নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : কঠিন বর্জ্য থেকে সার তৈরি করতে এবার শহরের ৫টি জায়গায় নতুন মেশিন বসাচ্ছে কলকাতা পুরসভা। যার পোশাকি নাম ‘অর্গানিক ওয়েস্ট কনভার্টার’ বা চলতি ভাষায় পুর-কর্তারা বলছেন কম্পোস্টিং মেশিন। টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সেই মেশিন বসিয়ে ফেলা যাবে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুরসভা। বর্জ্য মূলত দুই রকমের।
তরল এবং কঠিন বর্জ্য। গৃহস্থ বাড়ি কিংবা বাজারের নিত্যদিনের ব্যবহার্য শাকসবজি, ফলমূল কিংবা অন্যান্য কঠিন বর্জ্যকে ঝাড়াই-বাছাই করে সেগুলি দিয়েই এই মেশিনের মাধ্যমে তৈরি হয় সার। এমনই আধুনিক যন্ত্র চেতলার পুর-বাজারের বাইরে লাগানো হয়েছে। এছাড়াও বহু বছর ধরে ধাপাতে এই ধরনের মেশিন কাজ করে। কিন্তু এবার শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে বিভিন্ন বাজারের বাইরে এই ধরনের যন্ত্র বসানো হচ্ছে।
চেতলা লকগেট, কুঁদঘাট ব্রিজের কাছে, লেক কালীবাড়ি সামনে, বলরাম বোস ঘাট এবং করুণাময়ী-আপাতত এই পাঁচ জায়গায় বসানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে কলকাতা পুরসভার জঞ্জাল সাফাই বিভাগ। প্রতিটিতেই হাফ মেট্টিক টন থেকে এক মেট্রিক টন সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে। আগামী দিনে পুরসভার আওতায় থাকা শহরের ৪৭টি বাজার সহ অন্যান্য বেসরকারি বাজারের বাইরেও এই ধরনের মেশিন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষ করে পচা ফল, আনাজপাতি থেকে এই ধরনের ভালো মানের সার তৈরি করা সম্ভব। তাই, বিভিন্ন বাজারের বাইরে বসানোর ক্ষেত্রে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে সেক্ষেত্রে জায়গার অভাবও রয়েছে। এক বিভাগীয় আধিকারিক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই টালি নালা সংস্কারের নীল নকশা তৈরি হয়েছে। শহরের কঠিন বর্জ্য কোনভাবেই নিকাশি নালার মাধ্যমে যাতে টালি নালায় না পড়ে তার জন্য নানা ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্জ্য থেকে সার তৈরির মেশিন বসানোর পরিকল্পনা বলা যেতে পারে তারই অঙ্গ। সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য দেবব্রত মজুমদার জানিয়েছেন, আপাতত ছোট জায়গাতেই এই মেশিনগুলি বসানো হচ্ছে। আগামী দিনে আরও বড় জায়গায় এই মেশিন বসানোর ভাবনা-চিন্তা রয়েছে। তাতে আরও বেশি মাত্রায় কঠিন বর্জ্য থেকে সার তৈরি সম্ভব হবে। সেই সার অন্যত্র বিক্রি করার পরিকল্পনাও রয়েছে কলকাতা পুরসভার।
