ঝড়ের গতিতে বাড়ছে কোভিড, শম্বুক গতিতে সেফ হোম, সরকারের ভূমিকায় প্রশ্ন

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় গোটা দেশের মত বেলাগাম রাজ্যও। ভয়াবহ করোনা সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তে রাজ্যের মধ্যে বরাবর হয় দ্বিতীয় বা প্রথম স্থানে থাকছে কলকাতা। তবে এই পরিস্থিতিতেও কলকাতা পুরসভার নামমাত্র সেফ হোম নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কিভাবে পরিস্থিতি সামলানো যাবে, সরকারের ভূমিকা আতস কাচের তলায়।

রাজ্য সরকারের তথ্য অনুসারে, ১৮ মে দেওয়া তথ্য অনুসারে গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণে রাজ্যে ফের শীর্ষ স্থানে কলকাতা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭৮৫ জন। মৃত্যুতে দ্বিতীয় স্থানে। গত ২৪ ঘন্টায় মহানগর করোনায় আক্রান্ত হয় মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। সংক্রমণের সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার।

এই অবস্থায় বেড না পেয়ে রোগীকে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে। হাসপাতালে চাপ সামলাতে সেফ হোম তৈরীর পরিকল্পনা। যেখানে উপসর্গহীন বা কম উপসর্গ যুক্ত অপেক্ষাকৃত সুস্থ রোগীকে ভর্তি করা যায়। কিন্তু, বেড কোথায়? কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, এখন পর্যন্ত কলকাতায় ৮টি সেফ হোম কেন্দ্র নথিভূক্ত হয়েছে।

এর মধ্যে মাত্র ৩টি সেফ হোম চালু হয়েছে। আরো ৩টি সম্প্রতি চালু হবে। ২টি সবে প্রস্তাবিত। যে তিনটি ইতিমধ্যে চালু হয়েছে তার মধ্যে উত্তীর্ণ সেফ হোম কেন্দ্র ৪০০বেড থাকার কথা। তবে এখন পর্যন্ত প্রস্তুত হয়েছে ৩৮০টি। বেড ব্যাবহার হচ্ছে ১৪২টি মাত্র। ৫০% এর কম। বাইপাসের ধারে সেফ হোম ২০০ বেড বিশিষ্ট।

সেখানে সবকটি বেড তৈরি। ১৯০টি এই মহুর্তে ব্যাবহার হচ্ছে। গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামে সেফ হোম কেন্দ্রে ৫০টি বেড। ৫০টি তৈরি আছে। এই মহুর্তে ১১টি ব্যাবহার হচ্ছে। সিএফএসএল ৬০ বেড বিশিষ্ট সেফ হোম দ্রুত শুরু হবে। ৬০টি বেডই তৈরি। ১ নম্বর বরোর হরেকৃষ্ণ সেন লেনে সেফ হোমে ৪০বেডের সেফ হোম দ্রুত শুরু হবে।

তবে এখনো কোনো বেড প্রস্তুত নেই। বেহালা পলিটেকনিক ১৫০ বেডের সেফ হোম দ্রুত শুরু হবে তবে এই মহুর্তে কোনো বেড প্রস্তুত নেই। এছাড়াও চম্পামনি পৌর হাসপাতালে ২৫ বেডের ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬বেডের সেফ হোম তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফলে যে শহরে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার আক্রান্ত সেখানে কর্পোরেশনের সেফ হোমের বেড নামমাত্র থাকা স্বাভাবিক ভাবেই প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কলকাতা পুরসভার এক আধিকারিকের কথায়, প্রস্তাবিত যেগুলি সেগুলি কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হবে।

আরও পড়ুন