রানার প্রতিবেদন : শুধু গৰ্ভবতী হলেই যে মাসিক ঋতুচক্ৰ মিস হবে এরকমটা নয়। স্ট্রেসের কারণেও এমনটা হতে পারে। সদ্য হওয়া করোনা অতিমারির কারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন অনেক মহিলাই অনিয়মিত পিরিয়ডস বা পিরিয়ডস না হওয়ার ব্যাপারে বলছেন। পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে এদের বেশিরভাগই গৰ্ভবতী নয়, কারণটা খুঁজতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে সেই চিরাচরিত কারণ স্ট্রেস। স্ট্রেস সোজাসুজি পিরিয়ডস না হওয়ার সঙ্গে সম্পৰ্কিত।
কোনও কারণে দীৰ্ঘদিন যদি বাড়ির মধ্যে আটকা থাকতে হয়, সক্ৰিয় দৈনন্দিন রুটিনের পরিবৰ্তন, ঘুম ও খাবার খাওয়ার ধারা পালটে গেছে, শারীরিক কসরত নেই, যেমনটা লকডাউনে হয়েছিল তার প্ৰভাব পিরিয়ডসের উপরে পড়বে সরাসরি। এর সঙ্গে অতিরিক্ত মাথাব্যথা ও পেটে ক্ৰ্যাম্পের মতো উপসৰ্গগুলিও বৰ্তমান থাকে। কোভিড ১৯ লকডাউনের ফলে অনেক মহিলারই নিয়মিত প্ৰাত্যহিক রুটিন বদলে গেছে।
তায় আবার অতিমারির চিন্তায় স্ট্রেস লেভেল একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। এর ফলে শরীরে বেশি বেশি করে হরমোন কৰ্টিসোল নিৰ্গত হচ্ছে। আর যেসব মহিলা খুব বেশি পরিমাণে স্ট্রেসের মধ্যে আছেন তাদের ৪০ শতাংশই বন্ধ্যাত্বের ( Infertility ) সমস্যায় ভুগছেন। যদিও স্ট্রেস থেকে বন্ধ্যাত্ব হয় এমন কোনও সোজাসাপটা সমীকরণ চিকিৎসাবিজ্ঞানের বইতে লেখা নেই, মত একদল গবেষকের।
আগে থেকেই যাঁদের হরমোনজনিত সমস্যা ছিল স্ট্রেসের ফলে সেই সমস্যা আরও বাড়ে ফলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্যে বিঘ্ন ঘটে, যা পিরিয়ডস হওয়ার জন্য দায়ী, এর সঙ্গে পিসিওএস মহিলাদের মধ্যে বেশি করে দেখা যায়। যারা ইতিমধ্যেই পিসিওএসের বর্ডারলাইনে আছে প্যানডেমিকের সময়ে তাদের স্ট্রেসলেভেল বেড়ে গিয়ে আরও সমস্যা হয়েছে; যার ফল হল অনিয়মিত পিরিয়ডস।
আর যাঁদের আগে থেকেই হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ছিল, বাড়িতে দিনের পর দিন নিজেদের বন্দি করে রাখার ফলে সেগুলি আরও বেড়েছে। যেমন কারও যদি মাইল্ড পিসিওএস থাকে, তাহলে এইসময়ে সেই সমস্যাটা আরও বেড়েছে। ওভারিয়ান সিনড্ৰোম ( Polycystic ovary syndrome ) থেকেও পিরিয়ডস অনিয়মিত হওয়া বা একটা সাইকেল মিস হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। শরীরে ইনসুলিন হরমোনের ভারসাম্যহীনতার ফলে লেপটিন হরমোন বেশি করে ক্ষরণ হয়।
যার ফলে স্ট্রেসলেভেল আরও বাড়তে থাকে, ফলে যাদের ৩০ দিনের সাইকেল হতো তাদের ৭ দিন বা তারও বেশিদিন সাইকেলটা পিছিয়ে যায়, একে বলে অলিগোমেনোরিয়া। তাহলে এর থেকে মুক্তির উপায় কী? চিকিৎসকরা বলছেন, যে কারণে স্ট্রেস হচ্ছে সেটা খুঁজে বের করে সেই পরিস্থিতির সঙ্গে যথাসম্ভব নিজেকে মানিয়ে নেওয়া এবং সেলফ কাউন্সেলিং করা। যে পরিস্থিতি হচ্ছে, সেটা কারও হাতে নেই, কাজেই মাথা ঠাণ্ডা রাখুন, ধৈৰ্য ধরে থাকুন। চিরকাল একরকম যায় না। পরিস্থিতি একদিন না একদিন পালটাবে, এই আশাতেই বাঁচতে হবে।
