কসবা টিকা কাণ্ডের জের, কঠোর নির্দেশিকা জারি পুলিশের

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : কসবার ( Kasba ) ভ্যাকসিন কাণ্ডের পর এবার কড়া নির্দেশ জারি করল লালবাজার ( Lalbazar ) । কোনওরকম ভ্যাকসিন ক্যাম্প ( Vaccine Camp ) আয়োজন করার ক্ষেত্রে থানা নজরদারি চালাবে। প্রতিটি পদক্ষেপের দিকে নজর রাখতে হবে। থানার অনুমতি ছাড়া এই ধরণের কোনও শিবির করা যাবে না। ক্যাম্প হওয়ার আগে আগাম তথ্য রাখতে হবে। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার ( KMC ) তরফ থেকেও প্রত্যেকটি বরো অফিসকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এলাকাভিত্তিক নজরদারি চালাতে হবে। শুধুমাত্র ভুয়ো টিকাকেন্দ্র ( Fake vaccination Center ) নয়। সেখান থেকে দেওয়া ভ্যাকসিনও ছিল জাল! এমনটাই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে কলকাতা পুরসভা। পাশাপাশি, এই তদন্তভার হাতে নিয়েছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ ( Lalbazar Detective Department )। তারাও জানিয়েছে, অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবের অফিসে হানা দিয়ে একাধিক জাল ভ্যাকসিনের ভায়াল, স্টিকার এবং অ্যামিকাসিন নামক ব্যাকটেরিয়া নিধনকারী অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ধার হয়েছে। কী এই অ্যামিকাসিন ( Amikacin Antibiotic )?

এই অ্যান্টিবায়োটিক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া নিধনে ব্যবহার করা হয়। যে ব্যাকটেরিয়া সাধারণ ওষুধে মারা যায় না এবং শরীরে তীব্র সংক্রমণ করে থাকে। যেমন পেচ্ছাবে জ্বালা, সেপটিসেমিয়া এই সব সংক্রমণের ক্ষেত্রে অ্যামিকাসিন দেওয়া হয়। খুব সস্তা কিন্তু কার্যকারী অ্যান্টিবায়োটিক। কিন্তু চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, অহেতুক এই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও কানে কম শোনা, হাত পা শিথিল হয়ে যাওয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে।

কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্যকর্তাদের পাশে বসিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন প্রশাসক বোর্ডের সদস্য অতীন ঘোষ। তিনি বলেন, জাল টিকা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, কোনও গুঁড়ো পাউডারের সঙ্গে জল মিশিয়ে সেই টিকা তৈরি করা হয়েছিল।ব্যাচ নম্বর, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং এক্সপায়ারি ডেট কিছুই ছিল না। ছিল না কোনও সংস্থার নামও। সাধারণত কোভিশিল্ডের তুলনায় অনেকটাই ছোট ছিল। সবুজ একটি কাগজে মোড়ানো শুধুমাত্র কোভিশিল্ড লেখা ছিল।

কলকাতা পুরসভা বলছে, কসবায় ১১০ জন টিকা নিয়েছিলেন। এদিন সকালে ওই অঞ্চলে যায় কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের একটি টিম। যাঁরা ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন তাঁরা। অতীন আরও বলেন, এখনও ৭০ জনের রিপোর্ট পুরসভার কাছে এসে পৌঁছেছে। সেই রিপোর্টে বেশ এসেছে কয়েকজনের চামড়ায় দাগ, গা ব্যথা রয়েছে। তাছাড়া বড় কোনও অসুবিধা নেই। যদিও পুরসভার স্বাস্থ্য আধিকারিক দাবি, হাম বা বিসিজির টিকাও সেটি হতে পারে।

ভ্যাকসিনের মধ্যে আদৌ কি ছিল। সেটা ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। সেই তথ্য আসলে পুরোটা জানা যাবে। সরলা ডেভলপমেন্ট মাইক্রো ফাইন্যান্স প্রাইভেট লিমিটেড কসবায় এই ক্যাম্পের জন্য এক লক্ষ ১১ হাজার টাকা দিয়েছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুরসভা। স্বাস্থ্যদপ্তরও জানিয়েছে, এই ভ্যাকসিন জাল। প্রকাশ্যে এসেছে ভুয়ো ভ্যাকসিনের ভায়ালের ছবি। সাধারণভাবে করোনা ভ্যাকসিনের একটি ভায়ালে ১০টি ডোজ থাকে।

কিন্তু এই ভায়ালে চারটি ডোজ রয়েছে বলে স্টিকারে লেখা। রাজ্য টিকাকরণের অন্যতম এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, আমরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছবি পাঠিয়েছিলাম। তারা জানিয়েছে, এই ধরনের কোনও ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে না। আমরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে এটা জাল ভ্যাকসিন।

আরও পড়ুন