দু’বছরে এগারোটা বিয়ে? ভয়ঙ্কর মেয়ের কাণ্ডে হতবাক সকলে

|

রানার প্রতিবেদন : লোকে সারাজীবনে একটা বিয়ে করেই কোনও কুলকিনারা পান না, তায় আবার সেখানে এগারোটি বিয়ে। নাহ কোনও সেলিব্ৰিটির কথা হচ্ছে না। সাধারণ একজন যুবতী ঘটিয়েছেন এই কাণ্ড। তবে তাকে আদৌ সাধারণ বলা যাবে কি না, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে। কেননা দুই বছরের মধ্যে ১১ জনকে বিয়ে করে তাঁদের অৰ্থ হাতানোর যে পরিকল্পনা তিনি করেছিলেন, তাতে তাকে সাধারণের থেকে অনেকটাই আলাদা মনে হয়।

এর মধ্যে একমাসের মধ্যেই চারজনকে তিনি বিয়ে করেছেন। একের পর এক বিয়ে তো হচ্ছে, কিন্তু সংসার হচ্ছে কি? আদৌ না, কেননা তিনি তো সংসার করার উদ্দেশ্য নিয়ে বিয়ে করেননি। তাঁর মূল লক্ষ্য ধনী ছেলেদের ফাঁসিয়ে তাঁদের কাছ থেকে যতটা সম্ভব অৰ্থ হাতিয়ে নিয়ে কেটে পড়া। থাইল্যান্ডের বাসিন্দা ওই যুবতীর নাম জারিয়াপন বূয়ায়াই।

প্ৰতারিত হওয়া তার এগারো জন বরের মধ্যে ইতিমধ্যেই কয়েকজন পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারপরেই বিষয়টি মিডিয়ার নজরে আসে। কীভাবে এই যুবতী পুরুষদের ফাঁসাতেন? এর জন্য তিনি সৰ্বশেষ টেকনোলজির সাহায্য নিতেন, মানে সোশ্যাল মিডিয়া। নিজের এক-একটা ভুয়ো অ্যাকাউন্ট বানিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ গড়ে তোলেন।

তারপর ক্ৰমশ ছদ্মবেশে মিষ্টি কথায় সম্পৰ্কটাকে অনেক দূর নিয়ে যেতেন। তারপর বিয়ে করার আগেই যৌনসম্পৰ্কে জড়িয়ে পড়তেন। আর সেসময় বিয়ের ব্যাপারে কেউ অস্বীকার করলে তাকে টাকা দেওয়ার চাপ দেওয়া হতো। বিষয়টি বিয়ে পৰ্যন্ত গড়ালেও ওই যুবতীর টাকার আবদার কিন্তু চলতেই থাকত। তারপর ব্যাংক ব্যালেন্স মোটামুটি ফুলেফেঁপে উঠলে চলত নতুন পাত্ৰের খোঁজ।

এভাবে দুই বছরে এগারো জনকে ফাঁসিয়ে যে কত বিপুল পরিমাণ অৰ্থ ওই মেয়ে আত্মস্যাৎ করেছেন, তার হিসাব এখনও পুলিশ ঠিকমতো দিতে পারেনি। বিভিন্ন বরের সামৰ্থ্য বুঝে তাদের থেকে ছয় থেকে তিরিশ হাজার মাৰ্কিন ডলার হাতিয়েছেন জারিয়াপন বূয়ায়াই। আর অৰ্থ আদায়ের পর কোনও না কোনও অজুহাত দেখিয়ে যে-ই বাড়ি থেকে বেরোতেন, আর ফিরতেন না।

প্ৰথমে একজন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান, আর সেইসূত্ৰেই পিছু পিছু আসেন বাকিরাও। কিন্তু এদের মধ্যে সৰ্বশেষ যার সঙ্গে ওই যুবতীর মাখো মাখো সম্পৰ্ক তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে বিয়েটা আর হয়নি, এই যা রক্ষে। সবচেয়ে অদ্ভুত হল, সকলের সঙ্গে প্ৰতারণার মাধ্যমে বিয়ে করা ও বিয়ের পর অৰ্থ আদায়ের পরিকল্পনা হুবহু একই রকম থাকত।

তাই কিছুদিন ছাড়া ছাড়াই সেই তরুণীকে একস্থান থেকে আরেকস্থানে পালিয়ে বেড়াতে হতো। পুলিশ অবশ্য তাকে ধরতে চেষ্টার কোনও ত্ৰুটি করেনি। প্ৰতারিত স্বামীদের কাছ থেকে যথাসম্ভব তথ্যপ্ৰমাণ জোগাড় করে পাকড়াও করা হয়েছে তাঁকে।

আরও পড়ুন