রানার ডেস্ক : কোটি কোটি মানুষের আক্ৰান্ত হওয়া, মৃত্যুমিছিল, সবদেশের আৰ্থ-সামাজিক, শিক্ষাকাঠামো ভেঙে পড়া, বেকার সংখ্যা বৃদ্ধি, অৰ্থনীতিতে ধস, একটা ক্ষুদ্ৰ ভাইরাস বদলে দিয়েছে পৃথিবীর চালচিত্ৰটাই। বিগত এক বছরের বেশ সময় ধরে করোনা ( Corona ) অতিমারি মানবজাতির অস্তিত্বের পক্ষে কীভাবে ও কত বড় সংকট নিয়ে এসছে তা আমরা সকলেই প্ৰত্যক্ষ করেছি। তবে আশার কথা হল তার আকার আর ভয়াবহ হবে না।
সম্প্ৰতি বিল গেটস ( Bill Gates ) পোল্যান্ডের একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভ্যাকসিন আসার ফলে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আশাটা জোরদার হয়েছে। ২০২২ সালের শেষদিক থেকে সারা পৃথিবী কোভিড ( Covid-19 ) থেকে মুক্ত হবে। প্ৰসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে নিজের তৈরি করা প্ৰতিষ্ঠান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তথ্যপ্ৰযুক্তি সংস্থা মাইক্ৰোসফটের চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দেন গেটস। পরে তিনি তৈরি করেন বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ( Bill & Melinda Gates Foundation ), যেখানে কোভিডের সময় ১৭৫ কোটি ডলার দিয়েছিলেন তিনি ত্ৰাণকাৰ্যে।
ভারতীয় মুদ্ৰায় যা প্ৰায় ১৪ হাজার কোটি টাকার সমান।ওই অৰ্থ কোভিডের ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ফাউন্ডেশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এখনও করোনায় আক্ৰান্ত প্ৰায় ১৩ কোটি মানুষ, মারা গেছে প্ৰায় ২৮ লক্ষ ও সুস্থ হয়েছে প্ৰায় ১১ কোটি। যখনই কোনও দেশে করোনার প্ৰকোপ একটু কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে হোটেল, রেস্তোরাঁ খুলে দেওয়া হচ্ছে জনসমাগমের ফলে হু হু করে বাড়ছে আক্রমণ।
আক্ৰান্ত ব্যাক্তির সংখ্যার নিরিখে মাৰ্কিন যুক্তরাষ্ট্ৰ ( USA ) ও ব্ৰাজিলের ( Brazil ) পরেই তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত ( India )। হোয়াইট হাউসের ( White House ) মুখ্য স্বাস্থ্যউপদেষ্টা অ্যান্থনি ফসি জানিয়েছিলেন সোয়াইন ফ্লু ( Swine flu )-এর থেকেও করোনা ভয়ংকর খারাপ। বিল গেটস আবারও তা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ভ্যাকসিন এসে গেছে বলে উল্লাসে মেতে গেলে চলবে না। এখনও সকলকেই করোনার স্বাস্থ্যসুরক্ষাবিধি মানতে হবে। অসতৰ্ক হলেই সমস্যা। বিল জানান, শীতকালে ফের এর প্ৰকোপ বাড়তে পারে। ঠিক একই কথা বলেছেন বিজ্ঞানীরা।
কেননা ঠাণ্ডার সময়ে শুষ্ক বাতাসে ভাইরাসের জলকণা বেশিদিন পৰ্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এর মধ্যে অনেক দেশেই শীতের বড় সমস্যা হল ফ্লু। বিশেষত বিগত কয়েক বছরের ধারায় দেখা গেছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের উৎপাত বেড়েছে। এই ফ্লু আর করোনার উপসৰ্গও অনেকটাই একরকমের। বিজ্ঞানীরা এবছর আশংকা করছেন করোনা ভাইরাস ( Corona Virus ) আর ইনফ্লুয়েঞ্জা ( Influenza ) একসঙ্গে বেড়ে গিয়ে টুইনডেমিক এফেক্ট হতে পারে আমেরিকায়।
গেটস আরও জানান, ভ্যাকসিন এলেই যে সংক্ৰমণ থেমে যাবে, এতটা নিশ্চিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। কোভিড ভ্যাকসিন ভাইরাসের প্ৰাবল্য কমায়, তাকে পুরোপুরি থামাতে পারে না। গেটস আরও আশঙ্কা করছেন মাৰ্কিন যুক্তরাষ্ট্ৰ সহ বিভিন্ন দেশে যে হারে মেলামেশা বাড়ছে, তাতে সংক্ৰমণের তৃতীয় ধাক্কা দ্ৰুতই আসবে। বিশেষত আগামী বড়দিনের উৎসবের সময়ে সংক্ৰমণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে অনেক সংস্থাকে অৰ্থ সাহায্য দিয়েছেন বিল গেটস।
পেনসিলভেনিয়ায় বায়োটেক ফাৰ্মনোভিও ফামাসিউটিক্যালসের ( Pennsylvania Biotechnology Center of Bucks County ) ভ্যাকসিন গবেষণার কাজে নিজেও সামিল হয়েছেন গেটস। তিনি জানান, তাঁর লক্ষ্য, শুধু আৰ্থিক সাহায্য নয়, বিশ্বের প্ৰতিটি কোণায় যাতে ভ্যাকসিন পৌঁছে যায় সেদিকে দেখভাল করা। ইতিমধ্যেই গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইমিউনাইজেশন ( Global Alliance for Vaccines and Immunization – GAVI )-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে পিছিয়ে পড়া দেশগুলিতে কোটি কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।
