KMC Anti-Defection Law : দলবদলু কাউন্সিলারদের বাঁচাতে আইনকে বুড়ো আঙুল

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : দলে থাকলেও তাঁরা সরকারিভাবে দলহীন! কলকাতা পুরসভার ( Kolkata Municipal Corporation ) ৮ জন পুর-প্রতিনিধি বা ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটরের পরিচয় আপাতত তেমনটাই। সৌজন্যে দলবদল। কাঁটা দলবদল বিরোধী আইন ( Anti-Defection Law )। যার জেরে এই জনপ্রতিনিধিরা কোন দলের হয়ে ব্যাটিং করছেন, তা স্বীকৃতি দিতে পারছে না কলকাতা পুরসভা ( KMC ) কর্তৃপক্ষ।

কলকাতা পুরসভার বার্ষিক ডায়েরি দেখলে সেটা স্পষ্ট। এই তালিকায় প্রথমেই নাম বাগবাজারের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর বাপি ঘোষ ( Bapi Ghosh )। আদ্যপ্রান্ত কংগ্রেসি পরে তৃণমূলে থাকলেও মান-অভিমানে বিজেপির হয়ে পুরভোটে লড়েছিলেন। জিতেও যান। পরে ফের তৃণমূলমুখী। বিজেপি থেকে তৃণমূলের ফিরলেও সরকারিভাবে তিনি বিজেপির প্রতিনিধি।

কিন্তু সেটা সরকারিভাবে স্বীকার করা যাবে না। তাই ডাইরিতে তাঁর নামের পাশে দলের জায়গাটি খালি। তৃণমূল কংগ্রেস লিখলে সেটা দলবদল আইনের আওতায় পড়ে যাবে। এই তালিকা লম্বা। ১৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের আখতারি নিজামী ও ১৪০ নম্বর ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর আবু মহাম্মদ তারিক। দুজনেই কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী, কিন্তু অধুনা তৃণমূলে।

৭৭ নম্বর ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর শামীমা রেহান খান ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে তৃণমূলে। ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিবেদিতা শর্মা আরএসপি থেকে তৃণমূলে। ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর সাগুফতা পারভীনও হাত শিবির ছেড়ে জোড়াফুলের সঙ্গী। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপির টিকিটে জয়ী একদা কংগ্রেস নেতা অসীম কুমার বসুও তৃণমূলের হাত ধরেছেন। ফলে এঁদের সকলের নামের পাশের অংশটি ফাঁকা।

এক সমস্যা সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া রিঙ্কু নস্করের ( Rinku Naskar ) ক্ষেত্রেও। ১০২ নম্বর ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর ঢাকুরিয়া অঞ্চলের রিঙ্কু সম্প্রতি বাম ছেড়ে রামের হাত ধরেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বাম কাউন্সিলর হলেও রাজনীতির ২২ গজে এখন বিজেপির প্লেয়ার। স্বাভাবিকভাবেই পুর-ডাইরিতে তাঁর নামের পাশে ফাঁকা রাখা হয়েছে।

এই তালিকায় হেভিওয়েট উদাহরণ বেহালার ১৩১ নম্বর ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Mamata Banerjee ) একদাম অনুগত সৈনিক শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ( Sovan Chatterjee ) নাম। তিনিও অধুনা গেরুয়া শিবিরে। ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর পদ থেকেও তিনি ইস্তফা দেননি। কিন্তু তাঁর নামের পাশে তৃণমূল উল্লেখ করা যাবে না। আবার বিজেপিও বলা সম্ভব নয়। ফলে সেটিও ফাঁকাই পড়ে।

১৯৮০ সালের পুর আইন অনুসারে, এই ধরনের দলবদলের ক্ষেত্রে কাউন্সিলার পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়। না হলে সদস্যপদ খারিজ হয়ে যায়। ফলে, সেই আইনের মারপ্যাঁচে দলবদলু কোনও জনপ্রতিনিধিই সরকারিভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারছেন না। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের এক অভিজ্ঞ সদস্য বলেন, নিয়ম সকলের ক্ষেত্রেই এক।

ফলে, সিপিএম-তৃণমূল ছেড়ে যাঁরা বিজেপিতে গিয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা নিতে হয়, তাহলে তৃণমূল থেকে যারা বিজেপিতে এসেছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও নিয়ম মানতে হবে। যেটা সম্ভব নয়। তাই সবদিক বিবেচনা করেই পুর-ডায়েরিতে দলবদল জনপ্রতিনিধিদের দলীয় পরিচয় দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন