মালদা নয়, খোদ কলকাতাতেও ব্যাপক আকারে নিচ্ছে গঙ্গার ভাঙন

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : গঙ্গার পাড়ে ভাঙন অব্যাহত খাস কলকাতায়। বেশ কয়েক বছর ধরেই উত্তর কলকাতার নিমতলা ঘাট সংলগ্ন গঙ্গাপাড়ের কাঠার পর কাঠা জমি ভেঙে জলে তলিয়ে যাচ্ছে। নদী গিলেছে একাধিক ঘাট। নিশ্চিহ্ন হওয়ার মুখে কুস্তির আখড়া থেকে পুরসভার পার্ক, একাধিক বাড়ি, গুদাম, দোকান। আশঙ্কায় দিন গুনছেন গঙ্গাপাড়ের কয়েকশ বাসিন্দা। হাতে গোনা কয়েক দিন মাত্র নয়।

কলকাতা পুরসভা এলাকার ২১নম্বর ওয়ার্ডের পাড় ভাঙনের শুরু হয়েছে গত ১০-১৫ বছর ধরেই। নবনির্মিত নিমতলা শ্মশান ছেড়ে হাওড়া ব্রিজের দিকে গঙ্গাপাড়ে স্ট্র্যাণ্ড ব্যাঙ্ক রোড ধরে দুপা হাঁটতেই চোখ কপালে উঠবে মূহুর্তে। মালদহ বা মুর্শিদাবাদ নয়, খাস কলকাতায় চোখে পড়বে সেই ভাঙন চিত্র। গঙ্গার ধারেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তার পাশে সেন্ট্রাল ওয়্যার হাউসিং কর্পোরেশনের গুদাম।

অবস্থা এমন, যে কোনো সময় তলিয়ে যাবে জলে। পাশেই কাঠগোলা ঘাট ও অদূরেই মোদী ঘাট, আজ তার চিহ্নটুকু আর নেই। বন্দর কর্তৃপক্ষের ভাড়া দেওয়া কয়েকটা গুদাম ফেলে খানিকটা আরো এগিয়ে গেলে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে বহু বছরের পুরোনো বেশ কয়েকটি বহুতল। পি ৫৬/১, পি৫৬/১/১ স্ট্যাণ্ড ব্যাঙ্ক রোড। বাড়ির গায়ে বার্ধেক্যের ছাপ স্পষ্ট। সেই বাড়ি ভিতের গা ছুঁয়েই এখন বয়ে যাচ্ছে গঙ্গা।

সে অবস্থা দেখলে ভয়ে যে কেউই শিউড়ে উঠবেন। বাড়িগুলিতে প্রায় ২০০ জনের কাছে বাসিন্দা থাকেন। সেই বাড়ির এক বাসিন্দা জানান, ‘কয়েক বছর ধরে প্রান হাতে করে থাকতে হচ্ছে। এই বয়সকালে কোথায় যাবো পরিবার নিয়ে? কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। প্রতিদিন চোখের সামনে দেখছি বাড়ির ভিতে গঙ্গার জল ধাক্কা দিচ্ছে।’ কয়েক বছর ধরেই গঙ্গার বানে আতঙ্ক আরো বাড়ছে।

পাশেই বহু পুরোনো কুস্তির আখড়া কপিলদেও ব্যায়াম সংঘ। তাদের জায়গার খানিকটা অংশ এখন গঙ্গাবক্ষে। সামনে পুরসভার শিশু উদ্যানের প্রায় ১০ কাঠা জমি গ্রাস করেছে গঙ্গা। এখনও জলের ওপর ঝুলছে ভাঙা লোহার রেলিং। একটু এগিয়ে গেলে প্রসন্ন কুমার ঠাকুর ঘাট। যার সামনের বেশ খানিকটা অংশ উধাও। ২১ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গা ধার লাগোয়া মানুষজন এই বিপদের সঙ্গেই দিন কাটাচ্ছেন।

সেই কথাই ২০১০ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে কলকাতা বন্দরকে জানিয়ে আসছে কলকাতা পুরসভা। কিন্তু বন্দর কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেই অভিযোগ। যেভাবে গঙ্গা গ্রাস করছে তাতে স্ট্যাণ্ড ব্যাঙ্ক রোডেও তার প্রভাব পড়বে। এবিষয় কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে দেবাশিস কুমার জানিয়েছেন, গঙ্গার ধার কলকাতা বন্দরের এলাকা।

কর্পোরেশনের হাতে নেই। আমরা বহু বার বলেও কিছু করতে পারিনি। এই প্রসঙ্গে কলকাতা বন্দরের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় মুখার্জি জানান, গঙ্গার পাড় ভাঙান নিয়ে আমারা ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইতিমধ্যেই টেন্ডার ডাকা হয়েছে। জগন্নাথ ঘাট থেকে বাগবাজার মায়ের ঘাট পর্যন্ত গঙ্গার পাড় ভাঙন ঠেকাতে কাজ হবে। প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ হবে।

আরও পড়ুন