নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : শহরের কয়েকটি জনবহুল অঞ্চলে মোবাইল বায়ো-টয়লেট বসানোর সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুরসভা। আপাতত ২৫টি এই ধরনের বায়ো-টয়লেট কেনা হয়েছে বলেই জানাচ্ছেন কলকাতা পুরসভার কর্তারা। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে খবর, কোথাও স্থায়ীভাবে বায়ো-টয়লেট বসানোর পক্ষপাতী কলকাতা পুরসভা নয়।
এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন উৎসব এবং আচার-অনুষ্ঠানের সময় বায়ো-টয়লেট কলকাতা পুরসভা ব্যবহার করেছে। প্রথমদিকে বিভিন্ন পুজো কমিটিকে এই টয়লেট ব্যবহারের জন্য দেওয়া হলেও সেগুলি পুরসভা কোনও না কোনও সংস্থার থেকে ভাড়া নিত। তবে, ঠিকঠাক যত্ন না নেওয়ার কারণে পরে পুজো কমিটিগুলির থেকে টাকাও নিতে শুরু করে পুরসভা।
এছাড়াও ছট পুজোর সময় বিভিন্ন জায়গায় পুরসভা বায়ো-টয়লেট বসিয়েছে। তবে এবার কোনও উৎসবে নয়, সারা বছর ধরেই শহরের বিভিন্ন জনবহুল এবং বাজার অঞ্চলে বায়ো-টয়লেট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অস্থায়ীভাবে। বড়বাজার, চেতলা হাট, গালিফ স্ট্রিটের পাখির বাজার, হরিশা হাট সহ শহরে ২৫টি এমন বিভিন্ন জনবহুল এবং বাজার এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা প্রশাসক বোর্ডের সদস্য স্বপন সমাদ্দার বলেন, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যখন বাজার চলবে, বা ব্যস্ত সময় থাকবে তখন সেখানে বায়ো-টয়লেটগুলি রাখা হবে। পরে দিনের শেষে সেটা আবার তুলে নিয়ে আসা হবে। আপাতত এভাবেই শুরুটা হচ্ছে। কেমন সাড়া পাওয়া যায় তার ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে পরবর্তী পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, প্রতিটি বায়ো-টয়লেট কিনতে খরচ পড়েছে ৩৫-৪০ হাজার টাকা। কেন স্থায়ী বায়ো-টয়লেট নয়? কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা, বায়ো-টয়লেটের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে মানুষ সচেতন নয়। ফলে, আরও প্রচারের প্রয়োজন। বিশেষ করে পুজোর সময় দেখা গেছে এই ধরনের শৌচালয়গুলি প্রচার থাকা সত্বেও মানুষ খুব খারাপভাবে ব্যবহার করে।
যত্রতত্র বায়ো-টয়লেট রাখলে সেগুলির উপর নজর দেওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া শহরের ৩৭৫টি পে অ্যান্ড ইউজ টয়লেট রয়েছে। ফলে, সবদিক বিবেচনা করে স্থায়ী বায়ো-টয়লেট বসানোর প্রয়োজনীয়তা এখনই মনে করছে না কলকাতা পুরসভা।
