আপনি অবসাদগ্রস্থ? হতে পারে শুক্রাশয়ের সহযোগিতার অভাব

|

রানার প্রতিবেদন : চারপাশে সকলেরই এখন কাজের চাপ। অতিরিক্ত কাজের চাপে অনেক পুরুষই বৰ্তমানে অবসাদে ( Fatigue ) ভুগছেন। এমনটা হওয়া অস্বাভাবিকও নয়। কিন্তু এর কারণটা তলিয়ে আমরা সকলে ভাবি না। অনেকে এর জন্য কৰ্মক্ষেত্ৰে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে গিয়ে অতিরিক্ত পরিশ্ৰমকেই দায়ী করেন। এটা অন্যতম কারণ হলেও একমাত্ৰ কারণ নয়। অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়া এখন এতই সাধারণ বিষয় হয়ে গেছে যে এর পরিচিতি এখন ‘টায়াৰ্ড অল দ্য টাইম’ নামে। অনেকেই জানেন না, শুক্রাশয়ে টেস্টোস্টেরোন ( Testicles Testosterone ) কমে গেলেও শরীর ও মনে অবসাদ নেমে আসে। এবার দেখা যাক পুরুষদের কোন কোন কারণে অবসাদ হতে পারে।

অ্যানিমিয়া : রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ কমে গেলে অ্যানিমিয়া ( Anemia ) হয়। এর থেকে সবসময় ক্লান্ত লাগা, কোনও কাজে হাঁফিয়ে ওঠা, ঘুম ও মনোসংযোগে বিঘ্ন ঘটা, হৃদস্পন্দন দ্ৰুত হওয়া, বুকে চিনচিনে ব্যথা, মাথা ঘোরানোর সমস্যার সঙ্গে শরীর-মনজুড়ে নেমে আসে অবসাদ। রক্তে আয়রনের পরিমাণ কতটা রয়েছে, তা পরীক্ষা করেই জানা যাবে অ্যানিমিয়া রয়েছে কিনা। প্রয়োজনে আয়রন ক্যাপসুল ( Iron Capsules ) খেয়ে লোহার ঘাটতি মেটানো যেতে পারে।

ঘুম না হওয়া : ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যায় নিদ্ৰাহীনতা বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা দেখা যায়। আসলে ঘুমের সময় মাথায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছলেই এইসব সমস্যা হয়। নাক ডাকার উপসৰ্গ দেখে ও স্লিপ স্টাডি করে এই বিষয়টি সম্পৰ্কে জানা যায়। নিদ্ৰাহীনতার সবচেয়ে পরিচিত সমস্যা হচ্ছে শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধার কারণে ঘুম ঠিকমতো না হওয়া। এতে সৰ্বক্ষণই শরীরে একটা ক্লান্ত অবসন্ন ভাব চেপে ধরে। অফিস বা কাজ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তাও রাতে ঘুম না হওয়ার অন্যতম কারণ। ওজন কমিয়ে, ব্যায়াম করে, মদ-ধূমপান ছেড়ে, প্রয়োজনে কাউন্সেলিং করিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

থাইরয়েডের সমস্যা : গলার উপরে থাকা থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে বেরোনো থাইরক্সিন হরমোন নানান বিপাকীয় প্রক্ৰিয়া নিয়ন্ত্ৰণে রাখে। শরীরের যেসকল অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি দেহের সামগ্রিক ক্ৰিয়াকে প্রভাবিত করে, তার মধ্যে অন্যতম থাইরয়েড ( Thyroid )। এখন মেয়েদের পাশাপাশি পুরুষদের মধ্যেও থাইরয়েড রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কখনও এই হরমোন বেশি ক্ষরণ হয়, কখনও কম। থাইরয়েড হরমোন কম গেলে অবসাদ তৈরি হয়। সাধারণ ভাবে রক্তপরীক্ষাতেই ধরা পড়ে থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে কিনা।

টেস্টোস্টেরোন কম নিৰ্গত হওয়া : টেস্টোস্টেরোন অন্যতম প্রধান একটি পুরুষ হরমোন। শুক্ৰাশয়ে তৈরি এই হরমোনটির বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন কমে যায়। টেস্টোস্টেরোনের মাত্ৰা শরীরে কমে গেলে সবসময় ক্লান্তি বা অবসাদের লক্ষণ দেখা যায়। ঘুমের মধ্যে বেশি টেস্টোস্টেরোন তৈরি হয় বলে অবসাদ কাটাতে ও টেস্টোস্টেরোন তৈরিতে পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাবার জরুরি।

অন্যান্য কারণ : ওইসব কারণ ছাড়াও লিভার, কিডনি বা হৃদযন্ত্ৰের সমস্যাতেও পুরুষদের মধ্যে অবসাদ দেখা দিতে পারে। দীৰ্ঘদিন ধরে পেটের সমস্যা, অত্যধিক কোল্ড ড্ৰিঙ্কস খাওয়াও এর কারণ। এর হাত থেকে মুক্তি পেতে কখনওই অবসাদকে চেপে রাখবেন না। মনও শরীরের অংশ, তাই শরীরের পাশাপাশি মনেরও চিকিৎসা দরকার। নিয়মিত ব্ৰিস্ক ওয়াকিং জরুরি, পাশপাশি মিনিট কুড়ি যোগব্যায়াম করা উচিত, পুষ্টিকর খাবার খান, যতটা ক্যালোরি গ্রহণ করবেন, ততটা বাৰ্ন করুন এবং অবশ্যই সোশ্যাল নেটওয়াৰ্কিংয়ে খুব বেশি সময় নষ্ট করবেন না।

আরও পড়ুন