জীর্ণ বিদ্যাসাগর মার্কেট কমপ্লেক্সকে অত্যাধুনিক করার সিদ্ধান্ত

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : শহরের বুকে এবার আরও এক শপিং কমপ্লেক্স তৈরি হতে চলেছে। পার্ক সার্কাসে কলকাতা পুরসভার দীর্ঘদিনের পড়ে থাকা অর্ধ সমাপ্ত বিদ্যাসাগর মার্কেট কমপ্লেক্স নতুন চেহারা পাবে। সিআইটি রোড পদ্মপুকুরের ভাঙাচোরা এই অট্টালিকা যেন কার্যত ভুতুড়ে বাড়ি। দেওয়াল ফাটিয়ে শিকড় শক্ত করে গজিয়ে ওঠা বটগাছ। আবর্জনার স্তুপ, মূত্র ত্যাগের জায়গা।

প্রায় ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যত খণ্ডহর হয়ে পড়ে রয়েছে এই ইমারত। অর্ধ সমাপ্ত সেই ইমারাতে বর্তমানে দোতলায় ১৫টি, তিনতলায় ২৬টি, চারতলায় ২৭টি দোকান চলছে। একতলায় আরও কয়েকটি দোকান রয়েছে। বাকি অংশ কার্যত ভাঙাচোরা। ভেতরে চামড়া সহ অন্যান্য জিনিসের গোডাউন। ন্যাড়া সিঁড়ি, বেরিয়ে আছে লোহার রড।

সামনে আবর্জনার স্তুপ। পলেস্তরা খসে পড়েছে অনেক জায়গায়। দেওয়ালে আস্তানা গেড়েছে শ্যাওলা। গজিয়ে উঠেছে ডালপালা। দেওয়াল বেয়ে চুইয়ে পড়া জলে স্পষ্ট হয়েছে কালচে দাগ। কলকাতা পুরসভার নথি অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে এই প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছিল। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েই হাতে নেওয়া হয়েছিল ‘বিদ্যাসাগর মঞ্চ’ প্রকল্প।

ঠিক হয়েছিল, তৈরি হবে ১০০০ আসনের অডিটোরিয়াম। সেইসঙ্গে সাত তলা ইমারতের বাকিটা ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার হবে। প্রাথমিক ধাঁচা গড়ে তোলা হলেও কাজ বেশি দূর এগোয়নি। কলকাতা পুরসভার বাজার ঠিক করেছে, জঞ্জাল সাফাই করা হবে। ডালপালা ছেঁটে আবর্জনা সরিয়ে সাফসুতরো করা হবে ইমারত। তারপর পুরো কমিশনারের নেতৃত্বে একটি টিম পরিদর্শন করবে জায়গাটি। থাকবেন ইঞ্জিনিয়াররা।

কলকাতা পুরসভার ইচ্ছা, আগামীদিনের অডিটোরিয়াম সহ নতুন করে একটি শপিং কমপ্লেক্স তৈরি করা। সেই সঙ্গে পদ্মপুকুরের ফুটপাতে ব্যবসা চালানো জুতো ও ব্যাগের দোকানদারদের সেখানে পুনর্বাসন দিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার সৌন্দর্যায়ন করা হবে। থাকবে ক্যাফেটেরিয়া, সেলফি জোন। কলকাতা পুরসভার বাজার ভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা প্রশাসক বোর্ডের সদস্য আমিরুদ্দীন (ববি) জানিয়েছেন, তৎকালীন বাম সরকার পিপিপি মডেলে অর্ধেক করে ফেলে রাখে।

নানা সমস্যা রয়েছে। সেটা নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তা চলছে। এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, ভিজিবিলিটি টেস্ট’ অর্থাৎ বাড়িটির পরিকাঠামো কতটা মজবুত রয়েছে তা পরীক্ষা করে রিপোর্ট তৈরি হবে। পুরনো পরিকাঠামোয় সংস্কার হবে নাকি ভেঙে নতুন করে তৈরি হবে সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই হবে সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুন