Bell’s Palsy : করোনা ( Corona ) থেকে সেরে গেলেও রোগীদের নানারকম পাৰ্শ্বপ্ৰতিক্ৰিয়া হয়, যেমন করোনাজনিত নিউমোনিয়া ( Pneumonia ), পালমোনারি ফাইব্রোসিস ( Pulmonary Fibrosis ), হাৰ্টের সমস্যা, মস্তিষ্কের নানারকম জটিল অসুখ। এর মধ্যে আছে স্নায়ুজনিত অসুখ বেলস পালসি। এতে মুখের স্নায়ুগুলির প্যারালিসিস হয়ে যায়। এমনকী যেসব রোগীর কোভিড পজিটিভ রিপোৰ্ট আসেনি কিন্তু মৃদু উপসৰ্গ আছে তাঁরাও বেলস পালসিতে আক্ৰান্ত, এরকম নজিরও পাওয়া গেছে।
আর উপসৰ্গহীন রোগীরা বেলস পালসিতে ভুগে পরে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে এরকম কেসও চিকিৎসকরা পেয়েছেন। বেলস পালসি রোগটি হয় শরীরে ভাইরাস সংক্ৰমণের ফলে। করোনা ভাইরাসের ফলে মুখের স্নায়ুগুলি সংক্ৰমিত হয়ে তাতে প্ৰদাহ দেখা যায়। এগুলির উপর চাপ পড়তে থাকে। স্নায়ুগুলি আর তখন পেশিকে নিয়ন্ত্ৰণ করতে পারে না। ফলে একদিকের মুখ বেঁকে যেতে থাকে। কেননা পেশিগুলি হালকা, দুৰ্বল হয়ে পড়ে, তবে এটা সাময়িক।
কোভিড আক্ৰমণের প্ৰথমদিকে এই ধরনের কেস বিরল হলেও বৰ্তমানে বেলস পালসিতে আক্ৰান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে যাঁদেরই কোভিড পজিটিভ তাঁদের সকলেরই যে বেলস পালসি হবে এমনটা নয়। তবে রোগীকে পৰ্যবেক্ষণে রেখে দেখতে হয় ভাইরাস মুখের স্নায়ুগুলিকে কতটা ক্ষতিগ্ৰস্ত করছে বা করতে পারে। কোভিড থেকে সেরে উঠেছেন বলেই ১০০ শতাংশ নিশ্চিন্ত হবেন না। কেননা পরেও স্নায়ুগত সমস্যা নিয়ে অনেক রোগীই আবারও হাসপাতালে আসছেন।
এসব সমস্যার মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে গুইলিয়ান বেয়ার সিনড্ৰোম, বেলস পালসি, ডিমেনশিয়া, এনকেফেলাইটিস। সমীক্ষা বলছে অনেক ক্ষেত্ৰেই ফেসিয়াল প্যারালিসিস ( Facial paralysis ) মুখের নাৰ্ভগুলির অবশ হয়ে আসা) কোভিড ১৯-এর প্ৰথম লক্ষণ হতে পারে। এমনকী জ্বর আসা এবং স্বাদ-গন্ধ চলে যাওয়ার আগেই এই উপসৰ্গটি দেখলে মানুষকে সচেতন হতে হবে। আর বেলস পালসির উপসৰ্গ হল মুখে কোনও অভিব্যক্তি করা, হাসা, চোখ বন্ধ করতে অসুবিধে।
তার সঙ্গে মাথাযন্ত্ৰণা, চোয়ালে, কানের পিছনে বা যে অংশে বেলস পালসি হয়েছে সেখানে ব্যথা, মুখে খাবারের স্বাদ চলে যাওয়া। অনেকেই ফেসিয়াল প্যারালিসিস নিয়ে হাসপাতালে আসেন, তারপরে কোভিড পরীক্ষা করিয়ে দেখা যায় রিপোৰ্ট পজিটিভ এসেছে। শরীরে কোভিড প্ৰবেশ করে তার উপসৰ্গগুলি প্ৰকাশ পাওয়ার মধ্যেকার যে সময়টা মানে ইনকিউবিশন পিরিয়ড তখনই বেলস পালসির উপসৰ্গ দেখা দিতে পারে। করোনা ভাইরাস মুখের স্নায়ুগুলির উপর প্ৰদাহ প্ৰবলভাবে বাড়িয়ে দেয়।
তবে এই ধরনের ফেসিয়াল প্যারালিসিস তিন থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। একটা সময়ে মনে করা হতো বেলস পালসি হয়তো এমনিতেই হচ্ছে। কিন্তু পরবতীতে সমীক্ষায় দেখা গেছে করোনা ভাইরাসের সঙ্গে এর যোগ রয়েছে। এমনকী দ্য ব্ৰিটিশ মেডিক্যাল জানালে গৰ্ভবতী মহিলা যারা কোভিডে আক্ৰান্ত হয়েছেন তাঁদের বেলস পালসি হয়েছে এমন রিপোৰ্টও পাওয়া গেছে।
এই ধরনের রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্ৰে প্ৰথমেই চিকিৎসকরা ভরসা রাখেন অ্যান্টি ভাইরাল মেডিসিনের উপরে। এসব নাৰ্ভের প্ৰদাহ কমাতে দ্ৰুত কাজ করে। আর শরীরের ভাইরাল লোড কমলে স্নায়ুগুলি আপনা থেকেই আস্তে আস্তে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। কোভিড অতিমারির আগে হারপিস সংক্ৰমণ ছিল বেলস পালসির অন্যতম প্ৰধান কারণ।
তবে এবার কোভিডের সঙ্গেও তার সংযোগ পাওয়া গেল। চিকিৎসকরা বলছেন শীত পড়ার সময়টা যখন তাপমাত্ৰার হেরফের হয় মানে কখনও গরম আবার কখনও ঠাণ্ডা সেই সময়টায় বেলস পালসিতে আক্ৰান্ত হওয়ার সংখ্যাও বাড়ে। তবে এর থেকে মানুষের জীবনহানির আশঙ্কা থাকে না।
