প্রেমিকের ঘরে অন্য মেয়ে, দৃশ্য দেখে ভেঙে পড়েন বলিউডের হার্ট থ্রব

|

রানার প্রতিবেদন : শরীরী বিভঙ্গে যিনি মাত করেছিলেন সারা ভারতের তরুণদের হ্রিদ্য, তাঁর শরীরেই কিনা বাসা বেঁধেছিল প্ৰাণঘাতী ক্যানসার, তবে তাকে শেষপৰ্যন্ত পরাস্ত করতে সক্ষম হয়েছেন নেপালি বংশোদ্ভূত বলিউডের ( Bollywood ) অভিনেত্ৰী মনীষা কৈরালা ( Manisha Koirala )। সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের ‘মসকা’ নামের একটি ওয়েব সিরিজেও অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। বয়স হয়েছে কিন্তু লাবণ্য কমেনি। কিন্তু সবকিছুর পরেও তাঁকে আজও নাড়া দিয়ে যায় অসফল প্রেম।

২০১০ সালের ১৯ জুন মনীষা বিয়ে করেছিলেন নেপালি শিল্পপতি সম্রাট দাহালকে। তাঁদের আলাপ হয়েছিল ফেসবুকে। সনাতনী নেপালি রীতিতেই বিয়ে করেন দু’জনে। মধুচন্দ্রিমা করতে যান ফ্লোরিডায় ( Florida )। কিন্তু দু’বছরের মাথায় ভেঙে যায় দাম্পত্য। ২০১২ সাল মনীষার কাছে একাধিক দুঃসংবাদ বয়ে আনে। বিয়ে ভাঙার পাশাপাশি সে বছরই জানা যায়, তিনি ওভারিয়ান ক্যানসারে আক্রান্ত। প্রথমে মুম্বই, তারপরে তাঁর চিকিৎসা হয় আমেরিকায়।

তবে মনীষা জয় করেছেন ক্যানসার। তিনি লিখেছেন, ‘চিকিৎসকের মুখে যখন শুনলাম আমি ‘ক্যানসারমুক্ত’, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েছিলাম। এটাকে আমার ‘পুনৰ্জন্ম’ বলতে চাই আমি।’ ডিম্বাশয়ে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয় এই সুন্দরী অভিনেত্ৰীকে। নিউ ইয়ৰ্কের একটি হাসপাতালে মনীষার অস্ত্ৰোপচার সম্পন্ন হয়। সফল অস্ত্ৰোপচারের পর হাসপাতাল ছেড়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় একটি হোটেলে উঠেছিলেন তিনি।

ক্যানসার থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেতে যুক্তরাষ্টে্ৰ তাঁর কেমোথেরাপিও চলছিল। মনীষা জানিয়েছেন, ক্যানসারকে পরাস্ত করতে পারলেও জটিল এই রোগের ধকলে তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছে। পুরোপুরি সেরে উঠতে তাঁর আরও কিছুদিন সময় লাগবে। এ প্ৰসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুরোপুরি সুস্থ হতে আমাকে আরও দীৰ্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। আপনাদের প্ৰাৰ্থনা আর আশীৰ্বাদের কল্যাণেই আজ আমি ক্যানসারকে পরাস্ত করতে পেরেছি। আমি নিশ্চিত, ধীরে ধীরে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে একদিন অবশ্যই আপনাদের সবার মাঝে ফিরতে পারব।’

ভক্ত ও শুভকাঙক্ষীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর ফেসবুক পাতায় লেখেন, ‘আমার পরিবারের সদস্য, পুরনো ও নতুন বন্ধুসহ আমার ক্যানসার ক্লাবের সদস্যরা সব সময় আমাকে ক্যানসারের বিরদ্ধে লড়াই করার প্ৰেরণা জুগিয়েছেন। আমার মা, ঈশ্বর, ফেসবুক ও টুইটার বন্ধুসহ সবার প্ৰতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। সবার নিঃস্বাৰ্থ ভালোবাসার কারণেই আমি নতুন জীবন পেলাম।’ ১৯৯১ সালে ‘সওদাগর’ ( Saudagar ) ছবির মাধ্যমে বলিউডে যাত্ৰা শুরু করেছিলেন নেপালের সম্ভ্ৰান্ত কৈরালা পরিবারের মেয়ে মনীষা কৈরালা।

