টাকা চাই, বাড়ি বাড়ি লোক পাঠাবে পুরসভা

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : কলকাতা পুরসভার ওয়েভার স্কিমে ( Waiver Scheme  ) আদায় মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল। বার্ষিক আয় টার্গেট পৌঁছাতে পেরেছে কলকাতা পুরসভা। কিন্তু অধিক সংখ্যক করদাতার কাছে পৌঁছানো যায়নি। এবার সেই টার্গেট ছাপিয়ে আগামী বছর নতুন রেকর্ড তৈরি করতে কোমর বেঁধে নামছে কলকাতা পুরসভার সম্পত্তি কর ( Property Tax ) বিভাগ। মিউটেশন ( Mutation ) সহ সম্পত্তি করে নানাবিধ অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে পারা এবং মহল্লায় ক্যাম্প করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সম্প্রতি এই মর্মে একটি ১০ দফা নির্দেশিকা জারি করেছেন কলকাতা পুরসভার ( Kolkata Municipal Corporation) বিশেষ কমিশনার সোমনাথ দে। ওই ১০ দফা নির্দেশিকায় কর আদায়ের উপরেই বিশেষ জোর দিয়েছ কলকাতা পুরসভা। মূলত শহরে বাকি পড়ে থাকা আবাসন কিংবা বাড়ির মিউটিশন দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মিউটেশন সংক্রান্ত যত অভিযোগ বকেয়া পড়ে রয়েছে তার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।

প্রয়োজনে সম্পত্তি কোন বিভাগের আধিকারিকরা বিভিন্ন পারা এবং মহল্লাতে ক্যাম্প করে নাগরিক মিউটেশন সমস্যার সমাধান করবেন। যার ফলে এত বিপুল অর্থ কলকাতা পুরসভার কোষাগারে ঢুকতে পারে। এছাড়াও সম্পত্তি কর বিভাগের বকেয়া পড়ে থাকা অর্থ আদায়ের কাজেও আধিকারিকদের আদাজল খেয়ে নামা নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যারা ওয়েভার স্ক্রিমেও টাকা দেননি তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে।

এছাড়াও বাকি পড়ে থাকা লাইসেন্সের পুনর্নবীকরণ ( License Renewal ) এবং টাকা তোলার ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে ওই নির্দেশিকায়। শহরের যত সম্পত্তি করদাতা রয়েছেন তাদের প্রত্যেকের মোবাইল নম্বরের একটা ডাটাবেজ তৈরি করতে বলা হয়েছে যাতে প্রয়োজনে সরাসরি তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে যায়। কলকাতা পুরসভার সম্পত্তি বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, শহরের প্রচুর ফ্ল্যাট বাড়ি তৈরি হয়েছে যার মিউটেশন এখনো হয়নি।

অনলাইনে মিউটেশনের ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা চালু। কিন্তু তার পরেও বহু কেস বাকি পড়ে থাকছে। সেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলেছে কলকাতা পুরসভা। গত অর্থবছরে ( ২০২০-২১ ) কলকাতা পুরসভার আয় ১২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে ছিল। এবার সেই আর দেড় হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নেমেছেন কলকাতা পুরসভার রাজস্ব বিভাগের আধিকারিকরা। তবে ওয়েভার স্কিম ছাড়া এই লক্ষ্য মাত্রা কতটা পূরণ করা সম্ভব হবে তা নিয়ে আশঙ্কা থাকছে।

আরও পড়ুন