পুরসভায় পরিচয়পত্রের ধাক্কায় শিকেয় পরিষেবা, চূড়ান্ত দুর্ভোগ

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : কলকাতা পুরসভা এসে নাগরিক পরিষেবা ( Public Service ) পেতে হিমশিম খাচ্ছেন মানুষজন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ঢুকতে হচ্ছে কলকাতা পুরসভার ( Kolkata Municipal Corporation ) মূল কার্যালয়ে। ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছে মানুষের মধ্যে। নাগরিক অসন্তোষ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিসও। পরিচয় পত্র দেখিয়ে কলকাতা পুরসভার ঢুকতে হবে। দেখাতে হবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। যার জেরে কার্যত তৈরি হয়েছে এই বিশৃংখল পরিস্থিতি।

সকাল দশটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও এখনও পর্যন্ত ঢুকতে পারেনি কেউ কেউ। চলতি সপ্তাহ থেকে কলকাতা পুরসভার লাগু হয়েছে ১৩ দফা বিধি নিষেধ ( Restriction )। যার জেরে সমস্ত ধরনের পরিচয় পত্র এবং কাগজপত্র খতিয়ে দেখে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে পুরভবনে। একটিমাত্র গেট খোলা। যার জেরে তৈরি হয়েছে চূড়ান্ত অব্যবস্থা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির শিকার নাগরিক পরিষেবা নিতে আসা মানুষজন। জানাচ্ছেন অসন্তোষ।

কলকাতা পুরসভার কমিশনার বিনোদ কুমারের ( Vinod Kumar ) নির্দেশিকায় লেখা ছিল, মেয়র গেট ছাড়া বাকি সব গেট খোলা থাকবে। কিন্তু বাস্তবে খোলা মাত্র একটি গেট। যার জেরে তৈরি হয়েছে আরও খারাপ পরিস্থিতি। কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার এক শীর্ষকর্তা বলেন, নিরাপত্তার দিক থেকে চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে মানুষ একটু ভুক্তভোগী হবেন এটা ঠিক। কিন্তু পরিষেবা থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না।

একটু ধৈর্য ধরতে হবে। যদিও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন শীর্ষ মহলের নির্দেশে নির্দেশিকা জারি করতে বাধ্য হয়েছেন। যদি বিষয়টি নিয়ে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের কেউ মুখ খুলতে রাজি নয়। উত্তর কলকাতার মানিক তলার বাসিন্দা রতন মালাকার সকাল সাড়ে নটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও ঢুকতে পারেননি। বাড়ির ট্যাক্স সংক্রান্ত অর্থ জমা দিতে এসেছিলেন তিনি। বেশ কয়েক ঘণ্টা পরেও লাইনে দাঁড়িয়ে।

একই রকম ভাবে রাজা বাজারের বাসিন্দা আনোয়ার আলী পানীয় জলের লাইন এর টাকা জমা দিতে এসেছেন। কিন্তু পুরসভায় এখনো ঢুকতে পারেননি। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকেও। অন্যান্য পুরো কর্মীদের অবশ্য সচিত্র পরিচয় পত্র দেখিয়ে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমজনতার ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়? এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, প্রত্যেকের আধার কার্ড অন্যান্য পরিচয় পত্র এবং বৈধ কাগজপত্র দেখে তবেই পুরসভার ঢুকতে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। ফলে একেকজনকে ভালোভাবে খতিয়ে দেখে তবেই ঢোকানো হচ্ছে। সেই কারণে সময় লেগে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন