নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : সুকোমল মুখার্জী। বাড়ি বালি। নিজের ঠাকুরপুকুরে ফ্লাটের সম্পত্তিকর সংক্রান্ত সমস্যার শুনানি ছিল সোমবার। কলকাতা পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু ঢুকতে পারেননি। শেষমেষ বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। বজবজের বাসিন্দা রঞ্জিত সাউ। মেয়ের মৃত্যু হয়েছে চিত্তরঞ্জন মেডিকেল হাসপাতালে। মৃত্যু শংসাপত্র নিতে সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে কলকাতা পুরসভা ( Kolkata Municipal Corporation ) এসেছেন।
কিন্তু গেট বন্ধ হলে ঢুকতে পারেননি। অগত্যা ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়। বিল্ডিং সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন পুরো ভবনে। অসত্য বৃদ্ধা দীর্ঘক্ষণ গেটের বাইরে লাইন দিয়েছেন। শেষমেষ ফ্রি গিয়েছেন বেহালার বাড়িতে। এমন একটি দুটি নয়। সোমবার সকাল থেকে বেলা গড়িয়ে কলকাতা পুরসভার বাইরে দেখা গেল এই ছবি। বহু মানুষ নানা কাজে পুরসভায় এসেছেন। কিন্তু শেষমেশ পরিষেবা না পেয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।
বলে দেওয়া হয়েছে, বিকেল চারটের আগে কোনো কাজ হবে না। সোমবার ছিল বিজেপির কলকাতা পুরসভা অভিযান। জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডের প্রতিবাদে বিজেপি তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি দেখেছিল। যার জেরে কলকাতা পৌরসভা চত্বরে কার্যত বজ্র আঁটুনি। সকাল ১১টা থেকে সাড়ে এগারটার মধ্যে যারা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে পুরো ভবনে এসেছেন তারা ঢুকতে পেরেছেন। কিন্তু তারপর থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছে কলকাতা পুরসভার সদর কার্যালয় সব ফটক।
কোন ধরনের পুরোপুরি সেবা সংক্রান্ত প্রয়োজনে মানুষকে পুরো ভবনে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কেন পুলিশের এতটা কড়াকড়ি ছিল তা নিয়েও অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন নাগরিকরা। পুলিশের প্রস্তুতি সার থাকলো। কলকাতা পুরসভার ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে পারল না বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। কিন্তু তার জেরে যথেষ্ট ভোগান্তির মধ্যে বললেন পুরসভায় আশা মানুষজন। বিজেপির পুরসভা অভিযানের ফল ভোগ করতে হয়েছে আমজনতাকে।
দমদম থেকে এসেছিলেন বাসুদেব রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, বারোটা এসেছি। ডেট সার্টিফিকেট নিতে। এক আত্মীয় এসএসকেএম- ( SSKM )এ মারা গিয়েছিল। কিন্তু এখন বলছ ঢুকতে পারবো না। বিকেল চারটের আগে নাকি কোন কাজ হবে না। সোমবার কাজের দিনের প্রথমেই কার্যত পুরো পরিষেবা মিলল না কলকাতা পুরসভায়। বলা হল ছুটির মেজাজে সময় কাটালেন পুরকর্মীরা। সকালের দিকে যা কাজ হওয়ার হয়েছে। বেলা সাড়ে এগারটা থেকে বারোটার পর আর কেউ ঢুকতে পারেনি পুরসভার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে।
