নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : দীর্ঘদিন ধরেই মেস্টিক অ্যাসফল্ট রাস্তা ( Mastic Asphalt Road ) বানানো বন্ধ কলকাতায়। দূষণের অভিযোগ তুলে হাইকোর্ট এবং পরিবেশ আদালতে মামলার জেরে শহরের বুকে এই ধরনের রাস্তার বাড়ানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যার জন্য পরিবেশ বান্ধব মেস্টিক অ্যাসফল্ট প্লান্ট তৈরি পরিকল্পনা নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। কিন্তু তার খরচ এতটাই বেশি যা নিয়ে কলকাতা পুরসভার একার পক্ষে এগোনো সম্ভব নয়।
সোমবার কলকাতা পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্লান্ট তৈরীর কাজকর্ম প্রদর্শিত করেন একটি জার্মান সংস্থার ( German Agency ) প্রতিনিধি দল। কলকাতা পুরসভার রাস্তা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য রতন দে এবং পুর কমিশনার বিনোদ কুমার সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। রাস্তা বিভাগের আধিকারিকদের পাশাপাশি আলো এবং জল সরবরাহ বিভাগের আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
তাঁদের সামনে সব দেখায় নির্মাণকারী সংস্থা আধিকারিকরা। একটি একটি জার্মান সংস্থান। কিভাবে এই নতুন পরিবেশবান্ধব মেট্রিক অ্যাসফল্ট প্লান্ট তৈরি করা হবে, কী ধরনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার হবে এবং তা কিভাবে কাজ করবে সবটাই বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়। যদিও কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, অত্যাধুনিক এই ব্যবস্থায় খরচ প্রচুর। ন্যূনতম প্রয়োজন ৬০ কোটি টাকা। যা কলকাতা পুরসভার একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম এই ধরনের প্লান্ট তৈরির উদ্যোগ নিয়ে আসছেন।। তিনি ভাবনা চিন্তা করেছিলেন প্রয়োজনে কেএমডিএ পূর্ত এবং কলকাতা পুরসভা যৌথ উদ্যোগে এই ধরনের একটি প্লান্ট বানানো যেতে পারে। ইতিমধ্যে তিন-চারটি জায়গায় জমিও দেখেছে কলকাতা পুরসভা। অন্তত ছয় বিঘা জমির প্রয়োজন হবে।
রতন দে জানিয়েছেন, আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই সংস্থা আমাদের ডেমোস্ট্রেশন দিয়েছে। অত্যন্ত আধুনিক মেশিন দিয়ে তৈরি এই প্লান্ট পরিবেশ বান্ধব। এবং পিচ ঢালা থেকে শুরু করে তার ওপর স্টোন চিপস পাতা, সমস্ত তাই করবে মেশিন যুক্ত গাড়ি। তবে আর পুর বিষয়টি অনেক খরচা আছে। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের উপর নির্ভর করছে।
এই প্লান্ট তৈরি হয়ে গেলে আর রাস্তার ওপর পিচ গলিয়ে মেস্টিক অ্যাসফল্ট দিয়ে তৈরি রাস্তার কাজ করতে হবে না। একদম রেডিমেড জিনিস গাড়ি করে নিয়ে আসে রাস্তার ওপর বিছিয়ে দেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে খাটনি কমবে। সময় বাঁচবে। পরিবেশ দূষণও কম হবে বলেই মানছেন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা।
