রানার প্রতিবেদন : ব্ৰাজিলের অসমসাহসী যুবতী মায়া গ্যাবেইরার নাম শুনেছেন? অনেকের কাছেই হয়তো নামটি পরিচিত। কেননা এই অসমসাহসী পরমাসুন্দরী মেয়েটি ওয়াটার সাৰ্ফিংয়ের ক্ষেত্ৰে একের পর এক মাইলস্টোন পার করেছেন। সম্প্ৰতি তিনি একটি নতুন রেকৰ্ড গড়েছেন এবং তাতে তিনি তাঁরই গড়া মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু সাৰ্ফিংয়ের রেকৰ্ডটিকে ভেঙে দিয়েছেন। ব্ৰাজিলের মেয়ে হলেও গ্যাবেইরা রেকৰ্ড করার জন্য পর্তুগালকে বেছে নেন।
পর্তুগালের বিক্ষুব্ধ ও ভয়ংকর নাজারে জায়েন্টে ৭৩.৮ ফুট উঁচু ঢেউয়ের উপর সাৰ্ফিং করেছেন তিনি যা মহিলাদের মধ্যে একালের সৰ্ববৃহৎ রেকৰ্ড। ২০১৩ সালে একই জায়গায় সাৰ্ফিং করেছিলেন গ্যাবেইরা, তবে সেবার তাঁর পা ভেঙে যায় এবং অসাবধানতাবশত ডুবেই যাচ্ছিলেন। তবে শেষ মুহূৰ্তে নিজেকে সামলে নেন। তবে ওই দুর্ঘটনা এই সুন্দরীর মনোবলকে এতটুকু টলাতে পারেনি।
২০১৮ সালে ৬৮ ফুট উঁচু ঢেউয়ের উপর দিয়ে সাৰ্ফিং করে নতুন রেকৰ্ড গড়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন এই ব্ৰাজিলিয়ান সেক্স ডল। আর এবারে নিজেই নিজের রেকৰ্ডকে ভাঙলেন। এবার ৫ ফুট বেশি উচ্চতার ঢেউকে জয় করেছেন তিনি। গত ২৫ বছরে অন্য কোনও সারফার এত বড় ও এত উঁচু ঢেউয়ের কাছে পৌছতেই পারেননি। যাঁকে নিয়ে এত উন্মাদনা, লেখালিখি সেই গ্যাবেইরা জানান, ‘বিশ্বরেকর্ড তো সর্বদাই অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।
আমি পর্তুগালের বিক্ষুব্ধ ও ভয়ংকর নাজারে জায়েন্টে আগেরবার ব্যর্থ হয়েছিলাম। এবার আমি জয়ী। তাছাড়া এই রেকর্ডটি নিঃসন্দেহে আমার কাছে অভিনব কেননা এ-বছর কোনও পুরুষ সারফারও এত উঁচু ঢেউ পেরিয়ে সাৰ্ফিং করতে পারেননি। তার মানে মেয়েরাও বড় বড় ঢেউয়ের মোকাবিলা করতে পারে। সেটা প্রমাণিত হল।‘ তিনি আরও ইয়নেভ, ‘আমি একবছর আগেই এই দুঃসাহসিক পরিকল্পনা করেছিলাম।
কিন্তু আমার হয়ে প্রচার বা প্রতিনিধিত্ব করার কেউ ছিল না বলেই বিষয়টা বাস্তবায়িত হচ্ছিল না। কেউ স্পনসর করছিল না। সবাই বলছিল, পুরুষরা যার ধারেকাছে যেতে পারে না আমি মেয়ে হয়ে তা কী করে করব! কিন্তু শেষ অবধি হল।‘ পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাৰ্ফিংয়ের রেকৰ্ডটি আছে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দা কাই লেনির। তিনি নাজারে জায়েন্টেই ৭০ ফুট উঁচু ঢেউয়ের উপর দিয়ে সাৰ্ফিং করেন।
আর পুরুষদের মধ্যে সামগ্রিককভাবে সবোচ্চ সাৰ্ফিংয়ের রেকৰ্ডটি আছে ৮০ ফুট ঢেউয়ের উপর দিয়ে। মহিলাদের ওয়াটার সাৰ্ফিংয়ে ওয়াৰ্ল্ড রেকৰ্ড করার ক্ষেত্ৰে আরেকজন প্রতিযোগী ছিলেন ফ্ৰান্সের জাটিসন ডুইপোন্ট। গ্যাবেইরা যেদিন নাজারেতে বিশ্বরেকৰ্ড করেন একই দিনে তিনিও সাৰ্ফিং করেন, তবে তাঁর রেকৰ্ডটি গ্যাবেইরার থেকে দু থেকে তিন ফুট ছোট ছিল যা ভিডিয়ো ও ছবি দেখে বিশ্ব সাৰ্ফিং লিগের গবেষকরা বের করেছেন।
একটি সাক্ষাৎকারে গ্যাবেইরা বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের এইসব সাহসী মেয়েদের দেখে সত্যি খুব ভালো লাগে। আশা করা যায় ভবিষ্যতে আরও বড় বড় রেকৰ্ড সব হবে।‘ তবে গ্যাবেইরার সমালোচকরা তাঁর এই অতি ভয়ডরহীন মনোভাবের মাঝেমধ্যেই সমালোচনা করেন। যেমন ২০১৩ সালেই সাৰ্ফিং করতে গিয়ে বড়সড় দুৰ্ঘটনায় পড়তে পড়তে তিনি বেঁচে যান। জল থেকে যখন তাঁকে উদ্ধার করা হয়, তখন তাঁর সংজ্ঞা প্রায় ছিলই না।
গ্যাবেইরার নিজের ভাষায়, ‘২০১৩ সালে ওই দুৰ্ঘটনার পরে আমি পরপর কয়েকবছর অনেক ভেবেছি। একটা সময়ে আমি সাৰ্ফিংয়ের আনন্দ উপভোগ করতেই ভুলে গিয়েছিলাম। তখন এই ব্যাপারটার মধ্যে আর কোনও মজা অবশিষ্ট ছিল না। তারপরে ধীরে ধীরে ভয় কাটিয়ে আমি ছন্দে ফিরি।‘ দুৰ্ঘটনার পরে নতুন করে প্রশিক্ষণ নিয়ে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তিনি সাৰ্ফিংয়ে ফিরেছেন।
