ফোনে উপচে পড়ছে জঞ্জাল, অসহায় কন্ট্রোলরুম

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : এলাকার ফাঁকা জমি কিংবা বহুদিন ধরে অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকা বাড়ি অথবা জলাশয়ে জমছে জঞ্জাল। সেগুলি পরিষ্কার করতে চেয়ে নাগরিকের দরবার বাড়ছে কলকাতা পুরসভায়। ফোনে জেরবার কলকাতা পুরসভার কন্ট্রোল রুম। দীর্ঘদিন ধরে কোথাও জঞ্জাল, কোথাও আবার গাছগাছালি গজিয়ে বীভৎস চেহারা নিয়েছে।

মশা-মাছি থেকে পোকামাকড় কিংবা সাপের উপদ্রব। এনিয়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ভূরিভূরি অভিযোগ জমা পড়েছে কলকাতা পুরসভায়। চাপ সামলানো দায় হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যেই ‘টক টু কেএমসি’ অনুষ্ঠানে এই ধরনের অভিযোগ আসে। সম্প্রতি, কলকাতা পুরসভায় শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমন বেশ কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসেছে চিঠির পর চিঠি।

সূত্রের খবর, খিদিরপুর, বেলেঘাটা, বেহালা, গড়িয়া সহ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১০-১২টি এই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়ে পুরসভাকে চিঠি লিখেছেন নাগরিকেরা। তবে, এই সমস্যা মেটাতে কিছুটা প্রশাসনিক মারপ্যাঁচ রয়েছে বলেই জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তিতে অন্য কারও অভিযোগের ভিত্তিতে সরাসরি পরিষ্কারের কাজে নামতে পারে না কলকাতা পুরসভা।

বিশেষ করে সেটা যদি পাঁচিল ঘেরা হয়, তাহলে কিছু আইনি পদক্ষেপ নিতে হয়। অনেক সময় সেই আইনি পদক্ষেপের জটিলতাতেও এই সমস্ত কাজ আটকে পড়ে। কী সেই আইনি পদক্ষেপ? কলকাতা পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, প্রতিবছর এমন বহু অভিযোগ আসে। কিন্তু সেখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার নিদান আইনে নেই।

সেক্ষেত্রে প্রথমে নোটিস দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট ওই জমির মালিককে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি তিনি সেই জমি পরিষ্কার না করেন, তাহলে পুরসভা সেই ৪৯৬ ধারায় (কোথাও জমিতে বা জলাশয়ে অস্বাস্থ্যকর বা জীবনহানিকর পরিবেশ তৈরি করলে পদক্ষেপ) স্বতপ্রণোদিতভাবে ওই এলাকা পরিষ্কার করে পুরসভা। নিকাশি, উদ্যান বিভাগ কিংবা জঞ্জাল অপসারণ পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলি কাজ করে।

তারপর সেই খরচপাতি হিসেব পুর কমিশনার মারফৎ পাঠানো হয় কর ও রাজস্ব বিভাগে। এবং সেই খরচ সংশ্লিষ্ট জমির সম্পত্তি করে সঙ্গে যুক্ত করে মালিকের থেকে ফাইন নেওয়া হয়। প্রতি বছরেই কলকাতা পুরসভা এমন বহু অভিযোগ পায়। তবে করোনাকালে লকডাউনে এই ধরনের অভিযোগ চলতি অর্থবর্ষে সব থেকে বেশি এসেছে বলেই জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন