চাকরিহারা মানুষ আসছে ব্যবসায়, ট্রেড লাইসেন্সে আয় করছে পুরসভা

|

#কলকাতা : প্রথম লকডাউনে আয় ধাক্কা খেলেও দ্বিতীয় লকডাউনে সেটা যথেষ্ট সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে। কলকাতা পুরসভার লাইসেন্স বিভাগের তথ্য অন্তত তেমনটাই বলেছে। যে আয় দেখে আধিকারিকদের আশা, বছর শেষে অচিরেই টার্গেট পূরণ করা যাবে। চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে কলকাতা পুরসভার লাইসেন্স ( Trade License ) বিভাগের আয় হয়েছে আনুমানিক ২০ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। গত অর্থবছরে সেই আয় ছিল প্রায় ১২ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা।

হোয়াটসঅ্যাপ গত বছরের থেকেও প্রায় ৭-৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয়ের হয়েছে পুরসভার। যদিও লকডাউন পূর্ববর্তী বছরে সেই আয় ছিল অনেকটাই বেশি, আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি বছর দ্বিতীয় লকডাউন এর মধ্যেও লাইসেন্স বিভাগের এই আয় যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কলকাতা পুরসভার ( Kolkata Municipal Corporation ) আধিকারিকরা। তাঁদের বক্তব্য, প্রথম লকডাউনের সময় সবকিছু বন্ধ থাকায় ব্যবসা ধাক্কা খেয়েছিল।

পরবর্তীকালে যখন ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে ফের লাইসেন্স বিভাগ ফি আদায় শুরু করে তখন দেখা যায় আদায় ভালই হচ্ছে। নতুন লাইসেন্স ফি এবং পুরনো লাইসেন্সের পুনর্নবীকরণ বাবদ গত অর্থবছরে কলকাতা পুরসভার আয় করেছিল প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। এই বছর সেই অর্থপ্রাপ্তির টার্গেট রাখা হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা। কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা মনে করছেন, দ্বিতীয় লকডাউনের ( Lockdown ) ধাক্কার মধ্যেও এই বছর আদায় সন্তোষজনক হয়েছে।

সে ক্ষেত্রে এই টার্গেট অচিরেই পূরণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি জোর দেওয়া হয়েছে পুরনো লাইসেন্সের বকেয়া অর্থ আদায়ের দিকে। ইতিমধ্যে অন্তত ৭০০০ পুরনো লাইসেন্স থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার লাইসেন্স বিভাগের বিশেষ টিম শহরজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে। বকেয়া পড়ে থাকা পুরনো লাইসেন্সের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ। বকেয়ার আর্থিক পরিমান ধরলে সেটা দাঁড়ায় ৩৬০ কোটি টাকা। সেই টাকা আদায়ের নেমেছেন কলকাতা পুরসভার লাইসেন্স বিভাগের কর্তারা।

যদিও এই অর্থের অর্ধেকেরও কম টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব হবে বলেই তাদের মত। কলকাতা পুরসভার সমীক্ষা করে দেখেছে, বকেয়া পড়ে থাকা এই লাইসেন্স এর মধ্যে অন্তত ২৫-৩০ শতাংশ ব্যবসা বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে, তাদের থেকে টাকা আদায় কোনভাবেই করা সম্ভব নয়। আদায় করতে হলেও আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। তাই বাকি যেসব ব্যবসা চলছে, তাঁদের থেকেই বকেয়া ফি আদায়ে জোর দিচ্ছে কলকাতা পুরসভা

আরও পড়ুন