হৈহৈ কান্ড-রৈরৈ ব্যাপার, শুরু হলো টালা ট্যাংক সংস্কারের কাজ

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : সংস্কার প্রক্রিয়া কয়েক ধাপ এগোনোর পর পরপর দু’বছর ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত। সেই অভিঘাতে টালা ট্যাংক ( Tala Tank ) ঠিক আছে কিনা তার জন্য বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা কলকাতা পুরসভা ( Kolkata Municipal Corporation )। টালা ট্যাংকে মোট চারটি প্রকোষ্ঠ কম্পার্টমেন্ট রয়েছে। তিনটি প্রকোষ্ঠের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। গত তিন-চার মাস ধরে সংস্কারের পর কতটা কার্যকরী থাকল তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ( Jadavpur University ) এবং খড়গপুর আইআইটি’র ( IIT Kharagpur ) দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপকরা স্টাডি করে সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি সার্টিফিকেট ( Safety and Security Certificate ) দিয়েছেন। এবার শুরু হচ্ছে চতুর্থ প্রকোষ্ঠ বা কম্পার্টমেন্ট সংস্কারের কাজ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, ১৫ জুন থেকে পুরোদমে কাজ চালু হবে। চলতি বছরের শেষেই পুরোপুরি নতুন সাজ পাবে এশিয়ার ( Asia ) এই বৃহত্তম জলাধার। ৩৬০০ মেট্রিক টন স্টিলের পাত এবং আনুষঙ্গিক উপকরণ নতুন রূপ পাচ্ছে শতাব্দীপ্রাচীন এই জলাধার।

নথি বলছে, এই দৈত্যাকার লোহার জলাধারের বয়স ১১০ বছর। টাইটানিকের স্টিলে বানানো হয়েছিল ৯০ লক্ষ গ্যালন জলধারণক্ষমতার এই ট্যাংক। বহু বছর ধরেই ট্যাংকে ছোট ছোট ছিদ্র হয়ে যায়। ফলে সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। গ্লোবাল ট্রেন্ড ডেকে ২০১৭ সালের জুন-জুলাইয়ে শুরু হয় সংস্কার প্রক্রিয়া। ৮০ কোটি টাকার এই এই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ৬৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এক আধিকারিকের কথায়, ‘যে কম্পার্টমেন্টে যখন কাজ চলেছে, তখন সেটাকে জলশূন্য করে রাখা হয়েছে।

বাকি প্রকোষ্ঠে জল রেখে শহরের পানীয় জল সরবরাহ সচল রাখা হয়েছে। এটাই চ্যালেঞ্জ ছিল। তারপর অনেক ঝড়-ঝাপটা গিয়েছে। তাই কাঠামোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন ছিল। স্টাডিতে দেখা গিয়েছে, ঝড়ের পরেও অক্ষত আছে টালা। সংস্কারের কাজে কলকাতা পুরসভা হাত দেওয়ার পর খবর বেরিয়েছিল আন্তর্জাতিক জার্নালেও। সংস্কারের কাজ দেখতে কলকাতা ছুটে এসেছিলেন লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ ( Imperial College London ) এবং ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির ( The University of Manchester ) অধ্যাপকরা।

তাঁদের মধ্যে এক অধ্যাপকের পূর্বসূরী টালা ট্যাঙ্ক তৈরির প্রকল্পে কাজ করেছিলেন। পুরোদমে কাজ চালাতে দৈনিক দু’শোর বেশি শ্রমিক দরকার। লকডাউনে সেটা সম্ভব ছিল না। এবার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর কাজে হাত দেওয়া হচ্ছে বলেই জানাচ্ছে কলকাতা পুরসভা।

আরও পড়ুন