নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : নতুন অত্যাধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার বানাচ্ছে কলকাতা পুরসভা। আগামী মাস খানেকের মধ্যেই সেটা তৈরি হয়ে যাবে। তারপর সেই ফুড ল্যাবরেটরিতে খাদ্য পরীক্ষার কাজ করা যাবে বলে জানাচ্ছে কলকাতা পুরসভা। প্রায় দেড় বছর ধরে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল বলে জানাচ্ছেন কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকরা।কিন্তু মাঝে গতবছর লকডাউনের জেগে কাজ আটকে যায়।
পুজোর পর থেকে আবার জোরকদমে কাজ শুরু হয়। কলকাতা পুরসভার হাডকো ভবনের তিনতলায় সাড়ে চার হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা নিয়ে এই নতুন ল্যাব তৈরি করা হচ্ছে। খরচ ধার্য করা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তারা বলছেন, বর্তমানে কলকাতা পুরসভার হাতে যে খাদ্য ল্যাবরেটরি রয়েছে, তার থেকে এটা অনেক বেশী আধুনিক এবং উৎকৃষ্ট মানের।
মূলত সারাবছর কলকাতা পুরসভা শহরের বিভিন্ন খাবারের দোকান এবং বড় ছোট মাঝারি হোটেল রেস্টুরেন্টগুলিতে অভিযান চালিয়ে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে। যার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন হোটেলকে ফুড সেফটি গ্রেডেশন দেওয়া হয়। দুর্গাপুজো কালীপুজো বড়দিন নববর্ষে এই ধরনের অভিযান বেশি করে চলে। কিন্তু কয়েক বছর আগে ভাগাড়ের মাংস বিভিন্ন হোটেলে খাওয়ানো হচ্ছে বলে বিতর্ক শুরু হয়।
তখন খাদ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে আরো আধুনিক সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তা এসে পড়ে। বিতর্ক অবশ্য কয়েক মাস পর কেটে যায়। তারপরেই কলকাতা পুরসভা ঠিক করেছিল, এক অত্যাধুনিক ফুড ল্যাবরেটরি বানাবে। দেশের মধ্যে সবথেকে বেশি আধুনিক এবং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ যন্ত্রপাতি দিয়ে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে এই নতুন ফুড ল্যাবকে।
পুরো ল্যাবরেটরি আইসোলেট রাখা হচ্ছে অর্থাৎ ভেতরের বাতাস বাইরে এবং বাইরের বাতাস ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। খাদ্য পরীক্ষকরা জানাচ্ছেন, অনেক সময় বিশেষ কিছু টেস্টিং করার জন্য আমাদের বাইরে রাজ্যের পরীক্ষাগারের উপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সরকারের ফুন্ড ল্যাবরেটরিতে নমুনা পাঠাতে হয়।
কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা বিধায়ক অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, এটা সবচেয়ে আধুনিক মানের গড়ে তোলা হচ্ছে। আগামী দিনে বাইরের উপরে নির্ভরশীল করতে হবে না। নতুন ল্যাবরেটরি চালানোর জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকজন নিযুক্ত করা হবে।
