অভিনব কান্ড জেলের ভেতর, মাথা তুলছে স্মার্ট লাইব্রেরি

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : নবকলেবরে সেজে উঠছে দমদম সেন্ট্রাল জেলের অগ্নিদগ্ধ লাইব্রেরি। আধুনিক, ডিজিটাল গ্রন্থাগার বানাচ্ছে সেন্ট্রাল জেল কর্তৃপক্ষ। কাজ চলছে জোড় কদমে। কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন লাইব্রেরি খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সেন্ট্রাল জেল কর্তৃপক্ষ। দিনটি ছিল, ২২ মার্চ, ২০২০। হঠাৎ করেই দমদম সেন্ট্রাল জেলের বন্দিদের একাংশ এবং কারারক্ষী ও পুলিসের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। উত্তাল হয়ে ওঠে জেল চত্বর।

জেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বন্দিরা। আগুনের ছারখার হয়ে যায় রেকর্ডরুম। ভষ্মিভূত হয়ে যায় অজস্র জরুরি ফাইলপত্র। আগুনে পুড়ে যায় ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগার। পুরনো গেজেট, বিভিন্ন ফাইল, ব্রিটিশ আমলের নানা নথিপত্র, পুরনো পত্র-পত্রিকা সবকিছুই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। যে বন্দিরা এই ঘটনার পেছনে ছিল তাদেরকে অন্যত্র স্থানান্তর করে দমদম সেন্ট্রাল জেল কর্তৃপক্ষ।

তারপর নতুন করে গ্রন্থাগার বানানোর কাজে হাত দেন জেলের আধিকারিকরা। জেল সূত্রে খবর, তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন লাইব্রেরি। স্মার্ট চেয়ার-টেবিল থেকে শুরু করে বই পড়ার ডিজিটাল ব্যবস্থা, বড় এলইডি স্ক্রিন সহ নানা ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকছে নতুন গ্রন্থাগারে। যা বন্দীদের কাছে হয়ে উঠবে আরও আকর্ষণীয়।

সবথেকে মজার বিষয় হল এই যে, এই নতুন গ্রন্থাগার বাড়ানোর কাজে হাত লাগিয়েছে সেখানকারই বিচারাধীন এবং সাজাপ্রাপ্তদের একাংশ। যাঁরা নিয়মিত পড়াশোনার মধ্যে নিজেদেরকে যুক্ত রাখেন। তারাই কাজে হাত লাগিয়েছে। সেইসঙ্গে প্রবীণ সাজাপ্রাপ্ত কিংবা বিচারাধীন বন্দীর সেদিনের ঘটনার নিয়ে যথেষ্ট লজ্জিত।

এই প্রসঙ্গে জেলের এক কর্তা বলেন, ওই দিনের ঘটনা কাঙ্খিত ছিল না। যাঁরা এই ঘটনার পেছনে যুক্ত ছিল জেলে থাকা অনেক বরিষ্ঠ বন্দির আইন তাদেরকে দোষারোপ করছে। নতুন লাইব্রেরি তৈরি হলে এখানকার প্রবীণ বন্দীরা সবথেকে বেশি খুশি হবেন। পুজোর আগেই খুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

আরও পড়ুন