নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : সময় পাল্টেছে। যার জেরে আরও সঙ্কটে ডোমপাড়ার কঞ্চি শিল্পীরা ( Twig Artist )। লকডাউন সেই সঙ্কট আরও বাড়িয়েছে। এক সময় বাঁশের কঞ্চি ধরা শিল্পী এখন রাজমিস্ত্রির কাজ করছেন। কেউ আবার মুটে মজুর। শারদোৎসবের আগে কি আসবে কাজের অর্ডার? নাকি তৃতীয় ঢেউর ( Third Wave ) ধাক্কা! এমনই আশা, আশঙ্কায় দিন কাটছে তাঁদের। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউের ( Central Avenue ) ধারে ডোমপাড়ার কঞ্চি শিল্পীদের বসবাস।
ভোট এলেই এক সময় রাজনৈতিক দলগুলির তরফে বিপুল সংখ্যক প্রতিক চিহ্ন তৈরি করার অর্ডার আসত। নিরদিষ্ট সময়ের আগে এই সব তৈরি করে দিয়ে রঙ করে লিখে দিতে এক মহুর্ত সময় থাকত না। ফুটবল বা ক্রিকেট বিশ্বকাপে ট্রফির রেপলিকা তৈরি বা পুজো অনুষ্ঠানে প্রতিমার চালচিত্র থেকে প্যাণ্ডেল তৈরি। ফ্লেক্সর যুগে সেসব এখন অতীত। এখন ভোট আসে ভোট যায় রাজনৈতিক দলগুলির কর্মীদের ভিড় জমে ফ্লেক্স প্রিন্টিং-র ছাপাখানায়।
ডোমপাড়া মাছি তাড়ায়। বিশ্বকাপেও তেমনই ছবি। নামমাত্র খরচে ফ্লেক্সে নিজের ইচ্ছা মত ছবি লেখা সবটাই দেওয়া যায়। তবে আশার আলো দেখিয়েছে বিভিন্ন শপিং মলের কাজকর্ম। তাঁদের কাজের ধরন পাল্টেছে। বিভিন্ন শপিং মলে বছরভর নানা অনুষ্ঠানে সাজানোর দায়িত্ব এখন এই শিল্পীরাই পান। বিয়ে বাড়ি কিংবা অন্য অনুষ্ঠান বাড়ির সামনে গেট বা মূর্তি তৈরির অর্ডার এই শিল্পীদের জোটে। বিভিন্ন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা কাজের বরাত দেয় এই কঞ্চি শিল্পীদের।
সেসবের ওপর এই কোনওরকমে বেঁচে আছে এই শিল্পের ভবিষ্যৎ। সঙ্কটময় অবস্থার সঙ্গে প্রতিদিন রুজির লড়াইয়ে টিকে ছিলেন এই এলাকার প্রায় ৫০০-৬০০জন শিল্পী, কর্মচারী। তবে সব শেষ করে দিয়ে গেছে করোনা মহামারি। যে নতুন নতুন পথে আয়ের মুখ দেখছিলেন সেই শপিংমল, বিয়ের বা জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কাজ বা বিভিন্ন ইভেন্টে সাজানোর কাজ একদমই বন্ধ। শিল্পী রাকেশ সর্দার জানাচ্ছেন, লকডাউনে প্রায় হাত শূণ্য। কোন অর্ডার নেই। একটা কেউ কিছু অর্ডার দিতে এলে দশজন ঝাঁপিয়ে পড়ছে।
কাচামালের দাম বেড়েছে। কৌশিক লোহার বলছেন, অনেকেই বসে থাকতে পারেননি। পরিবার আছে তাই সংসার টানতে অন্য কাজ খুঁজে নিয়েছেন। অনেকে ভিন রাজ্যে রাজমিস্ত্রীর কাজে যোগ দিয়েছেন। আবার অনেক কর্মচারী এখন বেকার। শিল্পী থেকে কর্মী সকলের কথায় উঠে এসেছে বর্তমান সময় ডোমপাড়ার এই কঞ্চি শিল্পের বেহাল অবস্থার কথা। তাঁরা এখন রোজগারের আশায় তাকিয়ে আসন্ন শারদোৎসবের দিকে। তার উপর তৃতীয় ঢেউয়ের ভ্রুকুটি। সেই আশা নিরাশার দোলাচলে দিন কাটে ডোমপাড়ায়।
