করোনা ধাক্কার মাঝেও ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে তৎপর কলকাতা পুরসভা

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একদিকে যখন করোনা সংক্রমনের বাড়বাড়ন্ত, অন্যদিকে তখন ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণেও সমানভাবে তৎপর কলকাতা পুরসভা। গতবছর পরিস্থিতি যথেষ্ট সন্তোষজনক ছিল। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া কিংবা অন্যান্য মশা বাহিত রোগের প্রকোপ দেখেনি শহর। ডিভিডেন্ট দিয়েছিল করোনার জীবানুনাশ কর্মসূচি।চলতি বছরেও সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায় কলকাতা পুরসভা।

ভোটের মরশুম। রাজনৈতিক উত্তাপ। তার মধ্যেও চুপচাপ মশাবাহিত রোগ দমনে কাজ চালাচ্ছেন কলকাতা পুরসভার ভেক্টর কণ্ট্রোল বিভাগের কর্মীরা।প্রতি বছর বিশেষ করে মার্চ-এপ্রিল মাসে যে বিশেষ প্রশিক্ষণ চলে তা ইতিমধ্যেই শেষ করা হয়েছে। কলকাতাপুরসভার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে ৬-১৫ জন ফিল্ড কর্মী রয়েছেন, তাদের ট্রেনিং সম্পূর্ণ।

বিভিন্ন নিকাশি খালে জীবাণুনাশক স্প্রে করার আজ চলছে। মূলত টালি নালা, বেলেঘাটা, বাগজোলা, চড়িয়াল বিভিন্ন নিকাশি খালে সেই কাজ শুরু করা হয়েছে। ২০টি দাঁড় তারা নৌকা দিয়ে সেই সব খালে জীবাণুনাশক স্প্রে করা চলছে।কলকাতা পুরসভার ভেক্টর কণ্ট্রোল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডঃ দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, আগেভাগেই সতর্ক থাকতে বছরের প্রথম থেকেই নিকাশি খালগুলিতে জীবাণুনাশক স্প্রে করার কাজ চলে।

সেইসঙ্গে ডেঙ্গুর মশা নিধনেও এটা কার্যকরী। গত বছর যে সাফল্য আমরা পেয়েছিলাম সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সতর্ক কলকাতা পুরসভা।কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, শহরে মূলত যেসব অঞ্চল থেকে ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়ার অভিযোগ বেশি আসে সেই অঞ্চলগুলি চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

১০৫, ১৩২, ১০০, ৯৭, ৯৮, ৫৭, ৩২, ৩৩, ১৩, ১৪, ১৪০,১২৩, ১৪৪ সহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন নিকাশি খালের ৪০-৪২টি অংশ চিহ্নিত করে স্প্রে করা হচ্ছে।কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, গতবছর ডেঙ্গুতে মাত্র ২০০০ কেস ধরা পড়েছিল।ডেঙ্গু কিংবা ম্যালেরিয়াতে কোনও মৃত্যু নেই। অন্যান্য বছরের তুলনায় যা ৬০-৬৫ শতাংশ কম।

চলতি বছরেও যেন মশাবাহিত রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সেই কারণে আগেভাগেই রোডম্যাপ ধরে এলাকা চিহ্নিত করে বাড়ি বাড়ি প্রচার, বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন সাইট ঘুরে জীবাণুনাশক ছড়ানো, প্রয়োজনের ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরো অ্যাকশন টিম এবং আরও ১৬টি কেন্দ্রীয় রেপিড অ্যাকশন টিম শহর জুড়ে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন