ভবানীপুরেও মমতাকে হারানো সম্ভব? সর্বস্ব নিয়ে ঝাঁপাতে চাইছে বিজেপি

|

রানার ডেস্ক : অল্প মার্জিনে হলেও নন্দীগ্রামে তৃনমূল নেত্রীকে হারানো সম্ভব হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব এটাকে বিরাট মনস্তাত্ত্বিক জয় হিসাবেই দেখছে। নন্দীগ্রামে যদি সম্ভব, তাহলে ভবানীপুর কেন নয়? এই প্রশ্ন তুলে কার্যত অসম্ভবকে সম্ভব করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামতে চাইছে বিজেপি। এই কেন্দ্রে রুদ্রনীলকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন : জানেন কি বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর হোটেল কোথায়? কী তার নাম?

তিনি বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করে দিল্লি পারি দেবেন। তৃনমূল নেত্রী সিধান্ত নিয়েছেন, শোভনদেবকে এবার রাজ্যসভার সদস্য করে সংসদে পাঠানো হবে। তার শূন্যস্থানে লড়বেন মমতা। নিয়ম অনুযায়ী, বিধায়ক নন, এমন কেউ মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলে তাকে ছয় মাসের মধ্যে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে।

নতুবা মুখ্যমন্ত্রী পদে আর কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না। একারণেই মমতাকে উপনির্বাচনে জিতে আসতেই হবে। যদি জিততে না পারেন? সহজ অংক হলো, অন্য কোনও সহজ কেন্দ্র থেকে আবার নির্বাচনে লড়বেন তিনি। কিন্তু এই সহজ অংকে রাজনীতি জটিল হয়ে ওঠে। নন্দীগ্রামে হেরে যাবার পর আবার ভবানীপুরে হেরে গেল, নীতি নৈতিকতার প্রশ্ন উঠবে।

আরও পড়ুন : মাস্ক ডেকে আনছে গলাব্যথার সমস্যা, জানুন প্রতিকারের উপায়

যাকে মানুষ বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন, তিনি কার্যত জোর করে মানুষের মাথার ওপর বসে আছেন। এই প্রসঙ্গ উঠবেই। ফলে দ্বিতীয়বার হেরে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে থাকা মমতার জন্য কতটা সম্ভব হবে, এনিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও প্রশ্ন হলো, এসবই সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা। বাস্তবে ভবানীপুর কেন্দ্রে, যা কিনা মমতার নিজের পাড়া, সেখানে তাকে হারানো সম্ভব?

এই প্রশ্নে হ্যাঁ বলতে পারছেন না, অতি বড় বিজেপি নেতাও। এক বিজেপি নেতা মনে করেন, মূল নির্বাচনের সময় মমতা ভবানীপুরে দাঁড়ালে,হারানোর প্রসঙ্গ অবাস্তব মনে হতো না। এখন মনে হচ্ছে। কারন, মূল ভোটে ওখানকার মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যেও তৃণমূলের পাশে থেকেছে। শুধু তাই নয়, মমতার নিজের কেন্দ্রে মানুষ ভোট দিয়েছে তার প্রতিনিধিকে।

আরও পড়ুন : করোনা মোকাবিলায় দুনিয়ার নজর এখন “আর্টেমিসিয়া”র ওপর

এবার তো স্বয়ং মমতাই প্রার্থী। তাছাড়া এবার মানুষের সামনে কে সরকার করবে, এনিয়ে কোনও অনিশ্চয়তা নেই। পাঁচ বছরের জন্য সরকার তৃণমূলের। বিজেপিকে জেতালেও তারা ওই একটি অতিরিক্ত আসন নিয়ে সরকার করতে পারবে না। যদিও এই মতের পাল্টা মত আছে দলে। তাদের পাল্লাও কম ভারি নয়।

বিজেপির সেই অংশের যুক্তি, অবাঙালি প্রধান ভবানীপুরে যদি দল কোনও উপযুক্ত বা হেভিইয়েট প্রার্থী দার করিয়ে সঠিক রণকৌশল নিতে পারে তবে জয় অসম্ভব নয়। রাজনীতি মানেই অসম্ভবকে সম্ভব করা। মমতাযে ভোটে হারতে পারে, রাজ্যের সিংহভাগ মানুষের সেটা মাথাতেই আসতো না।

আরও পড়ুন : বিশ্ব জুড়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঈশ্বর, ব্যাপক জনপ্রিয়তা বাড়ছে ভুতপ্রেতের

গত দোষরা মে রাজ্যবাসীকে অবাক হয়ে সেটাই দেখতে হলো। দলের একাংশ চাইছে, বৈঠকে বসে ঠান্ডা মাথায় সব দিক খতিয়ে দেখে প্রার্থী ঠিক করা হোক। তারপর প্রচারের ঝড়ো হাওয়া তুলে চ্যালেঞ্জটা ছুড়ে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অর্থাৎ নন্দীগ্রাম হোক কিংবা ভবানীপুর, বিনা যুদ্ধে মমতাকে সুচাগ্র জমিও ছাড়তে রাজি নন তারা।

আরও পড়ুন