নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : করোনাকালে অসহায় মানুষের থেকে টাকা চাওয়ার অভিযোগ। মৃতদের পরিবারের থেকে মোটা টাকার বিনিময়ে কাজ দ্রুত করে দেওয়া হবে। এমন অমানবিক ঘটনা সামনে এসেছেন কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগে ( Department of Health )। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ৫ জন কর্মীকে বরখাস্ত করেছে কলকাতা পুরসভা ( Kolkata Municipal Corporation )। সম্প্রতি তিনটি ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে তোলপাড় পড়ে গেছে কলকাতার পুরসভার অন্দরে।
মরদেহ সংরক্ষন কেন্দ্রে দেহ রাখা থেকে সৎকার করার কাজে দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। দেহ তুলতে নামাতেও দিতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। শেষমেষে কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত পাঁচ জনকেই বরখাস্ত করেছেন কলকাতা পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুব্রত রায়চৌধুরী। বরখাস্ত হয়েছেন শম্ভু মন্ডল, আনন্দ মল্লিক, সমীর হালদার, সঞ্জয় রজক, বিশ্বজিৎ মন্ডল।
এঁদের মধ্যে শম্ভু মণ্ডল কলকাতা কর্পোরেশনের মরদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্র পিস ওয়ার্ল্ডের নিরাপত্তা কর্মী, আনন্দ মল্লিক কেওড়াতলা শ্মশানের ( Keoratala crematorium ) ডোম ও বাকি তিনজন হলেন কর্পোরেশনের শববাহি গাড়ির কর্মী। পুরসভার সূত্র বলছে, ১৪ এপ্রিল কেওড়াতলা মহাশ্মশানে রাজেশ সিংহানিয়া বলে এক ব্যক্তি তার পরিজনের দেহ দাহ করতে যান। সেই দেহর দাহ প্রক্রিয়া দ্রুত করে দেওয়ার জন্য ওই শ্মশানের ডোম আনন্দ মল্লিক তাঁর কাছ থেকে ৫০০০ টাকা নেয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ওই ডোমকে ডেকে আনা হয়। অভিযুক্ত নিজের দোষ মেনে নেন। তারপরই তাকে দিয়ে মুচলেখা লেখানো হয় ও অভিযুক্তকে ৫০০০ টাকা ফেরৎ দেওয়ানো হয়। গত ৮ জুন করোনায় মৃত এক ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা দাবি করে পিস ওয়ার্ল্ডের নিরাপত্তারক্ষী শম্ভু মন্ডল। সে মৃতের পরিজনদের কাছে রাতে খাওয়া-দাওয়ার টাকা চেয়েছিল। দেহটি যাতে দ্রুত পিস ওয়ার্ল্ডে রাখার ব্যবস্থা করে দেওয়া যায় সে জন্য অভিযুক্ত টাকা চেয়েছিল।
স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকরা শম্ভু মন্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে সব স্বীকার করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আরও একটি ঘটনা। কলকাতা কর্পোরেশনের কন্ট্রোল রুমে সিরিটি শ্মশানের থেকে একজন ফোন করে জানান, কলকাতা কর্পোরেশনের শববাহী গাড়ির চালক ও তার সহকর্মীরা তাঁর পরিজনের দেহ শ্মশানে নিয়ে আসার জন্য ২৭০০ টাকা চাইছেন। নির্দিষ্ট ভাড়ার থেকে দাবি করা টাকার অঙ্ক অনেকটাই বেশি।
এরপরই মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে কন্ট্রোলরুম থেকে জানানো হয় এই ঘটনা। তিনি সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকদের শ্মশানে পাঠান। হাতেনাতে ওই শববাহী গাড়ি অভিযুক্ত চালক এবং বাকিরা ধরা পড়ে। এই অভিযুক্তরা হলো সমীর হালদার, সঞ্জয় রজক, বিশ্বজিৎ নস্কর। তাদের সঙ্গে সঙ্গে বরখাস্ত করার হয়। অভিযোগকারী ব্যক্তিকে তাঁর টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মাঝে মধ্যেই এই ধরনের অভিযোগ আসছে। এবার অস্বস্তির মুখে পড়ে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতীন ঘোষ বিষয়টি নিয়ে কড়া মনোভাব নেন।
