আবাসনের কমিউনিটি হল এবার আইসলেশন সেন্টার, জারি নির্দেশিকা

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের চাপ সামলাতে এবার শহরের আবাসনগুলিকে নিজেদের ব্যবস্থা নিজেরা করার আর্জি জানালো কলকাতা পুরসভা।
বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে বেড অপ্রতুল। সেই চাপ আবাসন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে কলকাতা পুরসভার আর্জি, আবাসনের কমিউনিটি হলে হোক আইসোলেশন সেন্টার।

বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে সঙ্গে টাইআপ করে সেইসব আইসোলেশন সেন্টারেই করোনা আক্রান্ত অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা চলুক। বর্তমানে শহরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের কাছাকাছি আবাসনের বাসিন্দা। উল্টোডাঙা, মানিকতলা, হাতিবাগান, কাঁকুড়গাছি, পূর্ব কলকাতার কসবা, মুকুন্দপুর, যাদবপুর, ভবানীপুর, নিউ আলিপুর সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্তের একটা বড় অংশ বিভিন্ন বড় বড় কমপ্লেক্স বা ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকেন।

মূলত আবাসনের লিফট সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে মনে করছে চিকিৎসক মহল তথা পুর কর্তৃপক্ষ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কলকাতা পুরসভার কমিশনার বিনোদ কুমার একটি অ্যাডভাইজারি জারি করেছেন। সেখানে আবাসনগুলিকে কমিউনিটি হল আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে মানিকতলার এক বেসরকারি আবাসনের কমিটির তরফ থেকে সঞ্জয় কুমার গোয়েল জানিয়েছেন, সরকারকে সমস্ত রকম সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত। গত বছরও আমরা নিজেদের কমিউনিটি হলে আইসোলেশন সেন্টার বানিয়েছিলাম। আমাদের পরিকাঠামো আছে। কিন্তু, ভোটের কারণে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারি নি। পুর কমিশনারের চিঠি পেয়েছি। এবার কাজ করব।

করোনা ঢেউয়ের প্রথমপর্বে শহরের বিভিন্ন আবাসন কর্তৃপক্ষ নিজেদের কমিউনিটি হলগুলিকে আইসোলেশন সেন্টারে রূপান্তরিত করেছিল। বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে, আক্রান্তদের সেখানে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। ফলে সংক্রমণ কিছুটা হলেও আটকানো গিয়েছিল। সেভাবেই দ্বিতীয় পর্যায়ে যখন বাড়বাড়ন্ত অবস্থা, তখন একইভাবে নিজস্ব আইসোলেশন সেন্টার গড়ে আবাসনগুলিকে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে কলকাতা পুরসভা।

আরও পড়ুন