কলকাতা : লকডাউনে কাজ হারিয়ে ব্যবসার পথ নিয়েছেন কলকাতার প্রায় ৫২ হাজার বেকার। অবাক হওয়ার কিছু নেই। খোদ কলকাতা পুরসভার ( Kolkata Municipal Corporation ) ট্রেড লাইসেন্স বিভাগ এই তথ্য দিচ্ছে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে গত আগস্ট মাস থেকে গত মার্চ মাস পর্যন্ত সময়কালে নতুন ব্যবসা করতে চেয়ে ট্রেড লাইসেন্স ( Trade Licence ) নিয়েছেন ৫২ হাজার নাগরিক।
ফলে চলতি অর্থবর্ষে ২০২১-২২ সালে সেই সংখ্যাটা অনেকটাই ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা। করোনাকালে প্রথম লকডাউনে চলতি অর্থবছরের প্রথম কয়েক মাস কার্যত স্তব্ধ ছিল অর্থনীতির চাকা। বন্ধ ছিল দোকানপাট সহ সমস্ত ধরনের ব্যবসা। আনলক পর্বে ধীরে ধীরে দোকান বাজার খুলতে শুরু করে। একই সঙ্গে করোনায় টানা বন্ধ থাকার জেরে বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হয়।
গোটা দেশে, এরাজ্য এমনকি কলকাতাও বাদ যায়নি। লকডাউন চলাকালীনই সবজি, দুধ, তেলেভাজার মতো অল্প টাকা লগ্নি করে ব্যবসা শুরু করে বহু বেকার ছেলে মেয়ে। আবার এই পরিস্থিতি চাকরির দরজা যে এখন সম্পূর্ণ বন্ধ তা দেখে বেশিরভাগ বেকারই ব্যবসা শুরু করতে বাধ্য হন রুটি রুজির টানে। করোনাকালে লকডাউনে সব বন্ধ থাকায় ট্রেড লাইসেন্স বাবদ আয় প্রায় শূন্য ছিল।
নতুন লাইসেন্সও তেমন আশাব্যঞ্জক ছিল না। তবে লকডাউন উঠতেই লাইসেন্স পুনর্নবিকরন ও নতুন লাইসেন্সের আবেদনে কোষাগারে টাকার বন্যা বয়ে গেছে। কলকাতা পুরসভার তথ্য বলছে, গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহেই ৫২ হাজারের কিছু বেশি নতুন লাইসেন্স হয়েছে। গত বছর আয় হয়েছিল প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। এবছর সেখানে আয় হয়েছে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা। গতবছর জুন মাসে লাইসেন্স বিভাগের কাজকর্ম শুরু হয়।
তখনও পর্যন্ত এই খাতে ৮৮ শতাংশ ঘাটতি ছিল কলকাতা পুরসভার। কিন্তু লাইসেন্স বিভাগের কর্তারা দৌড়ঝাঁপ করেছেন। আশাতীত নতুন লাইসেন্স হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে ঘাটতি পূরণ করা গিয়েছে। উল্টে গতবছরের তুলনায় প্রায় দু’কোটি টাকা অতিরিক্ত মুনাফা হয়েছে লাইসেন্স বিভাগের। চলতি বছর লাইসেন্স খাতে আয় ৭০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে পুরসভা।
