নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : আমফন মুখ পুড়িয়েছিল। চরম সমালোচিত হয়েছিল নগর প্রশাসন। এবার তাই অনেকটাই প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি ছিল প্রসাশন। কিন্তু কলকাতায় ঘূর্ণিঝড় তেমন প্রভাবই ফেলল না। দিনের শেষে হাফ ছেড়ে বাঁচলেন কর্তারা। যদিও ভরা কোটালের জেরে শহরের বিভিন্ন জায়গা বানভাসি হয়েছে।
দ্রুত জল নামানোর ব্যবস্থা করেছে কলকাতা পুরসভা। কিন্তু দিনের শেষে একটাই স্বস্তি, এবছর বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা এড়ানো গিয়েছে। আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে লেটার মার্কস পেয়েছে কলকাতা পুরসভা। গত বছর উম-পুনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা এখনও তাড়া করে তিলোত্তমাকে। কার্যত একরাতে প্রবল ঝড় বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কলকাতায় মৃত্যু হয়েছিল ১৯ জনের।
যার মধ্যে অধিকাংশ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে। বছর ঘুরতেই ফের ছিল ঝড় – জলের ভ্রুকুটি। কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে স্বস্তি পেয়েছেন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা। জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে রাজ ভবনের সামনে। দুর্যোগ নিয়ে আতঙ্ক কম নেই। বুধবার ভরা কোটাল থাকায় গঙ্গার জলস্তর বেশি ছিল। ফলে সমস্ত লকগেট বিকাল পর্যন্ত বন্ধ ছিল।
তাই, চেতলা, কালীঘাট, বেহালা, গার্ডেনরিচ সহ শহরের বিভিন্ন জায়গা দীর্ঘক্ষন জলমগ্ন ছিল। কলকাতা পুরসভার তথ্য বলছে, ঝড়-বৃষ্টিতে কলকাতায় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা নেহাত কম নয়। ২০১৭ সালে ৫ জন, ২০১৮ সালে ৩ জন, ২০১৯ সালে ৬ জন। ফলে এবছর বাড়তি সর্তকতা অবলম্বন করেছিল কলকাতা পুরসভার আলোক বিভাগ।
যাতে একাধিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনার এবার পুনরাবৃত্তি না হয়। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, শহরের যে সমস্ত এলাকায় জল জমার সমস্যা আছে, সেখানকার সমস্ত আলোকস্তম্ভ, ত্রিফলা, হেরিটেজ আলোক স্তম্ভ মঙ্গলবার বিকেল থেকেই বন্ধ রাখা হয়। বুধবারও রাতেও বন্ধ ছিল। আজ, বৃহস্পতিবার জল নেমে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।
আলোক স্তম্ভের সমস্ত ফিডার বক্সগুলি বিদ্যুৎহীন করার জন্য আলোকবিভাগ ইতিমধ্যেই সিইএসসিকে বলেছে। এছাড়াও রাস্তার মোড়ে থাকা সমস্ত হাইমাস্ট লাইট নামিয়ে ফেলা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার হাডকো বিল্ডিং থেকে গোটা শহরের আলোক পরিস্থিতির নজরদারি চলবে।
আলোক বিভাগের ডিজে সঞ্জয় ভৌমিক জানান, মানুষজনের অন্ধকারে সামান্য অসুবিধা হলেও বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাই, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার বিপদ এড়ানো গিয়েছে। অতীতে ত্রিফলায় নানা ত্রুটি ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তা ঠেকাতে শহরে সমস্ত ত্রিফলা বন্ধ রাখা হয়।
