জট কাটলো কালীঘাট স্কাইওয়াকের, হকার মুক্ত হচ্ছে মন্দির চত্ত্বর

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : টানাপোড়েন চলছিল বিগত তিন বছর ধরেই। এবার শেষ পর্যন্ত ঝামেলা মিটিয়ে সামনের আগস্ট মাস থেকে কালীঘাট স্কাইওয়াকের ( Kalighat Skywalk ) কাজ শুরু হতে চলেছে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে আগামী ১৫ অগাস্ট শুভ কাজে হাত দেবে কলকাতা পুরসভা ( KMC ) এবং কেএমডিএ। কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম ( Firhad Hakim ) জানিয়েছেন, কালীঘাট স্কাইওয়াকের কাজ শুরু করতে চায় পুরসভা।

৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কালীঘাট মন্দির ( Kalighat Mandir ) রোড থেকে হকারদের হাজরা পার্কে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। সেটা হয়ে গেলে ১৫ আগস্ট থেকেই কাজ শুরু স্কাইওয়াকের কাজ শুরু করে দেওয়া হবে। আগামী বছর পুজোর আগেই ওই অংশের কাজ শেষ করে দিতে চায় পুরসভা। কালীঘাট স্কাইওয়াকের জন্য হাজরা পার্কে ( Hazra Park ) হকারদের পুনর্বাসন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে কলকাতা পুরসভা। হাজরা পার্কে তৈরি হয়েছে দোকান।

কিন্তু সেই স্টল পাওয়া নিয়ে অস্বচ্ছতা চলছে। সেই অভিযোগ তুলে শনিবার খোদ কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের সামনে বিক্ষোভ দেখায় হকাররা। এদিন, পুনর্বাসনের জন্য তৈরি করা নতুন স্টল পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম, দেবাশিস কুমার, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় সহ পুর আধিকারিকরা। তাঁদের সামনেই স্টল বন্টন নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা চিৎকার করতে শুরু করেন।

যা নিয়ে রীতিমতো ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, হাজরা পার্কে যে স্টলগুলি লটারির মাধ্যমে বন্টন হয়েছে তাতে অস্বচ্ছতা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের অন্ধকারে রেখে স্টল বন্টন করা হচ্ছে। মোট ব্যবসায়ী রয়েছেন ১৫৮ জন। কিন্তু ১৫০ জনের মধ্যে লটারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। যদিও মার্কেট কমিটির লোকজনও এর পিছনে রয়েছে বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।

তাদের দাবি, কালীঘাট মন্দির রোড থেকে হাজরা পার্কে তাদের ব্যবসা স্থানান্তরের সময় প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হবে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে এতগুলি টাকা কিভাবে জোগাড় করা সম্ভব নয়, সেটা নিয়েও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা। বিক্ষোভ নিয়ে অবশ্য বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ ফিরহাদ। কিন্তু, ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছেন তিনি। ফিরহাদ বলেন, দোকান স্থানান্তরিত করার জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু, লটারি সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ রয়েছে ওদের। সেসব দেখতে গেলে কাজ হবে না। কমিটি নিয়ে ওদের সমস্যা ওরা নিজেরা মেটাবে। এই প্রজেক্ট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Mamata Banerjee ) সাধের প্রকল্প। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের স্কাইওয়াকের ( Dakshineswar Temple Skywalk ) মত কালীঘাট মন্দিরে স্কাইওয়াক তৈরি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তারপরে মন্দির রোড থেকে হকারদের সরানোর ক্ষেত্রে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নানা বৈঠকের পর সমাধানসূত্র বেরিয়েছে।

আরও পড়ুন