বিশ্ব জুড়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঈশ্বর, ব্যাপক জনপ্রিয়তা বাড়ছে ভুতপ্রেতের

|

রানার প্রতিবেদন : মেরিয়ানি বোগডানোভ পেশায় এক ভ্ৰমণ সংস্থার ম্যানেজার। অনেক ইউরোপীয়ের মতোই তিনি ক্ৰিসমাস ছাড়া কক্ষনও চাৰ্চে যেতেন না, এমনকী সন্দিহান ছিলেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পৰ্কেও। তিনি নরওয়ের দক্ষিণাংশে থাকেন। কিন্তু হঠাৎই তাঁর বাড়িতে এমন সব আশ্চৰ্য ঘটনা ঘটতে লাগল যে পালটে গেল তাঁর যাবতীয় ভাবনাচিন্তা।

তাঁর কম্পিউটার একদিন ভেঙে পড়ল কোনও কারণ ছাড়াই। বাজে গন্ধ আর অদ্ভুত সব শব্দ শোনা যেত হঠাৎ হঠাৎ বাড়ির মধ্যে এবং সঙ্গে অসহ্য মাথাব্যথা।ক্ৰমশ পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে পড়ল যে একতলার ওই ভ্ৰমণ সংস্থার অফিসে বসে কাজ করাটাই তাঁর কাছে হয়ে উঠল চূড়ান্ত অস্বস্তিকর। কম্পিউটার এক্সপাৰ্ট, ছুতোর, কলের মিস্ত্ৰি সবাইকে ডাকা হলেও কেউই এই অদ্ভুত ঘটনাগুলোর কারণ খুঁজে বের করতে পারেননি।

অবশেষে তিনি শরণাপন্ন হলেন এমন একজনের যিনি মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম। আর তারপরেই চলে গেল যাবতীয় সমস্যা। বোগডানোভের ভাষায়, ‘আমি সঠিক জানি না ওই মহিলা ঠিক কী তুকতাক করেছিলেন, কিন্তু আশ্চৰ্য কিছুই করেছিলেন, কেননা তারপরেই সব কিছুই থেমে গেল।’

আসলে তিনি ও তাঁর কর্মীরা এতদিন ধরে যে প্রেতাত্মার অস্তিত্ব উপলব্ধি করতে পারছিলেন ওই মহিলা জাদুদণ্ড ও অন্যান্য উপকরণের সাহায্যে সেইসব অশরীরী কোনও কিছুকে দূরীভূত করেছে বলেই তাঁর অভিমত। ওই ভ্ৰমণ সংস্থারই এক কর্মী হেগ ক্ৰেপস পুরো অভিজ্ঞতাটাই ভয়ংকর রকমের আশ্চৰ্যজনক বলে বৰ্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি কিন্তু পাগল নই। অশিক্ষিতও নই

কিন্তু এখানে যে কিছু একটা ছিল তার অস্তিত্ব আমি উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম। গা ছমছম করত। তবে ওই মহিলা আসার পরে আর তুকতাক করার পরে এখন সবকিছুই চলে গিয়েছে। তবে সেটা যে কী জিনিস ছিল, তা আমি জানি না। মনে হয় কোনও অশুভ আত্মা।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের চারপাশে কোথাও না কোথাও যে ভূত রয়েছে বা অশীরীরীর অস্তিত্ব রয়েছে, তা বহু প্ৰাচীন ধারণা।

কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে, ধৰ্মনিরপেক্ষ দেশ বিশেষ করে নরওয়েতে এসব অশরীরী উপস্থিতি বেশি করে টের পাওয়া যাচ্ছে এবং যেখানে কুসংস্কারের উপর বিজ্ঞানের স্থান রয়েছে। আসলে নরওয়েতে প্ৰচুর বড় বড় চাৰ্চ এখন প্ৰায় খালিই পড়ে থাকে সবসময়ে, কেননা অধিকাংশ মানুষই এখন সেদেশে ঈশ্বরের অস্তিত্বেই বিশ্বাস করেন না, সেটাও একটি সমীক্ষায় জানা গিয়েছে সম্প্ৰতি।

ফলে সেগুলোর অবস্থা ক্ৰমশ ভঙ্গুর হচ্ছে, অশরীরী অস্তিত্ব দানা বাঁধা খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এমনকী নরওয়ের রাজপরিবারও ভূতের অস্তিত্ব টের পেয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, ভূতের হাত থেকে কীভাবে নিষ্কৃতি পেতে হবে, তাই নিয়ে রাজকুমারী এখন জনসাধারণকে পাঠও দিচ্ছেন। অসলোর নরওয়েজিয়ান স্কুল অফ থিওলোজির অধ্যাপক রোয়ার ফোটল্যান্ডের মতে, ‘ঈশ্বরের অস্তিত্বে এখন মানুষের আস্থা নেই আর সেই শূন্যস্থান ভরাট করতে চলে এসেছে ভূতপ্রেত অশরীরী।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস যেমন একদিকে কমছে, তেমনই আত্মা আর অশরীরীর উপর এখন মানুষের বিশ্বাস বাড়ছে।’ অত্যাধুনিক ধৰ্মের এটাই নাকি ধারা। নরওয়ের হিউম্যানিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান টম হেড়াম্যানের মতে, ধৰ্ম এখন তার শেষ পযায়ে এসে পৌঁছেছে। তবে আধুনিক মনে ভূতের অস্তিত্ব খুব কমই প্ৰভাব ফেলে।’

এমনকী এই সংগঠনের তরফ থেকে একটি ক্যাম্পেনে বলা হচ্ছে, নিজেকে কোনওভাবেই প্ৰতারিত করবেন না। ঈশ্বর বা সান্তা ক্লসের উপর বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই। সব ধৰ্মেরই একদিন শেষ হবে। সম্ভবত এ-কারণেই নরওয়েতে ভূতের উপর নির্মিত টেলি সিরিজ ‘দ্য পাওয়ার অফ স্পিরিট’ খুবই জনপ্ৰিয় হয়েছিল।

প্ৰতি রবিবার প্ৰায় দশ লক্ষ দৰ্শক এই টিভি শোটি দেখেছেন। এবং সিরিয়ালটি এতটাই জনপ্ৰিয় হয় যে তার দশম সিরিজও তৈরি। এমনকী এই শোয়ের উপস্থাপক বলেছেন, নরওয়ের চাৰ্চের থেকেও আমরা বেশি শক্তিশালী। তাঁর মতে, এগুলোকে বাজে জিনিস বলে দূরে সরিয়ে রাখার কোনও মানে হয় না, এর পুরোটাই বাস্তব।

আরও পড়ুন