করোনা বিধি ভেঙে চলছে করোনার টিকা, উদাসীন পুরসভা

|

কলকাতা : কলকাতা পুরসভার মূল ভবনে চলা বিএলআরও অফিসে ( BLRO Office ) উপচে পড়ছে ভিড়। প্রতিদিন লম্বা লাইনে গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আবেদনকারীরা। করোনা বিধি উড়িয়া উপচে পড়েছে ভিড়। এই উপচে পড়া ভিড় নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ আশপাশের কলকাতা পুরসভার ( Kolkata Municipal corporation ) অন্যান্য বিভাগের কর্মী আধিকারিকদের। এতদিন করোনাকালে সব কাজকর্ম বন্ধ ছিল। এবার অফিস খুলেছে।

স্বাভাবিকভাবেই উপচে পড়েছে ভিড়। কলকাতা পুরসভার সম্পত্তি কর ( Property Tax ) বিভাগের সঙ্গেই এক ছাদের তলায় বিএলআরও অফিস ও ঠিকা ভাড়াটিয়া অফিস আনা হয়েছে। যেখানে কর প্রদান থেকে শুরু করে খাজনা নেওয়া হয়। পুর ভবনের চার তলায় শিক্ষা, বস্তি এবং আইন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকের ঘর পেরিয়ে যেতে হয় বিএলআরও অফিসে। মেরে কেটে দেড় হাত চওড়া গলি। তার ওপর গলির মুখে চা-বিস্কুট কেকের দোকান।

এখানে মূলত সংযুক্ত এলাকার নাগরিকরা খাজনা জমা করেন ও মিউটেশন ( Mutation ) বা পর্চা বের করার মতো নানা কাজ করে থাকেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ( South 24 Parganas ) সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কাজগুলি এখানে হয়। সোম, বুধ, শুক্র এই তিন দিন সকাল থেকে বিকাল উপচে পড়ছে নাগরিকদের ভিড়। সুরু গলিতে গাদাগাদি দাঁড়িয়ে লোকজন। পাশ থেকে একজন যাওয়ার জায়গা নেই বললেই চলে। কাউন্টারে থাকা কর্মীদের দাবি, প্রতিদিন কম করে সাড়ে ৩৫০-৪০০ লোকের ভিড় জমে।

কখনও তারও বেশি। কাউন্টারের ঘরের মধ্যেও তিল ধারণের জায়গা থাকে না। নেই কোনও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা। নেই কোনও পানীয় জলের ব্যবস্থাও। এই অবস্থায় কার্যত প্রমাদ গুনছেন ওই তলায় কর্মরত কলকাতা পুরকর্মী ও আধিকারিকরা। পুরকর্মীদের একাংশের ব্যাখ্যা, যেখানে করোনা ছোঁয়াচ এড়াতে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্রের কাউন্টারের ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তাহলে এখানে কেন সেটা হবে না।

সামাজিক দূরত্ব বিধি উড়িয়ে এমন জনসমাগমে সংক্রমণ ছড়াতে বাধ্য বলেই মনে করছেন তাঁরা। এমন অব্যবস্থা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও পুর কর্তৃপক্ষের একাংশ অবশ্য কলকাতা পুরসভার মূল ভবনে স্থানাভাবে সমস্যার কথা কোথাও মনে করাচ্ছেন। যে কারণে বিএলআরও বিভাগ অন্য কোথাও স্থানান্তর করা সম্ভব নয়।

যদিও এবিষয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিএলআরও বিভাগের ( BLRO department ) এক আধিকারিক আধিকারিক বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, কলকাতা পুরসভার অনুরোধেই অফিস ওখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে যে ভিড়ের কথা বলছেন এটা কাম্য নয়। খোঁজ নিয়ে দেখছি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেই চেষ্টা হবে। সেইসঙ্গে স্যানিটাইজার রাখার ব্যবস্থাও করছি।

আরও পড়ুন