ৰলোক। একদিন প্ৰাসাদের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় কম্বলে জড়ানো তাঁর মৃতদেহ। ঠিক কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয় জানা যায়নি। তার কিছুদিন পড়েই সমুদ্ৰে ডুবে মারা যান হ্যান্সের বিধবা স্ত্ৰী। তারপর সেই দ্বীপ কেনেন অটো গ্ৰানব্যাক নামক এক জাৰ্মান ভদ্ৰলোক।

তিনিও আচমকা হৃদরোগে মারা যান। আরেক মালিক সুইজারল্যান্ডের মানসিক হাসপাতালে আত্মহত্যা করেন। এর পর কেটে গেছে কয়েক দশক। তারপর গাইওলা দ্বীপ কেনেন ফিয়াট সংস্থার কৰ্ণধার জিয়ানি অ্যাগনেলি। আর তার কযেক বছরের মধ্যে তাঁর বেশ কয়েকজন নিকটাত্মীয় মারা যান। এখানে এমন একটি ব্যক্তিগত ভিলা রয়েছে যা থেকে সমুদ্রকে উপভোগ করতে পারেন পর্যটকরা।

তবুও দ্বীপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং স্থানীয় লোকজন তো দ্বীপের অভিশাপের পরবর্তী শিকার হওয়ার ভয়ে এর কাছে যেতেই অস্বীকার করেন। একদা দ্বীপের মালিকানা আসে বিখ্যাত ধনকুবের পল গেটির হাতে। তার কয়েক দিনের মধ্যেই গেটির নাতি অপহৃত হয়। সৰ্বশেষ দ্বীপের মালিকানা আসে বিমা সংস্থার মালিক জিয়ানপাস্কুয়েল গ্ৰাপোনের হাতে।

দ্বীপ কেনার কয়েক বছরের মধ্যে অপরিশোধিত ঋণের দায়ে তিনি জেলে যান। গাইওলা বৰ্তমানে রয়েছে ক্যাম্পানিয়ার আঞ্চলিক প্রশাসনের অধীনে। সরকারি উদ্যোগে এখানে তৈরি করা হয়েছে গাইওলা আন্ডারওয়াটার পাৰ্ক। এই এলাকাটি ইতালির নৌসেনার অধীন।

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলেন এই দ্বীপটিকে, না জানি আরও কত অভিশাপ অপেক্ষা করে রয়েছে। রহস্যময় অতীত বুকে নিয়ে আজো সেখানে দাঁড়িয়ে আছে পরিত্যক্ত ভিলা। ইতালিয়ানরা এমনিতেই কুসংস্কারগ্রস্ত, তাই এই গল্পগুলি সময়ের সাথে অতিরঞ্জিত হয়ে উঠবে এটাই স্বাভাবিক।

আরও পড়ুন