পুরভোট ঘিরে ঘোর অনিশ্চয়তা, প্রশ্নের মুখে নাগরিক পরিষেবা

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : করোনার ( Corona ) ধাক্কায় ফের অনিশ্চিত রাজ্যসভা নির্বাচন ( Rajya Sabha elections )। বিধানসভা নির্বাচনের আগেও তৃণমূল কংগ্রেসের ( TMC ) অন্দরে মোটামুটি সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল পুজোর আগেই করে ফেলা হবে রাজ্যের ১২৭টি পুরসভা এবং কর্পোরেশনের ভোট ( Municipality and corporation vote )। কিন্তু ঘাসফুলের সূত্র বলছে, এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি তাতে পুজোর আগে ভোট করানো সম্ভব নয়। তার উপর ডিসেম্বরে উৎসবের মরসুমে। ফলে কবে ভোট করানো যাবে তা নিয়ে নিশ্চিত নন শাসকদলের কর্তারা।

শাসক দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, দলের অন্দরে মোটামুটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল বিধানসভা নির্বাচনের ( Assembly Elections ) পর দু’মাসের মধ্যেই কলকাতা পুরসভা ( Kolkata Municipal corporation ) সহ অন্যান্য কর্পোরেশন অর্থাৎ বিধান নগর ( Bidhannagar ) হাওড়া ( Howrah ) চন্দননগর ( Chandannagar ) এবং শিলিগুড়ির ( Siliguri ) পুরভোট একসঙ্গে করা হবে। তারপর পুজোর পর ধাপে ধাপে বাকি মেয়াদোত্তীর্ণ পুরসভার নির্বাচন হবে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে পড়ায় এখন আর ভোট করানোর ‘রিস্ক’ নেওয়া যাবে না। কলকাতা, শিলিগুড়ি, বিধান নগর এবং চন্দননগর পুরসভায় প্রায় দেড় বছর ধরে চলছে প্রশাসক বোর্ড।

হাওড়ার ক্ষেত্রে সেটা তিন বছর অতিক্রম করেছে। কলকাতার ক্ষেত্রে পুর পরিষেবা নিয়ে সেভাবে অভিযোগ না থাকলেও হাওড়ার ক্ষেত্রে অভিযোগ ভুরি ভুরি। প্রশাসনিক কর্তারা জানাচ্ছেন, ভোট না হলে স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাজকর্ম নিয়ে নানা ধরনের আইনি জটিলতা থাকে। তাছাড়া একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কাজ যতটা সদিচ্ছা নিয়ে করেন, সরকারি আধিকারিকদের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যায় না। ঠিক যেমন বিধানসভা নির্বাচনের সময় কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রে হয়েছিল।

কোনও ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর না থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন শংসাপত্র পেতে সমস্যা হচ্ছিল। বিশেষ করে করোনায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে ডেট সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য খুব সমস্যায় পড়েছিলেন নাগরিকরা। তাছাড়া মৃত্যুর পর অসহায় পরিবার আর্থিক সাহায্য পেতে জনপ্রতিনিধির থেকে মানবিক প্রকল্পের জন্য শংসাপত্র পায়। সেটা পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত বিরাতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছে যাওয়া যায়। কিন্তু সরকারি আধিকারিকদের দেখা মেলা ভার। ফলে সব মিলিয়ে নানা সমস্যার কারণে নির্বাচনের পর প্রশাসক বোর্ড ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়।

কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রশাসক বোর্ড দিনের-পর-দিন কাজ চালিয়ে যেতে পারে না। আইনি জটিলতা রয়েছে। হাইকোর্টে এর বিরুদ্ধে মামলাও চলছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যাওয়া সম্ভব নয়। যদিও কলকাতা পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের এক প্রবীণ সদস্য বলেন, জুলাই মাসের মধ্যে সংক্রমণ একদম তলানিতে চলে আসতে পারে। তখন আগামী দু’মাসের মধ্যে খুব কম ব্যবধানে নির্বাচন করে ফেলা সম্ভব। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও নির্বাচনের প্রস্তুতি সামলাতে হাতে কতটা সময় পাওয়া যাবে তা নিয়ে সন্দেহ থাকছে। ফলে চলতি বছরেও পুরভোট হবে কিনা তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।

আরও পড়ুন