নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে হাত লাগিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। তৈরি হয়েছিল প্রজেক্ট রিপোর্টও। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় সেই উদ্যোগ আপাতত মাঠে মারা গিয়েছে। এখন অপ্রচলিত বিদ্যুৎ দপ্তরের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় কলকাতা পুরসভা। কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, সৌরশক্তি চালিত আলোস্তম্ভ তৈরি করার জন্য ২৮ টি পার্ক এবং পুরসভার ৭টি বিভিন্ন অফিসের ছাদে সৌর প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা হয়।
যার মধ্যে প্রথম ধাপে আটটি পার্ক অনুমোদন পায়। সেগুলি হল দেশপ্রিয় পার্ক, যতীন দাস পার্ক, ম্যাডক্স স্কোয়ার, পাটুলি উপনগরী, বেহালা মোহিনী কুঞ্জ, দেশবন্ধু পার্ক এবং সরশুনা জলাধারের পাড়। প্রায় ২.৫ কোটি টাকা খরচ করে সৌরবাতিও বসে। কিন্তু, গত বছর ঘূর্ণিঝড়ে সেটার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও ইতিমধ্যে সেগুলি সংস্কারের কাজও সম্পূর্ণ করেছে কলকাতা পুরসভা।
দেশপ্রিয় পার্ক, পাটুলি পার্ক, কলেজ স্কোয়ার এবং যতীন দাস পার্কে ভেঙে যাওয়া সৌরবাতি ঠিক করা হয়েছে। তবে, বাকি আরও ২০টি পার্কে নতুন সৌর চালিত আলোকবাতি লাগানোর কাজ থমকে আছে। থমকে গিয়েছে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পও। ঠিক হয়েছিল, নিউমার্কেট বিল্ডিং, হাডকো বিল্ডিং, গড়িয়াহাট মার্কেট, লেক মার্কেট, ধাপা, ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের লেবার কোয়াটার এবং ১৪ নম্বর বরো হেলথ ইউনিট-এই ৭টি বাড়ির ছাদে প্যানেল বসাবে কলকাতা পুরসভা।
পরিকাঠামোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়। যেখানে ৭৫০ কিলোওয়াটের(পি) সৌর বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। ৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। কিন্তু, একদিকে করোনাকালে লকডাউন এবং অন্যদিকে সমস্ত প্রস্তাব আপাতত প্রশাসনিক গেরোয় আটকে। কারণ, নতুন করে মন্ত্রিসভা গঠন হয়েছে। পুরনো মন্ত্রী ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। বর্তমানে অপ্রচলিত শক্তি দপ্তরের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।
তাই নতুন করে প্রস্তাব জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দেবাশিস কুমার বলেন, চিঠি দেওয়া হয়েছে। আপাতত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছি। এক আধিকারিক বলেন, সৌর আলোক ব্যবহার হলে বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ কমানো সম্ভব।
যা পার্কগুলিতে হয়েছে। সেইসঙ্গে কলকাতা পুরসভার বিদ্যুৎ বিলও প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ কম হবে। যা উৎপাদন হবে তা পুরোটাই কিনবে সিইএসসি। সেইমতো পুরসভার বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে কাটছাঁট হবে। তবে আপাতত পুরোটাই বিশবাঁও জলে!