পরবতী সময়ে ‘১৯৪২, এ লাভ স্টোরি’, ‘দিল সে’, ‘মন’, ‘যুগপুরুষ’, ‘লজ্জা’ সহ বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। মাঝে কিছুদিন অনিয়মিত থাকলেও ২০১২ সালে ‘ভূত রিটাৰ্নস’ ছবির মধ্য দিয়ে বলিউডে প্ৰত্যাবৰ্তন ঘটে তাঁর। ছবিটি মুক্তির পর আরও কয়েকটি ছবির প্ৰস্তাব আসে মনীষার কাছে। বলিউডে নিয়মিত হওয়ার জন্য পুরোদমে প্ৰস্তুতিও শুরু করেন তিনি। কিন্তু বাদ সাধে শারীরিক অসুস্থতা।

হঠাৎ করেই তাঁর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। ক্যানসারের মতো কঠিন রোগ দেহে বাসা বাঁধলেও মনীষা কখনোই ভেঙে পড়েননি। শুরু থেকেই সবকিছু সহজভাবে নিয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। সঠিক চিকিৎসা, মানসিক শক্তি আর সবার ভালোবাসাকে হাতিয়ার করে অবশেষে কঠিন সেই যুদ্ধে জয়ী হন তিনি। তবে কিছুতেই ভুলতে পারেন না তাঁর প্রেমের কথা, প্রতারিত হওয়ার কথা। ১৯৯৬ সালে ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবির শ্যুটিংয়ের সময় মনীষা প্রেমে পড়েন নানা পাটেকরের ( Nana Patekar )।

সেসময় নানার মতো গম্ভীর স্বভাবের একজন ব্যক্তির সঙ্গে মনীষার প্রেমের খবরে অনেকেই অবাক হন। যদিও তখন মনীষা নিজেও বদমেজাজের জন্য সেসময় চর্চিত ছিলেন। তবে ‘অগ্নিসাক্ষী’র শ্যুটিংয়ের সময় নানা ও মনীষা দুজনেই একে অপরের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন বলেই শোনা গিয়েছিল। সেসময় মনীষার প্রতিবেশীরা অনেকেই বলেছিলেন তাঁরা নানাকে অনেক ভোরে মনীষার বাড়ি থেকে বের হতে দেখেছেন। এমনকি নানা নাকি সেসময় স্ত্রীর থেকে আলাদা থাকাও শুরু করেন।

তবে মনীষার সঙ্গে সম্পর্কে থাকার কিছুদিনের মধ্যে তাঁর উপর বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা শুরু করেন নানা। সেমসয় সহ অভিনেতাদের সঙ্গে মনীষাকে দেখলে বা খোলামেলা পোশাকে দেখলে নানা নাকি ভীষণ রেগে যেতেন। এসব কারণে বিভিন্ন সময় মনীষার সঙ্গে ঝগড়াও হয়েছে বলে শোনা যায়। এরই মাঝে একদিন অভিনেত্রী আয়েশা জুলকার ( Ayesha Jhulka ) সঙ্গে নানাকে তাঁর ঘরে হাতেনাতে ধরেছিলেন মনীষা। শোনা যায় সেসময় আয়েশার সঙ্গে নাকি ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ছিলেন নানা।

এই ঘটনায় তিনি ভেঙে পড়েন। নিজেকে প্রতারিত মনে হতে থাকে, মনীষা সেসময় আয়েশাকে গালিগালাজ করেন বলেও শোনা যায়। এই ঘটনার পর মনীষা নানাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। যদিও নানা সে প্রস্তাব খারিজ করে দেন। এরপরেই নাকি মনীষার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায় নানা পাটেকরের। এদিকে মনীষার সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পর পরই নানা আয়েশার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেন এবং আয়েশার সঙ্গে লিভ-ইন করা শুরু করেন।

আরও পড়ুন