কলকাতায় ক্রমশ বাড়ছে ভুতুড়ে পার্ক

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : শ্রীহীন শহরের একাধিক পার্ক। লোকবল, অর্থের অভাবে আটকে পার্কের সংস্কার। করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় গত ২ সপ্তাহ ধরে বন্ধ পার্ক। বেড়েছে ঘাস, যত্রতত্র জমেছে গাছপালা। গতবছরের ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কায় এখনও অনেক পার্কে কোথাও গাছ পড়ে ভেঙেছে রেলিং, লাইট, কোথাও আবার পার্কের ভেতরে ভাঙ্গা গাছের গুড়ি পড়ে থেকে জমছে জল।

মশার উপদ্রব। শ্রী হারিয়েছে সাজানো-গোছানো উদ্যান। সন্ধ্যের পর পার্কের পাশ দিয়ে যেতেও অনেক সময় গা ছমছম করে। আলো নেই, নিকষ অন্ধকারে ছায়ামূর্তি ঘুরঘুর করে, এরা ভুত প্রেত নয়, পাতাখোর নামে পরিচিত। খোদ কলকাতা উদ্যান বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা কলকাতা প্রশাসক বোর্ডের অন্যতম সদস্য দেবাশিস কুমারের ত্রিধারা ক্লাবের অদূরে দুটি পার্কের বেহাল দশা।

দেশপ্রিয় পার্ক এবং শরৎ চ্যাটার্জি পার্ক। নানা জটিলতায় পার্ক সাফাইয়ের কাজ গতিহীন। শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ চিত্র সমান। শরৎ চ্যাটার্জি পার্কের বাইরে ডাই করে পড়ে রয়েছে ভাঙ্গা ডালপালার আবর্জনা। ভিতরে বেড়ে উঠেছে কোমর সমান ঘাস। রং ছুটেছে জং ধরা রেলিং, লোহার গেটে। বসার আসন ও বহু জায়গায় ভাঙ্গা, অপরিষ্কার।

ফলে, সেই অবস্থাতেই পার্ক খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রাতঃভ্রমণের জন্য ওয়াকওয়েটুকু পরিষ্কার করে মোটামুটি হাঁটার মতো করে দেওয়া হয়েছে। তেমনটাই জানাচ্ছেন পুর-উদ্যান বিভাগের কর্তারা। তাঁদের বক্তব্য, লোকের অভাবে এখনও অর্ধেক জায়গায় কাজ হয় নি।।তার ওপর অর্থের অভাব রয়েছে। যে কারণে একলপ্তে কাজ করানো যাচ্ছে না।

তার ওপর পার্কের সাফাই, ভাঙার রেলিং লাগানো, লাইট ঠিক সহ করা সবকিছু করতে গেলে প্রচুর টাকার প্রয়োজন। কিন্তু এখন যেমন টাকার সমস্যা রয়েছে, তেমনি ঠিকঠাক লোক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই কাজে গতি নেই। বাজেটে অর্থের সংস্থান হলে দ্রুত কাজ এগোবে।

দেবাসিশ কুমার বলেন, ধাপে ধাপে কাজ হচ্ছে। অনেক জায়গাতেই পার্ক পরিষ্কার করা হয়েছে। সব পার্ক আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। এখন পার্ক বন্ধ। আবার যখন খুলবে তার আগেই সব পরিষ্কার করে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন