পৃথিবীকে ক্রমশ উত্তপ্ত করছে ঠান্ডা পানীয় কোম্পানিগুলি

|

রানার প্রতিবেদন : করোনাকালে ২০২০ সালে কাৰ্বন ( Carbon ) নিঃসরণ রেকৰ্ড সাত শতাংশ কমেছে। এই কাৰ্বন নিঃসরণ কমার কারণ লকডাউন এবং যোগাযোগ ও চলাচলের বিধিনিষেধ। গ্লোবাল কাৰ্বন প্রোজেক্ট ( Global Carbon Project ) সম্প্ৰতি তাদের বাৰ্ষিক সমীক্ষায় এ-কথা উল্লেখ করেছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, এ পৰ্যন্ত সৰ্বোচ্চ আনুমানিক ২.৪ বিলিয়ন টন নিঃসরণ হ্ৰাস পেয়েছে। এর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ০.৯ বিলিয়ন টন অথবা ২০০৯ সালের অৰ্থনৈতিক মন্দার সময় ০.৫ বিলিয়ন টন নিঃসরণ কমে যায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতৰ্ক করে দিয়ে বলেছেন, ২০১১ সালে নিঃসরণ পুনরায় দ্ৰুত বাড়তে পারে। কাৰ্বন নিঃসরণ কমার বিষয়ে আন্তৰ্জাতিক গবেষক দলের রিপোৰ্টে বলা হয়েছে, জৈবজ্বালানি ও শিল্পকারখানা থেকে ২০২০ সালে ৩৪ বিলিয়ন টন কাৰ্বন নিঃসরণ হয়েছে। এ বছর সবচেয়ে বেশি আমেরিকার ২ শতাংশ এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে ১১ শতাংশ কাৰ্বন নিঃসরণ কমেছে। যদিও বেজিংয়ের ( Beijing ) অৰ্থনৈতিক অক্ষশক্তি হিসাবে অৰ্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় ২০২০ সালে চিনে মাত্ৰ ১.৭ শতাংশ কাৰ্বন নিঃসরণ হ্ৰাস পেতে পারে।

কাৰ্বন নিঃসরণ হ্ৰাসে বড় অংশের অবদান পরিবহন খাতের। কোভিড-১৯ ( Covid-19 ) মহামারির প্রথম ধাপে যাতায়াত ও পরিবহন সারা দুনিয়াতেই অৰ্ধেকে নেমে আসায় এই নিঃসরণ কমে যায়। বিমান চলাচল ৪০ শতাংশ কমে যাওয়ায় এবং সড়ক পরিবহন ১০ শতাংশ কমে যাওয়ায় কাৰ্বন নিঃসরণ হ্ৰাস পায়। শিল্পকারখানা থেকে নিঃসরণের মাত্রা ২২ শতাংশ হ্ৰাস পেয়েছে। কড়া লকডাউনের কারণে কিছু কিছু দেশে ৩০ শতাংশ নিঃসরণ কমেছে।

কিন্তু গ্রিনহাউস গ্যাস ( Greenhouse gas ) নিঃসরণ হ্ৰাস ও বিশ্বনেতাদের প্রতিশ্ৰুতি সত্ত্বেও পৃথিবী আরও তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির পথেই এগোচ্ছে।উষ্ণতা আদৌ কমেনি।চলতি বছরের সাত শতাংশ কম কাৰ্বন নিঃসরণ উষ্ণায়ন প্রক্ৰিয়ায় যৎসামান্য প্রভাব ফেলেছে। মাত্ৰ এক শতাংশ ধনী দুনিয়ার অৰ্ধেক জনগোষ্ঠী বা ৩১০ কোটি মানুষের তুলনায় দ্বিগুণ কাৰ্বন নিঃসরণ করে। এর ফলে দ্ৰুতগতিতে বাড়ছে উষ্ণায়ন। ঘটছে জলবায়ু পরিবৰ্তন ( Climate change )। আসছে একের পর এক সাইক্লোন ( Cyclone )।

এর মোকাবিলায় তাই ধনীদেরই এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য চলতি শতাব্দীর মধ্যে বিপজ্জনক সব প্রাকৃতিক দুৰ্যোগ ও প্রভাব এড়াতে অনতিবিলম্বে পরিবেশ দূষণ করে এমন বিলাসী ও আয়েশি জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্ৰপুঞ্জের ( United Nations ) এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে এবং জলবায়ু বিষয়ক বাৰ্ষিক প্রতিবেদনটি প্রকাশিতও হয়েছে। অক্সফামের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কাৰ্বন নিঃসরণের এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলো।

অক্সফাম পরিচালিত এই গবেষণায় স্টকহোম এনভায়রনমেন্ট ইন্সটিটিউট ( Stockholm Environment Institute ) বলেছে, ১৯৯০-পরবৰ্তী সময়ে ৯ শতাংশ কাৰ্বন নিঃসরণ করেছে ১ শতাংশ ব্যক্তি বা ৬ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ। এই এক শতাংশ মানুষের কাৰ্বন নিঃসরণের পরিমাণ বিশ্বের অৰ্ধেক দরিদ্ৰ জনগোষ্ঠীর নিঃসরণের চেয়ে তিন গুণ বেশি। এদিকে প্লাস্টিক সৃষ্ট দূষণেও বড় সংকটে পড়েছে পৃথিবী। ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এর প্রকৃতি ও পরিবেশ।

আর এই দূষণের পুরো ভাগে রয়েছে বিশ্বের হাতেগোনা নামীদামি কয়েকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। কোকা-কোলা, পেপসির মতো পানীয় কোম্পানির সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগের তালিকার শীৰ্ষে রয়েছে খাদ্যপণ্য কোম্পানি নেসলেও। প্লাস্টিকবিরোধী আন্তৰ্জাতিক সংগঠন ফ্ৰি ফ্ৰম প্লাস্টিক-এর বাৰ্ষিক গবেষণা রিপোৰ্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। রিপোৰ্ট মতে, পরপর তিন বছর শীৰ্ষ দূষণকারী কোম্পানি কোকা-কোলা, পেপসি ও নেসলে।

আরও পড়ুন